ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

বাবা ও সৎমায়ের নির্যাতনে কলেজ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

  • Meghla
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ নার্সিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বাবা ও সৎমায়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গলায় ওড়না ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত ইভা আক্তার (২২) নামের ওই কলেজ শিক্ষার্থী সদর উপজেলার কাটিগ্রাম ইমামনগর গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের মেয়ে।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর নিজ বসতঘরে গলায় ওড়না ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ ও ভুক্তভোগীপরিবার সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইসরাফিল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সদর থানা পুলিশ হেফাজতে আটক রাখা হয়েছে।

নিহত ইভা আক্তারের ছোট ভাই শুভ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবা ইসরাফিল হোসেন সাত-আট মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই সে আমার মা, বোন এবং আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছে। ঈদের দিন আমার বাবা তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর আমার বাবা তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে মা ডাকার জন্য আমাকে এবং আমার বোনকে চাপ দিতে থাকে। কিন্ত আমার বোন মা ডাকতে অস্বীকৃতি জানালে আমার বাবা ও সৎমা দুজনে মিলে আমার বোনকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আমার বোনের চরিত্র নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে আমাকে এবং আমার বোনকে ঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর আমাদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত না চাইলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

শুভ আহমেদ আরও বলেন, আমার বাবা এবং সৎমায়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার বোন সন্ধ্যার পর নিজের রুমে গলায় ওড়না ঝুলিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি। এর পর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য শাবলু মিয়া বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ওই মেয়েটির মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই তার বাবা ও চাচা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেসময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিহতের বাবা ইসরাফিল হোসেনকে সদর থানা পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে মেয়েটির চাচা চান্দু মোল্লা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। মেয়েটির দাদি খোদেজা বেগমও পালিয়ে গেছেন বলে শুনেছি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এসএম আমান উল্লাহ বলেন, শুনেছি পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে আটক রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বাবা ও সৎমায়ের নির্যাতনে কলেজ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

মানিকগঞ্জ নার্সিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বাবা ও সৎমায়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গলায় ওড়না ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত ইভা আক্তার (২২) নামের ওই কলেজ শিক্ষার্থী সদর উপজেলার কাটিগ্রাম ইমামনগর গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের মেয়ে।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর নিজ বসতঘরে গলায় ওড়না ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ ও ভুক্তভোগীপরিবার সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইসরাফিল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সদর থানা পুলিশ হেফাজতে আটক রাখা হয়েছে।

নিহত ইভা আক্তারের ছোট ভাই শুভ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবা ইসরাফিল হোসেন সাত-আট মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই সে আমার মা, বোন এবং আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছে। ঈদের দিন আমার বাবা তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর আমার বাবা তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে মা ডাকার জন্য আমাকে এবং আমার বোনকে চাপ দিতে থাকে। কিন্ত আমার বোন মা ডাকতে অস্বীকৃতি জানালে আমার বাবা ও সৎমা দুজনে মিলে আমার বোনকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আমার বোনের চরিত্র নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে আমাকে এবং আমার বোনকে ঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর আমাদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত না চাইলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

শুভ আহমেদ আরও বলেন, আমার বাবা এবং সৎমায়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার বোন সন্ধ্যার পর নিজের রুমে গলায় ওড়না ঝুলিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি। এর পর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য শাবলু মিয়া বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ওই মেয়েটির মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই তার বাবা ও চাচা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেসময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিহতের বাবা ইসরাফিল হোসেনকে সদর থানা পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে মেয়েটির চাচা চান্দু মোল্লা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। মেয়েটির দাদি খোদেজা বেগমও পালিয়ে গেছেন বলে শুনেছি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এসএম আমান উল্লাহ বলেন, শুনেছি পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে আটক রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।