ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ইরান যুদ্ধের প্রভাব ও রাজনৈতিক হিসাব

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও প্রভাব ফেলছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই সংঘাতের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে সংঘাত সীমিত রাখার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে নির্বাচনের আগে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের উপদেষ্টারা চান, ইরান সংঘাত যেন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ না নেয়।

আগস্টের শেষের একটি জরিপে দেখা যায়, ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সমর্থন করছেন, যেখানে ৬৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করছেন। সংঘাতের কারণে ট্রাম্পের অনুমোদনের হারও কমে গেছে।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক অভিযানের পরিবর্তে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। আগস্টে ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সংঘাতকে যুদ্ধ হিসেবে না দেখানোর চেষ্টা করছেন, কারণ এটি নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পেট্রল বা ডিজেলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে। আগস্টে এক জরিপে ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

নভেম্বরের নির্বাচন কেবল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না, বরং ইরান যুদ্ধের পরবর্তী গতিপথও নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভোটের আগে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নাকি যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ইরান যুদ্ধের প্রভাব ও রাজনৈতিক হিসাব

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও প্রভাব ফেলছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই সংঘাতের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে সংঘাত সীমিত রাখার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে নির্বাচনের আগে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের উপদেষ্টারা চান, ইরান সংঘাত যেন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ না নেয়।

আগস্টের শেষের একটি জরিপে দেখা যায়, ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সমর্থন করছেন, যেখানে ৬৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করছেন। সংঘাতের কারণে ট্রাম্পের অনুমোদনের হারও কমে গেছে।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক অভিযানের পরিবর্তে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। আগস্টে ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সংঘাতকে যুদ্ধ হিসেবে না দেখানোর চেষ্টা করছেন, কারণ এটি নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পেট্রল বা ডিজেলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে। আগস্টে এক জরিপে ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

নভেম্বরের নির্বাচন কেবল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না, বরং ইরান যুদ্ধের পরবর্তী গতিপথও নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভোটের আগে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নাকি যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।