ঢাকা ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ব্যাংক লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু

সিলেট নগরীর টনে টনে বর্জ্য যাচ্ছে সুরমায় আবর্জনার স্তূপে নদী এখন মৃতপ্রায়

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

সিলেট নগরীর টনে টনে বর্জ্য যাচ্ছে সুরমায় আবর্জনার স্তূপে নদী এখন মৃতপ্রায়

সিলেট নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন টন টন বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে সুরমা নদীতে। বলতে গেলে, সুরমা এখন অঘোষিত ডাম্পিং সাইট। অথচ এক সময় স্বচ্ছ জলের কলকল ধ্বনিতে মুখরিত থাকত নদীটি। সেই চিরচেনা সুরমা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্ষায় ময়লা-আবর্জনা ভেসে ওঠে, আর শুষ্ক মৌসুমে দৃশ্যমান হয় পলিথিনের স্তর। নদীর কাছে গেলেই নাকে রুমাল চাপতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, নাব্য কমে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে নদীটি স্থবির রূপ ধারণ করেছে। স্থানে স্থানে জেগেছে চর। যে নদী একসময় নৌ-বাণিজ্যের প্রধান পথ ছিল, সেটি এখন হেঁটেই পার হচ্ছেন লোকজন। অথচ এক সময় সুরমার যৌবনা রূপ দেখতে সিলেটে ছুটে আসতেন দেশ-বিদেশের মানুষ। এর তীরে বসে স্বজনদের নিয়ে চলত গল্প, আড্ডা আর গানের আসর। সেই সুরমা আজ ময়লা-আবর্জনার স্তূপে মৃতপ্রায়। নদীর পারে অন্তত ৫০টি স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে। নদীর মাঝ অবধি ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধময় বর্জ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এ কোনো নদী নয়, ময়লার ভাগাড়।

NEWS21
NEWS21

সরেজমিন দেখা যায়, পচা সবজি ও গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনা স্তূপ হয়ে আছে নদীর পারে। এসব স্তূপে প্লাস্টিকের খালি বোতল থেকে শুরু করে পলিথিন, নারকেল ও সুপারির বাকল, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য, পরিত্যক্ত বস্তা, চিপসের খালি প্যাকেটসহ বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্যে ভরে আছে। আর সেই ময়লার স্তূপের পাশেই দুর্গন্ধের মধ্যেই গোসল করতেও দেখা গেছে লোকজনকে।

সিলেট নগরীর ৯টি স্থানে আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে। এর মধ্যে আছে তোপখানাঘাট, মেন্দিবাগ এলাকার মাছিমপুর ঘাট, কালীঘাট, ঝালোপাড়া, কদমতলী, চাঁদনীঘাট, কাজীরবাজার, শেখঘাট ও কানিশাইল ঘাট। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কালীঘাট ও কাজীরবাজার এলাকায়। এ দুটি এলাকায় শৌচাগারের ময়লা সরাসরি নদীতে এসে পড়ছে। শেখঘাট ও কদমতলী ঘাটে প্রকাশ্যে ময়লা ফেলা হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, নদীর শহর অংশে হাজার হাজার টন পলিথিন বর্জ্য ইতোমধ্যে নদীর তলদেশে জমে গেছে। কোনো কোনো স্থানে তলদেশে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলিথিনের স্তর।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘বাচাও’-এর প্রধান নির্বাহী তাইনুল ইসলাম আসলাম বলেন, ‘এ সুরমার পাশে বড় হয়েছি। সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে সবই ছিল সুরমাকেন্দ্রিক। এখন নদীকে যেন বর্জ্য ফেলার ভাগাড় বাননো হয়েছে।’

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ

সিলেট নগরীর টনে টনে বর্জ্য যাচ্ছে সুরমায় আবর্জনার স্তূপে নদী এখন মৃতপ্রায়

আপডেট সময় : ০৪:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেট নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন টন টন বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে সুরমা নদীতে। বলতে গেলে, সুরমা এখন অঘোষিত ডাম্পিং সাইট। অথচ এক সময় স্বচ্ছ জলের কলকল ধ্বনিতে মুখরিত থাকত নদীটি। সেই চিরচেনা সুরমা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্ষায় ময়লা-আবর্জনা ভেসে ওঠে, আর শুষ্ক মৌসুমে দৃশ্যমান হয় পলিথিনের স্তর। নদীর কাছে গেলেই নাকে রুমাল চাপতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, নাব্য কমে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে নদীটি স্থবির রূপ ধারণ করেছে। স্থানে স্থানে জেগেছে চর। যে নদী একসময় নৌ-বাণিজ্যের প্রধান পথ ছিল, সেটি এখন হেঁটেই পার হচ্ছেন লোকজন। অথচ এক সময় সুরমার যৌবনা রূপ দেখতে সিলেটে ছুটে আসতেন দেশ-বিদেশের মানুষ। এর তীরে বসে স্বজনদের নিয়ে চলত গল্প, আড্ডা আর গানের আসর। সেই সুরমা আজ ময়লা-আবর্জনার স্তূপে মৃতপ্রায়। নদীর পারে অন্তত ৫০টি স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে। নদীর মাঝ অবধি ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধময় বর্জ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এ কোনো নদী নয়, ময়লার ভাগাড়।

NEWS21
NEWS21

সরেজমিন দেখা যায়, পচা সবজি ও গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনা স্তূপ হয়ে আছে নদীর পারে। এসব স্তূপে প্লাস্টিকের খালি বোতল থেকে শুরু করে পলিথিন, নারকেল ও সুপারির বাকল, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য, পরিত্যক্ত বস্তা, চিপসের খালি প্যাকেটসহ বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্যে ভরে আছে। আর সেই ময়লার স্তূপের পাশেই দুর্গন্ধের মধ্যেই গোসল করতেও দেখা গেছে লোকজনকে।

সিলেট নগরীর ৯টি স্থানে আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে। এর মধ্যে আছে তোপখানাঘাট, মেন্দিবাগ এলাকার মাছিমপুর ঘাট, কালীঘাট, ঝালোপাড়া, কদমতলী, চাঁদনীঘাট, কাজীরবাজার, শেখঘাট ও কানিশাইল ঘাট। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কালীঘাট ও কাজীরবাজার এলাকায়। এ দুটি এলাকায় শৌচাগারের ময়লা সরাসরি নদীতে এসে পড়ছে। শেখঘাট ও কদমতলী ঘাটে প্রকাশ্যে ময়লা ফেলা হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, নদীর শহর অংশে হাজার হাজার টন পলিথিন বর্জ্য ইতোমধ্যে নদীর তলদেশে জমে গেছে। কোনো কোনো স্থানে তলদেশে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলিথিনের স্তর।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘বাচাও’-এর প্রধান নির্বাহী তাইনুল ইসলাম আসলাম বলেন, ‘এ সুরমার পাশে বড় হয়েছি। সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে সবই ছিল সুরমাকেন্দ্রিক। এখন নদীকে যেন বর্জ্য ফেলার ভাগাড় বাননো হয়েছে।’