ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএনও মঈনুল

২৫ বছর ধরেন খোলা আকাশের নিচে শিকলবন্দী অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন বিমল হালদাল (৫৫)।

সম্প্রতি এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিমল হালদারের পাশে এসে দাড়ালেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈনুল হক।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈনুল হক পূর্বপাড়া গ্রামে বিমল হালদারের বাড়িতে যায়। তিনি বিমল হালদারের বড় ভাই জগদিশ হালদারের হাতে চাল, ডালসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী, পোষাক ও নগদ অর্থ তুলে দেন।
এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম, সমাজসেবা অফিসার রাকিবুল হাসান শুভ, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আনসার আলী উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈনুল হক বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে শিকলবন্দি অবস্থায় রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবনযাপন করছিল। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিমল হালদারকে থাকার জন্য বাথরুমসহ একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। আজকেই এই ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এছাড়াও বিমল হালদারের জন্য একটি প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তার ভাইয়ের পরিবারের জন্য ভিজিটি কার্ড করে দেওয়া হবে। শুধু বিমল হালদারই নয় এ ধরনের মানসিক ভারসাম্যহীন সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের পাশে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষনিক ভাবে থাকবে।
বিমল হালদারের ভাই জগদীশ হালদার বলেন, বিমল খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। এইচ এসসি পরীক্ষার সময় কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারায়। ওই সময় পাবনাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে এবং ভারতে বিমলের চিকিৎসা করানো হয়। এরপর আত্মীয়-স্বজনের পরামর্শে বিয়ে দেওয়া হয় বিমলকে। স্ত্রী ও এলাকাবাসীর সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করায় দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ২৫ বছর আগে বিমলের স্ত্রী বিমলকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে সে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। বিমলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।
তিনি আরো বলেন, প্রথমে ওকে টিনের ঘরে রাখা হয়। তখন ঘর-দোড় ভেঙ্গে ফেলে। অর্থের অভাবে আমরা পাকা ঘর করে দিতে পারিনি। আজ টিএনও স্যার পাগল বিমলের জন্য যা করলেন তার জন্য আমরা চিরঋণী।
সামাজিক সংগঠন কোটালীপাড়া কল্যাণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন বিমল হালদারের নিরাপত্তার জন্য ইউএনও মোঃ মঈনুল হক যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সমাজে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএনও মঈনুল

আপডেট সময় : ০৩:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

২৫ বছর ধরেন খোলা আকাশের নিচে শিকলবন্দী অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন বিমল হালদাল (৫৫)।

সম্প্রতি এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিমল হালদারের পাশে এসে দাড়ালেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈনুল হক।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈনুল হক পূর্বপাড়া গ্রামে বিমল হালদারের বাড়িতে যায়। তিনি বিমল হালদারের বড় ভাই জগদিশ হালদারের হাতে চাল, ডালসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী, পোষাক ও নগদ অর্থ তুলে দেন।
এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম, সমাজসেবা অফিসার রাকিবুল হাসান শুভ, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আনসার আলী উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈনুল হক বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে শিকলবন্দি অবস্থায় রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবনযাপন করছিল। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিমল হালদারকে থাকার জন্য বাথরুমসহ একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। আজকেই এই ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এছাড়াও বিমল হালদারের জন্য একটি প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তার ভাইয়ের পরিবারের জন্য ভিজিটি কার্ড করে দেওয়া হবে। শুধু বিমল হালদারই নয় এ ধরনের মানসিক ভারসাম্যহীন সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের পাশে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষনিক ভাবে থাকবে।
বিমল হালদারের ভাই জগদীশ হালদার বলেন, বিমল খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। এইচ এসসি পরীক্ষার সময় কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারায়। ওই সময় পাবনাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে এবং ভারতে বিমলের চিকিৎসা করানো হয়। এরপর আত্মীয়-স্বজনের পরামর্শে বিয়ে দেওয়া হয় বিমলকে। স্ত্রী ও এলাকাবাসীর সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করায় দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ২৫ বছর আগে বিমলের স্ত্রী বিমলকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে সে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। বিমলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।
তিনি আরো বলেন, প্রথমে ওকে টিনের ঘরে রাখা হয়। তখন ঘর-দোড় ভেঙ্গে ফেলে। অর্থের অভাবে আমরা পাকা ঘর করে দিতে পারিনি। আজ টিএনও স্যার পাগল বিমলের জন্য যা করলেন তার জন্য আমরা চিরঋণী।
সামাজিক সংগঠন কোটালীপাড়া কল্যাণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন বিমল হালদারের নিরাপত্তার জন্য ইউএনও মোঃ মঈনুল হক যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সমাজে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।