শিরোনাম
সাংবাদিক রিজুর ওপর হামলার প্রতিবাদে খোকসায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অটোভ্যানের সঙ্গে হাইজের সংঘর্ষে ভ্যানচালক নিহত সিরাজদীখানে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আহত ৩ ফেনীতে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে প’র’কীয়ার সন্দেহে হাতে ছোট ভাই খু’ন শত্রু বেড়েছে শাকিব খানের, নিরাপত্তা চায় ভক্তরা! প্রথম স্ত্রীর চাপে পড়ে মিডিয়ার সামনে নাটক সাজান সেই ইফাত মাকে নিয়ে দেশ ছেড়েছেন হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি, রাতে হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া সিরাজদিখানে কলেজ ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ঝিনাইদহ রেড জোন ঘোষণা রাসেলস ভাইপার সাপের কারণে এই ছাগল আমার লাইফ ধ্বংস করে দিয়েছে বউয়ের মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান কারাগারে মেয়েরা চাকরি শুরু করার পর থেকেই ডিভোর্সের সংখ্যা বেড়েছে’ ভোরে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, যেভাবে দেখাবেন কোপার ম্যাচ  তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, বন্যার আশঙ্কা কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজুর উপর সন্ত্রাসী হামলা যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে বাস উল্টে আহত ১০ হজ পালন করতে গিয়ে কেউ মা*রা গেলে তার কাফন-দাফনের কী হবে এমপি আনার অপহরণ মামলার আসামী মিন্টুর মুক্তির দাবীতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন চরফ্যাশনে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ০৬:১২ অপরাহ্ন

আঁচলে লুকিয়ে ভাত নিয়ে আসতেন মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : বুধবার, ২২ মে, ২০২৪

বাবা ফেরি করে সবজি বিক্রি করতেন বাসায় বাসায় ঘুরে। আট সদস্যের বিশাল পরিবার। সবার মুখে আহার তুলে দিতে বাবা প্রতিদিন হাড়-কাঁপানো পরিশ্রম করতেন। বাবার এই পরিশ্রমেও যখন সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যেত, তখন মা আড়ালে বসে কান্না করতেন।

এরপর মা বিভিন্ন বাসবাড়িতে কাজ করেছেন দুমুঠো খাবার ও কিছু টাকার বিনিময়ে। মা অন্যের বাসা থেকে যে খাবার পেতেন, সেটা না খেয়ে কাপড়ের আঁচলে লুকিয়ে আমাদের জন্য নিয়ে আসতেন।

বড় দুই বোনের বিয়ে হলো। ভাইয়েরা সংসারে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করত।

২০১০ সালের দিকে মাধ্যমিকে পড়ার সময় আমি রণে ভঙ্গ দিলাম। বাবা প্রতিদিন বিকেলে হাটে গিয়ে শাক-সবজি কিনে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতেন। আমি বাবার সঙ্গে ডালায় করে সবজি বিক্রি করতাম।

মা বলতেন ‘পড়াশোনাটা কর, বাবা।

কষ্ট হলেও তোর পড়াশোনা চালিয়ে নেব।’ নুন আনতে পান্তা ফুরায় পরিবারে। মন বসল না আর পড়াশোনায়। বাবার সঙ্গে আমিও শহরে ফেরি করে সবজি বিক্রি করতে লাগলাম। কিন্তু হেঁটে হেঁটে সবজি বিক্রি করেও সংসারে আর তেমন উন্নতি হচ্ছিল না।

পরে একটি ভাতের হোটেলে কাজ নিলাম তিন বেলা খাওয়া ও ৫০ টাকার বিনিময়ে। কিন্তু বছরখানেক পর সে কাজ ছেড়ে দিই। পরে একই হোটেলের সামনে একটি চায়ের স্টল নিলাম ভাড়ায়। মা চেয়েছিলেন, আমি যেন পড়াশোনাটা চালিয়ে যাই। একসময় জানলাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ আছে। পরে সেখানে ভর্তি হলাম। তত দিনে বড় দুই ভাই বিয়ে করে অন্যত্র সংসার করছে। চা বিক্রি করতে করতেই মায়ের ইচ্ছা পূরণে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করলাম। এখন ডিগ্রিতে ভর্তি হব। ছোট বোনও ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত।

২০২৩ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বাবা মৃত্যুবরণ করে। তখন থেকে মা আর ছোট বোনকে নিয়ে আছি। মাকে কখনো বলা হয়নি—‘তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তোমার সঙ্গে বাকিটা জীবন সুখে-শান্তিতে কাটাতে চাই।’

 


এই বিভাগের আরও খবর