ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই: সারজিস আলম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির জন্য স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ার আহ্বান জাতিসংঘের ডেপুটি স্পিকারের আস্তে কথা বলার পরামর্শ ধর্মমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে ইরানে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে পেন্টাগনের অস্বীকৃতি বিশ্ব রেডিওথেরাপি সচেতনতা দিবসে ডেল্টা হাসপাতালে র‌্যালি ও আলোচনা সভা কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে কিশোরগঞ্জে ডিসিকে স্মারকলিপি প্রদান নীলফামারীতে তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন: পুলিশ ও জামায়াত নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মসনদ প্রদান: প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরখাস্ত সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন আইন প্রত্যাহারের দাবি জানালেন গোলাম পরওয়ার গাজী নজরুলকে নিয়ে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিতর্ক

নীলফামারীতে তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন: পুলিশ ও জামায়াত নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর ভূগর্ভস্থ অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের সাথে জড়িত অভিযোগ রয়েছে টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের জামায়াত নেতা জিয়ারুল হক এবং তেলীবাজারের প্রভাবশালী মানিক মিয়ার। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিমলা নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে নিয়মিত ঘুষ দিয়ে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় পাথর উত্তোলনকারী ও ব্যবসায়ীদের দাবি, নদী থেকে পাথর তুলতে হলে প্রতি ১০ দিন পর নৌ পুলিশকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে হয়রানি ও মিথ্যে মামলার শিকার হতে হয়। মতির বাজারের ট্রাক্টর মালিক সাঈদ আলী বলেন, “নৌ পুলিশ বিনা কারণে আমার ট্রাক্টর আটকে রাখে। পরে ৬ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে তা ছাড়িয়ে আনতে বাধ্য হই।”

অভিযুক্ত মানিক মিয়া তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি কেবল একটি নৌকার মালিক। তবে তিনি স্বীকার করেন, নৌ পুলিশের সাথে জিয়ারুল হকসহ অন্যদের সাক্ষাৎ করার কথা তিনি জানেন। অন্যদিকে, জামায়াত নেতা জিয়ারুল হক প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং পাথর উত্তোলনকারীদের নির্দেশ দেন সংবাদ প্রকাশে বাধা দিতে।

গত ২৪ আগস্ট ডিমলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শামীম, জামায়াত নেতা জিয়ারুল ও মানিককে নিয়ে এক রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতে দেখা যায়। সেখানে জিয়ারুল হক এএসআই শামীমের হাতে ঘুষের টাকা তুলে দেন। ২৬ আগস্ট প্রতিবেদক ছদ্মবেশে নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে এসআই স্বপন কুমার সরকার ও এএসআই শামীম ১০ হাজার টাকা অগ্রিম চাঁদা দাবি করেন।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশের সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, অভিযোগের গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই: সারজিস আলম

নীলফামারীতে তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন: পুলিশ ও জামায়াত নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর ভূগর্ভস্থ অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের সাথে জড়িত অভিযোগ রয়েছে টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের জামায়াত নেতা জিয়ারুল হক এবং তেলীবাজারের প্রভাবশালী মানিক মিয়ার। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিমলা নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে নিয়মিত ঘুষ দিয়ে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় পাথর উত্তোলনকারী ও ব্যবসায়ীদের দাবি, নদী থেকে পাথর তুলতে হলে প্রতি ১০ দিন পর নৌ পুলিশকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে হয়রানি ও মিথ্যে মামলার শিকার হতে হয়। মতির বাজারের ট্রাক্টর মালিক সাঈদ আলী বলেন, “নৌ পুলিশ বিনা কারণে আমার ট্রাক্টর আটকে রাখে। পরে ৬ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে তা ছাড়িয়ে আনতে বাধ্য হই।”

অভিযুক্ত মানিক মিয়া তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি কেবল একটি নৌকার মালিক। তবে তিনি স্বীকার করেন, নৌ পুলিশের সাথে জিয়ারুল হকসহ অন্যদের সাক্ষাৎ করার কথা তিনি জানেন। অন্যদিকে, জামায়াত নেতা জিয়ারুল হক প্রতিবেদকের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং পাথর উত্তোলনকারীদের নির্দেশ দেন সংবাদ প্রকাশে বাধা দিতে।

গত ২৪ আগস্ট ডিমলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শামীম, জামায়াত নেতা জিয়ারুল ও মানিককে নিয়ে এক রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতে দেখা যায়। সেখানে জিয়ারুল হক এএসআই শামীমের হাতে ঘুষের টাকা তুলে দেন। ২৬ আগস্ট প্রতিবেদক ছদ্মবেশে নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে এসআই স্বপন কুমার সরকার ও এএসআই শামীম ১০ হাজার টাকা অগ্রিম চাঁদা দাবি করেন।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশের সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, অভিযোগের গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।