ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ব্যাংক লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু

কোটালীপাড়ায় বিধ্বস্ত সড়ক সংস্কার করলো এলাকাবাসী

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় খানাখন্দে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী একটি সড়ক সংস্কার করছে এলাকাবাসী।

উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের বড় দক্ষিণপাড় কলাভিটা ব্রিজ থেকে দক্ষিনপাড় কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত ৬০০ মিটার কার্পেটিং সড়ক এলাকাবাসীর অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করা হয়।
এলাকাবাসীর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সচেতনমহল। তবে অতিদ্রুত এ রাস্তাটি পুরোপুরি সংষ্কারের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন স্থানীয়রা।
জানাগেছে, ২০০৯ সালে এলজিইডি ৬০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটি কার্পেটিং করে। এরপর ১৬ বছর পেরোলেও কোন সংস্কারের ‍উদ্যোগ নেয়নি। বড় বড় গর্ত এবং খানাখন্দে একাকার হয়ে গেছে। এর মধ্যে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে আরও খারাপ হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি।
এদিকে ৪৮ নং বড় দক্ষিণ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড় দক্ষিণ পাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বড় দক্ষিণ পাড়া নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা, বড় দক্ষিণ পাড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান, বড় দক্ষিণ পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ও বড় দক্ষিণ পাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। এছাড়াও গ্রামের বাসিন্দাদের উপজেলায় যাতায়াতের জন্য কোটালীপাড়া-শুয়াগ্রাম সড়কের সংযোগ সড়ক এটি।
গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আজিজ শেখ বলেন, মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এলাকার যুবসমাজ এগিয়ে আসে সড়কটির আপদকালীন সংস্কারে। এলাকাবাসীর পাশাপাশি ঢাকায় ও প্রবাসে থাকা গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। আমরা আজ সকাল থেকে ইটের খোয়া, সিমেন্ট ও বালু দিয়ে রাস্তায় ভাঙ্গা জায়গাগুলোতে ঢালাই দিয়ে অস্থায়ীভাবে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে তুলছি। এই কাজে আমার সাথে গ্রামের যুব সমাজের আবু জাফর শেখ, তরিকুল ইসলাম অপু, সাকিব ইসলাম তপু, জসিম শেখ, অহিদুল সেখ, কাইয়ুম শেখ, লুৎফর মোল্লা, মিতুল শেখ, জুয়েল মোল্লা, মারুফ শেখ, মামুন শেখসহ আরো কয়েকজন অংশ নিয়েছে।
প্রবাসী সাকিব ইসলাম তপু বলেন, দেশে এসে দেখি সড়কটির অবস্থা খুবই করুণ। তাই আমরা সবাই মিলে এটিকে চলাচলযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছি।
গ্রামের বাসিন্দা ও খামারী আবু জাফর শেখ বলেন, বড় দক্ষিণপাড়া গ্রামের সব সমস্যা আমরা একসাথে সমাধান করার চেষ্টা করি। সড়ক সংস্কারের এই উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা।
ঢাকায় বসবাসরত রিয়েল এস্টেট কোম্পানি প্রেসিডেন্ট প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোটালীপাড়া কল্যাণ সংঘের সভাপতি সোহেল শেখ বলেন, এলাকার যুবসমাজ ও প্রবাসীদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই সড়কের সাথে গ্রামের ছয়টি সরকারি, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরাসরি যুক্ত। তাই সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাই এই সড়কটি প্রশস্ত করে পাকা করার। এতে হাজারো মানুষ উপকৃত হবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুদৃষ্টি এলাকার হাজারো মানুষের এই কষ্ট লাঘবে ভূমিকা রাখবে।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম বিল্লাহ বলেন, সড়কটি মেরামতে এলাকাবাসী যেভাবে এগিয়ে এসেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সড়কটির স্থায়ী মেরামতের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ

কোটালীপাড়ায় বিধ্বস্ত সড়ক সংস্কার করলো এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ১০:০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় খানাখন্দে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী একটি সড়ক সংস্কার করছে এলাকাবাসী।

উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের বড় দক্ষিণপাড় কলাভিটা ব্রিজ থেকে দক্ষিনপাড় কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত ৬০০ মিটার কার্পেটিং সড়ক এলাকাবাসীর অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করা হয়।
এলাকাবাসীর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সচেতনমহল। তবে অতিদ্রুত এ রাস্তাটি পুরোপুরি সংষ্কারের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন স্থানীয়রা।
জানাগেছে, ২০০৯ সালে এলজিইডি ৬০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটি কার্পেটিং করে। এরপর ১৬ বছর পেরোলেও কোন সংস্কারের ‍উদ্যোগ নেয়নি। বড় বড় গর্ত এবং খানাখন্দে একাকার হয়ে গেছে। এর মধ্যে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে আরও খারাপ হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি।
এদিকে ৪৮ নং বড় দক্ষিণ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড় দক্ষিণ পাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বড় দক্ষিণ পাড়া নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা, বড় দক্ষিণ পাড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান, বড় দক্ষিণ পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ও বড় দক্ষিণ পাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। এছাড়াও গ্রামের বাসিন্দাদের উপজেলায় যাতায়াতের জন্য কোটালীপাড়া-শুয়াগ্রাম সড়কের সংযোগ সড়ক এটি।
গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আজিজ শেখ বলেন, মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এলাকার যুবসমাজ এগিয়ে আসে সড়কটির আপদকালীন সংস্কারে। এলাকাবাসীর পাশাপাশি ঢাকায় ও প্রবাসে থাকা গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। আমরা আজ সকাল থেকে ইটের খোয়া, সিমেন্ট ও বালু দিয়ে রাস্তায় ভাঙ্গা জায়গাগুলোতে ঢালাই দিয়ে অস্থায়ীভাবে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে তুলছি। এই কাজে আমার সাথে গ্রামের যুব সমাজের আবু জাফর শেখ, তরিকুল ইসলাম অপু, সাকিব ইসলাম তপু, জসিম শেখ, অহিদুল সেখ, কাইয়ুম শেখ, লুৎফর মোল্লা, মিতুল শেখ, জুয়েল মোল্লা, মারুফ শেখ, মামুন শেখসহ আরো কয়েকজন অংশ নিয়েছে।
প্রবাসী সাকিব ইসলাম তপু বলেন, দেশে এসে দেখি সড়কটির অবস্থা খুবই করুণ। তাই আমরা সবাই মিলে এটিকে চলাচলযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছি।
গ্রামের বাসিন্দা ও খামারী আবু জাফর শেখ বলেন, বড় দক্ষিণপাড়া গ্রামের সব সমস্যা আমরা একসাথে সমাধান করার চেষ্টা করি। সড়ক সংস্কারের এই উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা।
ঢাকায় বসবাসরত রিয়েল এস্টেট কোম্পানি প্রেসিডেন্ট প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোটালীপাড়া কল্যাণ সংঘের সভাপতি সোহেল শেখ বলেন, এলাকার যুবসমাজ ও প্রবাসীদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই সড়কের সাথে গ্রামের ছয়টি সরকারি, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরাসরি যুক্ত। তাই সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাই এই সড়কটি প্রশস্ত করে পাকা করার। এতে হাজারো মানুষ উপকৃত হবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুদৃষ্টি এলাকার হাজারো মানুষের এই কষ্ট লাঘবে ভূমিকা রাখবে।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম বিল্লাহ বলেন, সড়কটি মেরামতে এলাকাবাসী যেভাবে এগিয়ে এসেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সড়কটির স্থায়ী মেরামতের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে।