ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ব্যাংক লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু

পাখিপ্রেমীর উদ্যোগে পাবনার প্রকৃতিতে মুক্তি পেল আটটি পাতিসরালি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৩৩ বার পড়া হয়েছে

পাখিপ্রেমীর উদ্যোগে পাবনার প্রকৃতিতে মুক্তি পেল আটটি পাতিসরালি

এক মুরগি বিক্রেতা আটটি পাতিসরালি পাখি নিয়ে ঘুরছিলেন শহরে। ইচ্ছা ছিল, উচ্চ মূল্যে বিক্রি করবেন। এর মধ্যে বিষয়টি নজরে পড়ে একজন পাখিপ্রেমীর। তিনি বিক্রেতাকে সামলাতে না পেরে আড়াই হাজার টাকায় পাখিগুলো কিনে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেন।

বুধবার দুপুরে পাবনা জেলা শহরের সোনাপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পাখিগুলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাখিগুলোর কয়েকটি মুক্ত লেকে খেলতে শুরু করে। কয়েকটি আবার উড়ে যায় আকাশে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা একটার দিকে মুরগির সঙ্গে আটটি পাতিসরালি পাখি নিয়ে ঘুরছিলেন এক বিক্রেতা। সোনাপট্টি এলাকায় গেলে বিষয়টি নজরে পড়ে নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সভাপতি এহসান আলী বিশ্বাসের। পাখিগুলো তখনো ব্যাগের মধ্যে বন্দী ছিল। এহসান বিশ্বাস বিষয়টি দেখে বিক্রেতাকে পাখিগুলো ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু বিক্রেতা কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। পরে তিনি আড়াই হাজার টাকায় পাখিগুলো কিনে নেন। দুর্বল হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে পাখিগুলো নিয়ে বেলা তিনটার দিকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

NEW21
NEW21

এ সময় নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ, পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, শীতের শুরুতেই পাবনার বিল ও নদী অঞ্চলে প্রচুর পাখির আনাগোনা বাড়ে। এ সুযোগে একশ্রেণির অসাধু পাখিশিকারি প্রতিদিন পাখি শিকার করে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। এটা খুবই দুঃখজনক।

মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, পাখিগুলো বেশ দুর্বল ছিল। বাইরে ছেড়ে দিলে আবার শিকারির কবলে পড়তে পারত। তাই তাঁরা পাখিগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে ছেড়েছেন। পাখিগুলো খোলা পরিবেশ ও লেকের পানি পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে।

এহসান আলী বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমরা পাখি শিকার বন্ধের দাবি জানাই। সেই সঙ্গে প্রশাসনসহ সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান করছি।’

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ

পাখিপ্রেমীর উদ্যোগে পাবনার প্রকৃতিতে মুক্তি পেল আটটি পাতিসরালি

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

এক মুরগি বিক্রেতা আটটি পাতিসরালি পাখি নিয়ে ঘুরছিলেন শহরে। ইচ্ছা ছিল, উচ্চ মূল্যে বিক্রি করবেন। এর মধ্যে বিষয়টি নজরে পড়ে একজন পাখিপ্রেমীর। তিনি বিক্রেতাকে সামলাতে না পেরে আড়াই হাজার টাকায় পাখিগুলো কিনে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেন।

বুধবার দুপুরে পাবনা জেলা শহরের সোনাপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পাখিগুলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাখিগুলোর কয়েকটি মুক্ত লেকে খেলতে শুরু করে। কয়েকটি আবার উড়ে যায় আকাশে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা একটার দিকে মুরগির সঙ্গে আটটি পাতিসরালি পাখি নিয়ে ঘুরছিলেন এক বিক্রেতা। সোনাপট্টি এলাকায় গেলে বিষয়টি নজরে পড়ে নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সভাপতি এহসান আলী বিশ্বাসের। পাখিগুলো তখনো ব্যাগের মধ্যে বন্দী ছিল। এহসান বিশ্বাস বিষয়টি দেখে বিক্রেতাকে পাখিগুলো ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু বিক্রেতা কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। পরে তিনি আড়াই হাজার টাকায় পাখিগুলো কিনে নেন। দুর্বল হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে পাখিগুলো নিয়ে বেলা তিনটার দিকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

NEW21
NEW21

এ সময় নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ, পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, শীতের শুরুতেই পাবনার বিল ও নদী অঞ্চলে প্রচুর পাখির আনাগোনা বাড়ে। এ সুযোগে একশ্রেণির অসাধু পাখিশিকারি প্রতিদিন পাখি শিকার করে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। এটা খুবই দুঃখজনক।

মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, পাখিগুলো বেশ দুর্বল ছিল। বাইরে ছেড়ে দিলে আবার শিকারির কবলে পড়তে পারত। তাই তাঁরা পাখিগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে ছেড়েছেন। পাখিগুলো খোলা পরিবেশ ও লেকের পানি পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে।

এহসান আলী বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমরা পাখি শিকার বন্ধের দাবি জানাই। সেই সঙ্গে প্রশাসনসহ সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান করছি।’