ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

অপরাধী শনাক্তে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার বেশির ভাগই অচল

  • Meghla
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
  • ১০৩ বার পড়া হয়েছে

ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও চুরির মতো ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্তে নোয়াখালী পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয় ১০২টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার বেশির ভাগই ভাঙচুরসহ নানা কারণে অচল হয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কারণে পৌর শহরে অপরাধ কমে এসেছিল। তবে এখন সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট হয়ে পড়ায় আবারও অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন শহরের মোহাম্মদীয়া মোড়, সুধারাম থানার সামনে, হাসপাতাল সড়ক, মাইজদী বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ড, টাউন হল মোড়, জেলা জামে মসজিদ মোড়, পৌর বাজার, বিশ্বনাথ ও মফিজ প্লাজা, স্টেডিয়াম পাড়া, নাপিতের পোলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা হয়। এসব এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর বেশির ভাগই ভাঙা কিংবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এসব ক্যামেরা এখন আর তেমন কোনো কাজেই আসছে না।

আশপাশের এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, ২০২২ সালে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। গত বছর জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলার সময় অন্তত এক-তৃতীয়াংশ ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়াও নানা কারণে অকেজো হয়ে পড়ে বেশ কিছু ক্যামেরা। ভেঙে ফেলা কিংবা অকেজো হয়ে পড়া ক্যামেরাগুলো আর সচল করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জেলা পুলিশ ও সুধারাম থানা সূত্রে জানা গেছে, শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে জেলা পুলিশের উদ্যোগে রাজনৈতিক দলের নেতা, শহরের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এসব ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণকক্ষ ছিল সুধারাম মডেল থানায়। একজন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরায় নজর রাখতেন। এতে শহরে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকটাই কমে আসে।

শহরের টাউন হল মোড় এলাকার ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার কারণে অপরাধীরা আগে আতঙ্কের মধ্যে থাকতেন। এখন ক্যামেরা নষ্ট হওয়ায় সেই ভয় তাদের আর নেই। পুনরায় এসব ক্যামেরা সচল করতে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

শহরের মাইজদী বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, কেবল চুরি-ছিনতাই নয় নারী ও স্কুলগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনাও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কারণে কমে এসেছিল। এখন আবার নতুন করে শহরে চুরি-ছিনতাইসহ নানা ঘটনা ঘটছে।

নোয়াখালী শহর বণিক সমিতির সভাপতি এ কে এম সাইফ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, শহরকে নিরাপদ করার জন্য পুনরায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো প্রয়োজন। এতে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যও ভালোভাবে চলবে। কেনাকাটা করতে এসে কাউকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হবে না।

জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লা আল ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অচল সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। অচল ক্যামেরা সচল করে আগের মতো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকির ব্যবস্থা করা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

অপরাধী শনাক্তে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার বেশির ভাগই অচল

আপডেট সময় : ১২:৩২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও চুরির মতো ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্তে নোয়াখালী পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয় ১০২টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার বেশির ভাগই ভাঙচুরসহ নানা কারণে অচল হয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কারণে পৌর শহরে অপরাধ কমে এসেছিল। তবে এখন সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট হয়ে পড়ায় আবারও অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন শহরের মোহাম্মদীয়া মোড়, সুধারাম থানার সামনে, হাসপাতাল সড়ক, মাইজদী বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ড, টাউন হল মোড়, জেলা জামে মসজিদ মোড়, পৌর বাজার, বিশ্বনাথ ও মফিজ প্লাজা, স্টেডিয়াম পাড়া, নাপিতের পোলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা হয়। এসব এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর বেশির ভাগই ভাঙা কিংবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এসব ক্যামেরা এখন আর তেমন কোনো কাজেই আসছে না।

আশপাশের এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, ২০২২ সালে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। গত বছর জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলার সময় অন্তত এক-তৃতীয়াংশ ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়াও নানা কারণে অকেজো হয়ে পড়ে বেশ কিছু ক্যামেরা। ভেঙে ফেলা কিংবা অকেজো হয়ে পড়া ক্যামেরাগুলো আর সচল করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জেলা পুলিশ ও সুধারাম থানা সূত্রে জানা গেছে, শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে জেলা পুলিশের উদ্যোগে রাজনৈতিক দলের নেতা, শহরের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এসব ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণকক্ষ ছিল সুধারাম মডেল থানায়। একজন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরায় নজর রাখতেন। এতে শহরে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকটাই কমে আসে।

শহরের টাউন হল মোড় এলাকার ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার কারণে অপরাধীরা আগে আতঙ্কের মধ্যে থাকতেন। এখন ক্যামেরা নষ্ট হওয়ায় সেই ভয় তাদের আর নেই। পুনরায় এসব ক্যামেরা সচল করতে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

শহরের মাইজদী বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, কেবল চুরি-ছিনতাই নয় নারী ও স্কুলগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনাও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কারণে কমে এসেছিল। এখন আবার নতুন করে শহরে চুরি-ছিনতাইসহ নানা ঘটনা ঘটছে।

নোয়াখালী শহর বণিক সমিতির সভাপতি এ কে এম সাইফ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, শহরকে নিরাপদ করার জন্য পুনরায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো প্রয়োজন। এতে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যও ভালোভাবে চলবে। কেনাকাটা করতে এসে কাউকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হবে না।

জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লা আল ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অচল সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। অচল ক্যামেরা সচল করে আগের মতো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকির ব্যবস্থা করা হবে।