ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ায় নিহত আল মামুনের পরিবারের দুর্দশা, মরদেহের অপেক্ষায় স্ত্রী ও সন্তানরা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের নান্দাইলের খারুয়া গ্রামের আল মামুন রাশিয়ায় নিহত হয়েছেন। তিনি দেশে প্লাম্বিং ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি বিদেশে গিয়ে সন্তানদের জন্য একটি সচ্ছল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

মামুন রাশিয়ায় ইলেকট্রিশিয়ানের চাকরির আশ্বাসে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা খরচ করে দেশ ছাড়েন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাকে রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তিতে সই করিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় তার মৃত্যুর খবর পেয়েছে পরিবার।

মামুনের পরিবার জানায়, তার মৃত্যুর সঠিক সময় ও স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। তারা মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রতারণার মাধ্যমে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মামুনের স্ত্রী মহিমা আক্তার জানান, তার স্বামী যুদ্ধ করার জন্য বিদেশে যাননি। তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, তবে সর্বশেষ ১৯ আগস্টের পর আর যোগাযোগ হয়নি। মহিমা বলেন, “আমার দুইটা সন্তান। স্বামীই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। এখন আমি কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না।”

মামুনের মা রোকেয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার একমাত্র ছেলে বিদেশ গেছিল নিজের ভাগ্য বদলানোর জন্য। এখন ছেলেই নাই। নাতি-নাতনিদের কীভাবে বড় করব; জানি না।”

স্থানীয় ইউএনও ফাতেমা জান্নাত জানান, মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার মৌখিকভাবে জানিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়াধীন করতে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে সরকারি সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ায় নিহত আল মামুনের পরিবারের দুর্দশা, মরদেহের অপেক্ষায় স্ত্রী ও সন্তানরা

আপডেট সময় : ০১:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহের নান্দাইলের খারুয়া গ্রামের আল মামুন রাশিয়ায় নিহত হয়েছেন। তিনি দেশে প্লাম্বিং ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি বিদেশে গিয়ে সন্তানদের জন্য একটি সচ্ছল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

মামুন রাশিয়ায় ইলেকট্রিশিয়ানের চাকরির আশ্বাসে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা খরচ করে দেশ ছাড়েন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাকে রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তিতে সই করিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় তার মৃত্যুর খবর পেয়েছে পরিবার।

মামুনের পরিবার জানায়, তার মৃত্যুর সঠিক সময় ও স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। তারা মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রতারণার মাধ্যমে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মামুনের স্ত্রী মহিমা আক্তার জানান, তার স্বামী যুদ্ধ করার জন্য বিদেশে যাননি। তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, তবে সর্বশেষ ১৯ আগস্টের পর আর যোগাযোগ হয়নি। মহিমা বলেন, “আমার দুইটা সন্তান। স্বামীই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। এখন আমি কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না।”

মামুনের মা রোকেয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার একমাত্র ছেলে বিদেশ গেছিল নিজের ভাগ্য বদলানোর জন্য। এখন ছেলেই নাই। নাতি-নাতনিদের কীভাবে বড় করব; জানি না।”

স্থানীয় ইউএনও ফাতেমা জান্নাত জানান, মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার মৌখিকভাবে জানিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়াধীন করতে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে সরকারি সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।