ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

কোরবানীর ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারের দোকানে

মৌলভীবাজারের কামারপাড়াতে টুং টাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে আর কয়েকদিন পরেই ঈদুল আজহা। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা। মুসলমানরা প্রতি বছর আল্লাহকে রাজি খুশি করতে ঈদুল আজহায় পশু জবাই করে।
কোরবানির পশু জবাই ও মাংস সাইজ করতে ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি অত্যাবশ্যকীয়। সেগুলো সংগ্রহ ও প্রস্তুত রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত। পশু কোরবানির দা, ছুরি ও চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারপাড়ায় ভিড় জমাচ্ছেন। সারা বছর অনেকটা আমাদের অলস সময় পার করতে হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে কোরবানীর পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম।
কুরবানি পশু জবাইয়ের এসব অস্ত্র তৈরি করার সময় হাপরের ফোঁস ফাঁস আর লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দে মুখর পুরো এলাকা। এর সঙ্গে চলছে পুরোনো দা-বঁটি ও ছুরিতে শান দেওয়ার কাজ। এভাবে ক্লান্তিহীন দিন পার করছেন কামারেরা। এ চাহিদা পূরণে ব্যস্ততা বেড়েছে বিভিন্ন কামারের দোকানে। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে এই শিল্পের দুর্দিন চললেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। খাওয়া-দাওয়া ভুলে কাজ করছেন তারা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাজ। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়ে যায় কামারদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লোহার তৈরি ছোট ছুরি ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জবাই ছুরি মিলছে ৫০০-৬০০ টাকায়। বিভিন্ন সাইজের চাপাতি ৬০০-৮০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। দা-বঁটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০০ টাকায়।
কামার শিল্পের সাথে জড়িতরা জানান তবে দিন দিন নিত্য নতুন চাইনিজ পন্য বাজার দখল করায় দেশীয় পন্য বাজার হারাচ্ছে বলে দাবি কামার শিল্পীদের। এই পেশায় কামার ব্যবসায়ীদের কোনো সুযোগ সুবিধা নাই বিধায় অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এই কামার ব্যবসা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এই কর্মকার ব্যবসা বাঙালির সেরা ঐতিহ্য,এর উপর আর কোনো শিল্প নেই,এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে পতনের মূলে যাচ্ছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে আর এই ব্যবসায় আনবো না। রেডিমেড মাল কম দামে বিক্রি করায় আমাদের কামার শিল্পটি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
ক্রেতা মোহাম্মাদ স্বপন আলী বলেন কয়দিন পরেই ঈদ,কুরবানীর জন্য ক্রেতারা যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে এসেছে। গত বছরের তুলনায় এবছর যন্ত্রপাতির এবার ছুরি, চাকু, কাটারির দাম একটু বেশি বলে জানান তারা।
শহরের বেরীপাড়ের ফয়সল আহমদ জানান, কুরবানির ঈদের আর কদিন বাকি তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছেন। কুরবানীর জন্য কিছু জিনিস নিয়েছি।
কামার শিল্পের সাথে জড়িতরা রিপন মিয়া জানান কুরবানী ঈদ আসলে কামার ব্যবসায়ীদের কাস্টমার বেশি সারা পাওয়া যায়। কিন্তু কুরবানী ঈদের পর কাস্টমারদের সারা খুব কম। আর বর্তমানে কামার ব্যবসা বিলুপ্তির পথে। এই পেশার অনেকেই কামার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছে।
আনন্দ কামার বলেন, ‘কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাঁচামাল কয়লা ও শ্রমিকের মূল্য দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে। দুই মাস আগেও প্রতি বস্তা কয়লার দাম ছিল ৪০০-৪৫০ টাকা। সেই কয়লা এখন আমাদের ৮০০-৮৫০ টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে। তাই আমরা চাপাতি, ছুরি ও দায়ের দাম একটু বেশি নিচ্ছি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

কোরবানীর ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারের দোকানে

আপডেট সময় : ০৮:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

মৌলভীবাজারের কামারপাড়াতে টুং টাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে আর কয়েকদিন পরেই ঈদুল আজহা। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা। মুসলমানরা প্রতি বছর আল্লাহকে রাজি খুশি করতে ঈদুল আজহায় পশু জবাই করে।
কোরবানির পশু জবাই ও মাংস সাইজ করতে ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি অত্যাবশ্যকীয়। সেগুলো সংগ্রহ ও প্রস্তুত রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত। পশু কোরবানির দা, ছুরি ও চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারপাড়ায় ভিড় জমাচ্ছেন। সারা বছর অনেকটা আমাদের অলস সময় পার করতে হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে কোরবানীর পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম।
কুরবানি পশু জবাইয়ের এসব অস্ত্র তৈরি করার সময় হাপরের ফোঁস ফাঁস আর লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দে মুখর পুরো এলাকা। এর সঙ্গে চলছে পুরোনো দা-বঁটি ও ছুরিতে শান দেওয়ার কাজ। এভাবে ক্লান্তিহীন দিন পার করছেন কামারেরা। এ চাহিদা পূরণে ব্যস্ততা বেড়েছে বিভিন্ন কামারের দোকানে। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে এই শিল্পের দুর্দিন চললেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। খাওয়া-দাওয়া ভুলে কাজ করছেন তারা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাজ। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়ে যায় কামারদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লোহার তৈরি ছোট ছুরি ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জবাই ছুরি মিলছে ৫০০-৬০০ টাকায়। বিভিন্ন সাইজের চাপাতি ৬০০-৮০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। দা-বঁটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০০ টাকায়।
কামার শিল্পের সাথে জড়িতরা জানান তবে দিন দিন নিত্য নতুন চাইনিজ পন্য বাজার দখল করায় দেশীয় পন্য বাজার হারাচ্ছে বলে দাবি কামার শিল্পীদের। এই পেশায় কামার ব্যবসায়ীদের কোনো সুযোগ সুবিধা নাই বিধায় অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এই কামার ব্যবসা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
এই কর্মকার ব্যবসা বাঙালির সেরা ঐতিহ্য,এর উপর আর কোনো শিল্প নেই,এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে পতনের মূলে যাচ্ছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে আর এই ব্যবসায় আনবো না। রেডিমেড মাল কম দামে বিক্রি করায় আমাদের কামার শিল্পটি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
ক্রেতা মোহাম্মাদ স্বপন আলী বলেন কয়দিন পরেই ঈদ,কুরবানীর জন্য ক্রেতারা যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে এসেছে। গত বছরের তুলনায় এবছর যন্ত্রপাতির এবার ছুরি, চাকু, কাটারির দাম একটু বেশি বলে জানান তারা।
শহরের বেরীপাড়ের ফয়সল আহমদ জানান, কুরবানির ঈদের আর কদিন বাকি তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছেন। কুরবানীর জন্য কিছু জিনিস নিয়েছি।
কামার শিল্পের সাথে জড়িতরা রিপন মিয়া জানান কুরবানী ঈদ আসলে কামার ব্যবসায়ীদের কাস্টমার বেশি সারা পাওয়া যায়। কিন্তু কুরবানী ঈদের পর কাস্টমারদের সারা খুব কম। আর বর্তমানে কামার ব্যবসা বিলুপ্তির পথে। এই পেশার অনেকেই কামার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছে।
আনন্দ কামার বলেন, ‘কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাঁচামাল কয়লা ও শ্রমিকের মূল্য দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে। দুই মাস আগেও প্রতি বস্তা কয়লার দাম ছিল ৪০০-৪৫০ টাকা। সেই কয়লা এখন আমাদের ৮০০-৮৫০ টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে। তাই আমরা চাপাতি, ছুরি ও দায়ের দাম একটু বেশি নিচ্ছি।