ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

কোটালীপাড়ায় অসহায় সোনাবানের দুঃখগাঁথা জীবন

এক অসহায় বৃদ্ধা নারীর নাম সোনাবান। জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী বয়স ৫৭ বছর হলেও প্রকৃত পক্ষে বয়স প্রায় ৮০ বছর। মা, বাবা, স্বামী, সন্তান, ভাই, বোন কেহ নাই তার। ভাঙ্গাচোরা একটি টিনের ঘরে খেয়ে না খেয়ে বছরের পর বছর কাটছে তার দুঃখের জীবন। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আদিল উদ্দিন তালুকদালের মেয়ে সোনাবান।

পুতুল খেলার বয়সে চাচা লাল মিয়া তালুকদার সোনাবানকে তার ছেলে আলকাচ তালুকদারের সাথে বিয়ে দেন। ওই সময়ে শিশু বয়সে স্বামী-সংসার বুঝতেন না সোনাবান। স্বামী আলকাচ সিলেটে থাকতেন। ওখানে ২য় বিয়ে করে সংসার পাতেন। বাড়ি আসা বন্ধ করে দেন আলকাচ। সোনাবান শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে আসেন।

কয়েক বছর পর উপজেলার লাখিরপাড় গ্রামের ইনতাজ উদ্দিন মুন্সীর ছেলে নুর মোহাম্মাদ মুন্সীর সাথে সোনাবানের ২য় বিয়ে হয়। দিনমজুর স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসার সোনাবানের। কোল জুড়ে আসে এক ছেলে সন্তান। হঠাৎ করে এক অসুখে মারা যায় ছেলে। এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় স্বামী নুর মোহাম্মাদ মুন্সী।

অভাবের তাড়নায় ছাড়তে হয় ২য় স্বামীর বাড়ী। ততোদিনে মা-বাবাও মারা যায় সোনাবানের।স্বামীর বাড়ি ছেড়ে গোপালগঞ্জ শহরে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে চলতে থাকে তার কষ্টের জীবন।

১২ বছর আগে উপজেলার সিতাইকুন্ড গ্রামের মেহের কাজীর ছেলে আব্দুল কাজীর সাথে সোনাবানের ৩য় বিয়ে হয়। ২ মেয়ে ও ১ ছেলেকে রেখে আব্দুল কাজীর ১ম স্ত্রী মারা যায়। ছেলে মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলে একাকি হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় আত্মীয়-স্বজন আব্দুল কাজীর সাথে সোনাবানের বিয়ে দেয়। দিনমজুর

স্বামী আব্দুল কাজীকে নিয়ে ভালোই চলছিল সোনাবানের সংসার। এ সুখও সইলো না সোনাবানের কপালে। বিয়ের দুই বছরের মাথায় ১০ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় সোনাবানের ৩য় স্বামী আব্দুল কাজী।

এর কিছুদিন পর আব্দুল কাজীর ছেলেও মারা যায়। তখন থেকেই সম্পূর্ণ একাকী হয়ে পড়েন সোনাবান। চেয়ে চিন্তে জীবন চলতে থাকে তার। বয়সের ভারে এখন ক্লান্ত তিনি। কিছুদিন আগে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়েন। পাড়া প্রতিবেশিদের কাছ থেকে দু’মুঠো চাল-ডাল চেয়ে নিয়ে কোনমতে জীবনটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন সোনাবান।

আজ শুক্রবার (৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে সিতাইকুন্ড গ্রামে সোনাবানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সোনাবানের ঘরটির অবস্থা খুবই নাজুক। চর্তুদিকে ভেঙ্গেচুরে একাকার। ঘরের টিনগুলো জং ধরে বড়বড় ফুটো হয়ে গেছে। কাঠগুলো ঘুনে ধরে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে ভিজে একাকার হতে হয়।

সোনাবানের প্রতিবেশী কাজী ইউনুচ বলেন, অনেক দুঃখে কষ্টে তার জীবন কাটে। সরকারি কোন সহায়তা তিনি পায় না। ভাঙ্গা ঘরে প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হয়। প্রতিবেশীরা একটু সাহায্য করলে তার পেটে ভাত জুটে। অন্যথায় অনাহারে থাকতে হয়।

ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম তুহিন বলেন, সোনাবান গোপালগঞ্জে থাকা অবস্থায় ভোটার হয়েছেন। ভোটার স্থানান্তর করেননি। যে কারনে তাকে সরকারি কোন সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় নাই। এখানকার ভোটার হলে তাকে সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে।

অসহায় সোনাবান বলেন, অনেক কে বলেছি আমার ভোটার আইডি কার্ডটি পরিবর্তন করার জন্য। কেউ আগায় আসে নাই। ভাঙ্গা ঘরে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে খেয়ে না খেয়ে জীবন চলে। শেষ বয়সে একটু সুখ-শান্তি চাই। কে দেবে? আল্লাহ ছাড়া যে আমার আর কেউডি নাই।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

কোটালীপাড়ায় অসহায় সোনাবানের দুঃখগাঁথা জীবন

আপডেট সময় : ০৯:২৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫

এক অসহায় বৃদ্ধা নারীর নাম সোনাবান। জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী বয়স ৫৭ বছর হলেও প্রকৃত পক্ষে বয়স প্রায় ৮০ বছর। মা, বাবা, স্বামী, সন্তান, ভাই, বোন কেহ নাই তার। ভাঙ্গাচোরা একটি টিনের ঘরে খেয়ে না খেয়ে বছরের পর বছর কাটছে তার দুঃখের জীবন। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আদিল উদ্দিন তালুকদালের মেয়ে সোনাবান।

পুতুল খেলার বয়সে চাচা লাল মিয়া তালুকদার সোনাবানকে তার ছেলে আলকাচ তালুকদারের সাথে বিয়ে দেন। ওই সময়ে শিশু বয়সে স্বামী-সংসার বুঝতেন না সোনাবান। স্বামী আলকাচ সিলেটে থাকতেন। ওখানে ২য় বিয়ে করে সংসার পাতেন। বাড়ি আসা বন্ধ করে দেন আলকাচ। সোনাবান শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে আসেন।

কয়েক বছর পর উপজেলার লাখিরপাড় গ্রামের ইনতাজ উদ্দিন মুন্সীর ছেলে নুর মোহাম্মাদ মুন্সীর সাথে সোনাবানের ২য় বিয়ে হয়। দিনমজুর স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসার সোনাবানের। কোল জুড়ে আসে এক ছেলে সন্তান। হঠাৎ করে এক অসুখে মারা যায় ছেলে। এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় স্বামী নুর মোহাম্মাদ মুন্সী।

অভাবের তাড়নায় ছাড়তে হয় ২য় স্বামীর বাড়ী। ততোদিনে মা-বাবাও মারা যায় সোনাবানের।স্বামীর বাড়ি ছেড়ে গোপালগঞ্জ শহরে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে চলতে থাকে তার কষ্টের জীবন।

১২ বছর আগে উপজেলার সিতাইকুন্ড গ্রামের মেহের কাজীর ছেলে আব্দুল কাজীর সাথে সোনাবানের ৩য় বিয়ে হয়। ২ মেয়ে ও ১ ছেলেকে রেখে আব্দুল কাজীর ১ম স্ত্রী মারা যায়। ছেলে মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলে একাকি হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় আত্মীয়-স্বজন আব্দুল কাজীর সাথে সোনাবানের বিয়ে দেয়। দিনমজুর

স্বামী আব্দুল কাজীকে নিয়ে ভালোই চলছিল সোনাবানের সংসার। এ সুখও সইলো না সোনাবানের কপালে। বিয়ের দুই বছরের মাথায় ১০ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় সোনাবানের ৩য় স্বামী আব্দুল কাজী।

এর কিছুদিন পর আব্দুল কাজীর ছেলেও মারা যায়। তখন থেকেই সম্পূর্ণ একাকী হয়ে পড়েন সোনাবান। চেয়ে চিন্তে জীবন চলতে থাকে তার। বয়সের ভারে এখন ক্লান্ত তিনি। কিছুদিন আগে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়েন। পাড়া প্রতিবেশিদের কাছ থেকে দু’মুঠো চাল-ডাল চেয়ে নিয়ে কোনমতে জীবনটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন সোনাবান।

আজ শুক্রবার (৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে সিতাইকুন্ড গ্রামে সোনাবানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সোনাবানের ঘরটির অবস্থা খুবই নাজুক। চর্তুদিকে ভেঙ্গেচুরে একাকার। ঘরের টিনগুলো জং ধরে বড়বড় ফুটো হয়ে গেছে। কাঠগুলো ঘুনে ধরে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে ভিজে একাকার হতে হয়।

সোনাবানের প্রতিবেশী কাজী ইউনুচ বলেন, অনেক দুঃখে কষ্টে তার জীবন কাটে। সরকারি কোন সহায়তা তিনি পায় না। ভাঙ্গা ঘরে প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হয়। প্রতিবেশীরা একটু সাহায্য করলে তার পেটে ভাত জুটে। অন্যথায় অনাহারে থাকতে হয়।

ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম তুহিন বলেন, সোনাবান গোপালগঞ্জে থাকা অবস্থায় ভোটার হয়েছেন। ভোটার স্থানান্তর করেননি। যে কারনে তাকে সরকারি কোন সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় নাই। এখানকার ভোটার হলে তাকে সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে।

অসহায় সোনাবান বলেন, অনেক কে বলেছি আমার ভোটার আইডি কার্ডটি পরিবর্তন করার জন্য। কেউ আগায় আসে নাই। ভাঙ্গা ঘরে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে খেয়ে না খেয়ে জীবন চলে। শেষ বয়সে একটু সুখ-শান্তি চাই। কে দেবে? আল্লাহ ছাড়া যে আমার আর কেউডি নাই।