সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের চর সাচালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: নজরুল ইসলাম মল্লিককে বিদ্যালয় থেকে তুলে নিয়ে একটি চায়ের দোকানে আটক রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রধান শিক্ষক মো: নজরুল ইসলাম মল্লিক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকের ভাগিনা ইকবাল হাসানের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয় আমিনা খাতুনকে। পরবর্তীতে ইকবাল হাসান তার স্ত্রীকে তালাক দেন, যার পর আমিনা খাতুন আদালতে যৌতুক মামলা দায়ের করেন।
জামিন নেওয়ার পর থেকে আমিনা খাতুন ও তার আত্মীয়-স্বজন ইকবাল হাসানের উপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাকে মারপিটসহ প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে শহিদুল ইসলাম শহিদ নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে চাপ সৃষ্টি করেন। প্রধান শিক্ষক অস্বীকার করলে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে স্থানীয় চায়ের দোকানে আটক করা হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের ছোট ভাই জহুরুল ইসলামকে অবহিত করলে তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খান পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে রাত ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষককে মুক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম মল্লিক বিএনপি নেতাসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামীদের হুমকির কারণে প্রধান শিক্ষকের স্বাভাবিক চলাফেরা হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম শহিদ জানান, তিনি অসুস্থ এবং থানায় অভিযোগের বিষয়টি জানেন না।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, প্রধান শিক্ষককে আটক রাখা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে জানিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রতিনিধির নাম 
























