কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নং ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনিরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা (মামলা নং ২১) দায়ের করা হয়েছে।
গত ১৭ মে ২০২৫ তারিখে উদিবাড়ী এলাকায় ব্যাবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মনিরুজ্জামান মনির (৫০) আসামী মোঃ ইকবাল হোসেন (৩৫) ও মোঃ জোয়া (৬০)-এর বাড়ির সামনে সিমেন্ট, বালি ও ইটের ব্যবসা করেন। আসামীরা তাদের বাড়ির পাশে একটি পরিত্যাক্ত দোকান ক্রয় করে এবং সেই দোকানের সাটার, টিন, লোহা সহ যাবতীয় কাঁচামাল মনিরুজ্জামান মনিরের কাছে বিক্রির জন্য দরদাম চূড়ান্ত করেন। কিন্তু আসামীরা দরদাম চূড়ান্ত করেও মনিরের কাছে মালামাল বিক্রি না করে গোপনে অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন।
গত ১৭/০৫/২০২৫ তারিখ দুপুর আনুমানিক ০১:০০ ঘটিকার সময় মনিরুজ্জামান মনির টাকা পরিশোধ করে মালামাল আনতে গেলে আসামীরা তাকে জানায় যে মালামাল অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মনিরের সাথে আসামীদের কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয় লোকজন উভয় পক্ষকে নিবৃত করলে ১নং আসামী ইকবাল মনিরকে “পরে দেখে নেবে” বলে শাসিয়ে যায়।
একই দিন দুপুর অনুমান ০২:০০ ঘটিকার সময় এজাহারভুক্ত আসামী মোঃ ইকবাল হোসেন (৩৫), মোঃ জোয়া (৬০), মোঃ সালমান (২০), মোঃ সজীব (২৫) সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে উদিবাড়ী সাকিনস্থ দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে রাস্তার উপর আসে। তারা মনিরুজ্জামান মনিরের পথরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। মনির গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ২নং আসামী মোঃ জোয়ার হুকুমে ১নং আসামী মোঃ ইকবাল তার হাতে থাকা লোহার হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মনিরের মাথার মাঝ বরাবর স্বজোরে আঘাত করে গুরুতর হাড়ভাঙ্গা রক্তাক্ত জখম করে। ৩নং আসামী মোঃ সালমান তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মনিরের কপালের বাম পাশে স্বজোরে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। ৪নং আসামী মোঃ সজীব তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মনিরের ডান চোখের পাশে স্বজোরে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এরপর ২নং আসামী মোঃ জোয়া মনিরের বুকে স্বজোরে লাথি মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং আসামীরা মনিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে নীলাফোলা জখম করে।
মনিরের চিৎকারে স্থানীয় (সাক্ষী) মোঃ মুন্না, মোঃ কাবিল, সীমা খাতুন সহ আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মনিরকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, কুষ্টিয়ায় ভর্তি করলে অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।
এই হামলার ঘটনায় মনিরের ভাই মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৩৭) বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে উল্লিখিত ৪ জন আসামী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনায় কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।
এন এইস সোহান, কুষ্টিয়া 


















