ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

এএসপি পলাশের ভাই লিটন সাহার আকুতি, ‘আপনারা আমাদের একটু শান্তিতে থাকতে দিন’

সম্প্রতি র্যা ব-৭ (চট্টগ্রামে) এ কর্মরত থাকাবস্থায় সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহার আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে বড় ভাই লিটন সাহা আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেছেন, ‘আমাদের দুই পরিবার নিয়ে বিভিন্নজনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনগড়া সব কথা লিখছেন। সাংবাদিক ভাইয়েরা যে যার মত রিপোর্ট করছেন। বিভিন্নজনে নিজেদের মত করে কনটেন্ট তৈরি করছেন। আপনাদের কাছে হাত জোর করে মিনতি করছি, আপনারা এসব বন্ধ করুন। আমাদের দুটি পরিবারকে একটু শান্তিতে থাকতে দিন’।

আজ মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের নিজ বাড়িতে বসে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকল গণমাধ্যম, ফেসবুক ব্যবহারকারী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ২০০৩ সালে আমার বাবা মারা যায়। তখন আমার ছোট ভাই পুলিশের সাবেক সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ও আরেক ভাই নন্দ লাল সাহা নবম শ্রেণিতে পড়তো। আমি তখন বিএসসিতে অধ্যায়নরত ছিলাম। বাবা মৃত্যুর আগে আমাকে বলে যায়, ‘তোর দুই ভাই ও মাকে দেখে রাখিস। ভাই দু’জনকে এম এ পাশ করাইস’। আমি বাবার কথা রেখেছি। আমার লেখাপড়া বাদ দিয়ে টিউশনী করে আমার ছোট দুই ভাইকে এমএ পাশ করিয়েছি। ওদের কোন দুঃখ কষ্ট বুঝতে দেইনি। আমি ভাই হিসেবে নয়, ওদেরকে সন্তান হিসেবে বড় করেছি। আজ আমার সেই সন্তানতুল্য ভাই পলাশ পৃথিবীতে নেই! আমার মা তার ছেলেকে হারিয়েছে, পলাশের স্ত্রী সুষ্মিতা তার স্বামীকে হারিয়েছে। কিন্তু আমি যে কি হারিয়েছি তা কাউকে বুঝাতে পারবো না।
কান্নাজাড়িত কণ্ঠে লিটন সাহা বলেন, আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। আজকে প্রায় ৭ দিন হয়ে গেলেও আমি আমার ভাইয়ের জন্য ধর্মীয় কোন কাজ করতে পারছি না। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভাইয়েরা আমাদেরকে একটু সুস্থ থাকতে দিচ্ছেন না। যতদূর হয়েছে আপনারা আমাদেরকে ক্ষমা করুন। ধর্মীয় এবং সামাজিকভাবে পলাশের স্ত্রী এখনও আমাদের পরিবারের সদস্য। যেহেতু পলাশ আমার সন্তানের মত ছিল তাই আমি যতোদিন বেঁচে থাকবো ততোদিন তার পাশে থাকবো।
উল্লেখ্য গত বুধবার (৭ মে) দুপুরে সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহা পারিবারিক কলহের জের ধরে র্যা ব-৭ চট্টগ্রামের বয়জিদ ক্যাম্পের নিজ অফিস কক্ষে আত্মহত্যা করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলার পারকোনা মহাশশ্মানে তার অন্তোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহা কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের মৃত বিনয় সাহার ছোট ছেলে। ৩৭তম বিসিএস এ পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

এএসপি পলাশের ভাই লিটন সাহার আকুতি, ‘আপনারা আমাদের একটু শান্তিতে থাকতে দিন’

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

সম্প্রতি র্যা ব-৭ (চট্টগ্রামে) এ কর্মরত থাকাবস্থায় সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহার আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে বড় ভাই লিটন সাহা আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেছেন, ‘আমাদের দুই পরিবার নিয়ে বিভিন্নজনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনগড়া সব কথা লিখছেন। সাংবাদিক ভাইয়েরা যে যার মত রিপোর্ট করছেন। বিভিন্নজনে নিজেদের মত করে কনটেন্ট তৈরি করছেন। আপনাদের কাছে হাত জোর করে মিনতি করছি, আপনারা এসব বন্ধ করুন। আমাদের দুটি পরিবারকে একটু শান্তিতে থাকতে দিন’।

আজ মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের নিজ বাড়িতে বসে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকল গণমাধ্যম, ফেসবুক ব্যবহারকারী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ২০০৩ সালে আমার বাবা মারা যায়। তখন আমার ছোট ভাই পুলিশের সাবেক সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ও আরেক ভাই নন্দ লাল সাহা নবম শ্রেণিতে পড়তো। আমি তখন বিএসসিতে অধ্যায়নরত ছিলাম। বাবা মৃত্যুর আগে আমাকে বলে যায়, ‘তোর দুই ভাই ও মাকে দেখে রাখিস। ভাই দু’জনকে এম এ পাশ করাইস’। আমি বাবার কথা রেখেছি। আমার লেখাপড়া বাদ দিয়ে টিউশনী করে আমার ছোট দুই ভাইকে এমএ পাশ করিয়েছি। ওদের কোন দুঃখ কষ্ট বুঝতে দেইনি। আমি ভাই হিসেবে নয়, ওদেরকে সন্তান হিসেবে বড় করেছি। আজ আমার সেই সন্তানতুল্য ভাই পলাশ পৃথিবীতে নেই! আমার মা তার ছেলেকে হারিয়েছে, পলাশের স্ত্রী সুষ্মিতা তার স্বামীকে হারিয়েছে। কিন্তু আমি যে কি হারিয়েছি তা কাউকে বুঝাতে পারবো না।
কান্নাজাড়িত কণ্ঠে লিটন সাহা বলেন, আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। আজকে প্রায় ৭ দিন হয়ে গেলেও আমি আমার ভাইয়ের জন্য ধর্মীয় কোন কাজ করতে পারছি না। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভাইয়েরা আমাদেরকে একটু সুস্থ থাকতে দিচ্ছেন না। যতদূর হয়েছে আপনারা আমাদেরকে ক্ষমা করুন। ধর্মীয় এবং সামাজিকভাবে পলাশের স্ত্রী এখনও আমাদের পরিবারের সদস্য। যেহেতু পলাশ আমার সন্তানের মত ছিল তাই আমি যতোদিন বেঁচে থাকবো ততোদিন তার পাশে থাকবো।
উল্লেখ্য গত বুধবার (৭ মে) দুপুরে সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহা পারিবারিক কলহের জের ধরে র্যা ব-৭ চট্টগ্রামের বয়জিদ ক্যাম্পের নিজ অফিস কক্ষে আত্মহত্যা করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলার পারকোনা মহাশশ্মানে তার অন্তোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহা কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের মৃত বিনয় সাহার ছোট ছেলে। ৩৭তম বিসিএস এ পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেন।