ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহার আত্মহত্যা, গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

র ্যাব-৭ এ কর্মরত সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহার আত্মহত্যার খবর যেন কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

পলাশ সাহার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামে চলছে শোকের মাতম।
পলাশ সাহা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের মৃত বিনয় কৃষ্ণ সাহার ছেলে। ৩ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে পালাশ সবার ছোট ছিল।
দুপরে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে পলাশ সাহার বড় ভাই পারেন লিটন সাহা জানতে পারেন আত্মহত্যার খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
খবর পেয়েই তিনি চট্টগ্রামে রওনা দেন।
সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া র্যাবব ক্যাম্প থেকে র্যাাবের সদস্যরা আসেন পলাশের বাড়িতে।
মা ও স্ত্রীকে নিয়ে পলাশ চট্টগ্রামে কর্মস্থলে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে থাকে বড় দুই ভাই।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের তৃতীয় তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

পলাশ সাহার লাশের পাশ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া যায়।
ওই চিরকুটে উল্লেখ করা হয়, ‘আমার মৃত্যুর জনা মা এবং বউ কেউ দায়ী না। আমিই দায়ী। কাউকে ভালো রাখতে পারলাম না। বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের ওপর। তারা যেন মাকে ভালো রাখে। স্বর্ণ বাদে যা আছে তা মায়ের জন্য। দিদি যেন কো-অর্ডিনেট করে।‬‎’
স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করেই সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পলাশ সাহা আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন তার মেঝ ভাই নন্দ লাল সাহা।
নন্দলাল সাহা বলেন, বিয়ের পর থেকেই পলাশের স্ত্রী সুষ্মিতা সহা টিনটিন মাকে দেখতে পারতেন না। মা পলাশের সাথে থাকুক তা চাইতো না টিনটিন। এ নিয়ে ঝগড়া সবসময় লেগে থাকতো। পলাশ মাকে খুব ভালোবাসতো। সে চাইতো মা তাকে ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাক। কয়েক মাস হলো পলাশ রযাত বে যোগ দিয়ে চট্টগ্রামে গেলে সেখানেও স্ত্রী এবং মাকে নিয়ে যায়। এই নিয়ে পলাশের সাথে টিনটিনের ব্যাপক ঝড়গাঝাটি ছিলো। আমরা বড় দুইভাই একাধিকবার এই কলহের মিমাংসা করে দেই। দু’দিন যেতে না যেতেই আবার বিবাদ শুরু হয়। অন্যদিকে আমরা মাকে গ্রামে রাখতে চাইলে সেও পলাশকে ছাড়া থাকতে নারাজ। পলাশ মা ও স্রীগ্ দুজনকেই প্রচন্ড ভালবাসতো। এই ভালোবাসাই আজ কাল হলো।
তিনি আরো বলেন, বুধবার সকালে সামান্য বিষয় নিয়ে আমার মা আরতি সাহা ও ভাই পলাশ সাহার গায়ে হাত তোলে সুস্মিতা সাহা। এটা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেনি আমার ভাই। আর এ কারণেই আমার ভাই পলাশ সাহা আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা।
আমাদের সকলের আশা-আকাঙ্খার জলাঞ্জলী দিয়ে স্ত্রীর উপর অভিমান করে আমাদের ছেড়ে এভাবে চলে যাবে তা মেনে নিতে পারছি না।
এসবি সদর দপ্তরে কর্মরত থাকাবস্থায় বিয়ে করে স্ত্রী ও মাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।
৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বাবাকে হারানোর পর বড়ভাই লিটন সাহা পরিবারের হাল ধরেন। তুখোড় মেধাবী ছোট দুই ভাইয়ের ভবিষ্যত চিন্তা করে লেখাপড়া বাদ দিয়ে সংসারের হাল ধরেন তিনি।
লিটন সাহা বলেন, কোটালীপাড়া পাবলিক ইউনিয়ন ইনষ্টিটিউশন থেকে এসএসসি ও শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে পলাশ ঢাকায় চলে যান উচ্চ শিক্ষার জন্য। জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালে ইংরেজী বিভাগে ভর্তি হলেও পরের বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। স্নাতকোত্তর শেষ করে সাব রেজিষ্টার হিসেবে যোগ দেন কর্মজীবনে। আরও ভালো কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য একের পর এক চাকরির পরীক্ষায় বসেন পলাশ সাহা। যেখানেই পরীক্ষা দেন সেখানেই চাকরি হয়ে যায় তার। একে একে পুলিশের এসআই, আনসারের সহকারি পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারি পরিচালক, ৩৬তম বিসিএসএ শিক্ষা ক্যাডারে চাকরি পেলেও কোনটায় যোগ না দিয়ে ৩৭তম বিসিএসএ পুলিশ ক্যাডারের এএসপি হিসেবে চাকরি হলে সাব রেজিষ্টারের চাকরি ছেড়ে পুলিশে যোগ দেন।
বড়ভাই লিটন সাহার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আর্যপ সাহা এক নাগারে কেদেঁই চলছে। কাকার মতো পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখতো সে।
এদিকে পলাশ সাহার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না গ্রামবাসী। ইউপি সদস্য রণজিত সাহা বলেন, পলাশের মতো নিরীহ ও মেধাবী ছেলে এই গ্রামে ছিল না।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহার আত্মহত্যা, গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

র ্যাব-৭ এ কর্মরত সিনিয়র এএসপি পলাশ সাহার আত্মহত্যার খবর যেন কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

পলাশ সাহার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামে চলছে শোকের মাতম।
পলাশ সাহা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের মৃত বিনয় কৃষ্ণ সাহার ছেলে। ৩ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে পালাশ সবার ছোট ছিল।
দুপরে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে পলাশ সাহার বড় ভাই পারেন লিটন সাহা জানতে পারেন আত্মহত্যার খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
খবর পেয়েই তিনি চট্টগ্রামে রওনা দেন।
সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া র্যাবব ক্যাম্প থেকে র্যাাবের সদস্যরা আসেন পলাশের বাড়িতে।
মা ও স্ত্রীকে নিয়ে পলাশ চট্টগ্রামে কর্মস্থলে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে থাকে বড় দুই ভাই।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের তৃতীয় তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

পলাশ সাহার লাশের পাশ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া যায়।
ওই চিরকুটে উল্লেখ করা হয়, ‘আমার মৃত্যুর জনা মা এবং বউ কেউ দায়ী না। আমিই দায়ী। কাউকে ভালো রাখতে পারলাম না। বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের ওপর। তারা যেন মাকে ভালো রাখে। স্বর্ণ বাদে যা আছে তা মায়ের জন্য। দিদি যেন কো-অর্ডিনেট করে।‬‎’
স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করেই সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পলাশ সাহা আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন তার মেঝ ভাই নন্দ লাল সাহা।
নন্দলাল সাহা বলেন, বিয়ের পর থেকেই পলাশের স্ত্রী সুষ্মিতা সহা টিনটিন মাকে দেখতে পারতেন না। মা পলাশের সাথে থাকুক তা চাইতো না টিনটিন। এ নিয়ে ঝগড়া সবসময় লেগে থাকতো। পলাশ মাকে খুব ভালোবাসতো। সে চাইতো মা তাকে ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাক। কয়েক মাস হলো পলাশ রযাত বে যোগ দিয়ে চট্টগ্রামে গেলে সেখানেও স্ত্রী এবং মাকে নিয়ে যায়। এই নিয়ে পলাশের সাথে টিনটিনের ব্যাপক ঝড়গাঝাটি ছিলো। আমরা বড় দুইভাই একাধিকবার এই কলহের মিমাংসা করে দেই। দু’দিন যেতে না যেতেই আবার বিবাদ শুরু হয়। অন্যদিকে আমরা মাকে গ্রামে রাখতে চাইলে সেও পলাশকে ছাড়া থাকতে নারাজ। পলাশ মা ও স্রীগ্ দুজনকেই প্রচন্ড ভালবাসতো। এই ভালোবাসাই আজ কাল হলো।
তিনি আরো বলেন, বুধবার সকালে সামান্য বিষয় নিয়ে আমার মা আরতি সাহা ও ভাই পলাশ সাহার গায়ে হাত তোলে সুস্মিতা সাহা। এটা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেনি আমার ভাই। আর এ কারণেই আমার ভাই পলাশ সাহা আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা।
আমাদের সকলের আশা-আকাঙ্খার জলাঞ্জলী দিয়ে স্ত্রীর উপর অভিমান করে আমাদের ছেড়ে এভাবে চলে যাবে তা মেনে নিতে পারছি না।
এসবি সদর দপ্তরে কর্মরত থাকাবস্থায় বিয়ে করে স্ত্রী ও মাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।
৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বাবাকে হারানোর পর বড়ভাই লিটন সাহা পরিবারের হাল ধরেন। তুখোড় মেধাবী ছোট দুই ভাইয়ের ভবিষ্যত চিন্তা করে লেখাপড়া বাদ দিয়ে সংসারের হাল ধরেন তিনি।
লিটন সাহা বলেন, কোটালীপাড়া পাবলিক ইউনিয়ন ইনষ্টিটিউশন থেকে এসএসসি ও শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে পলাশ ঢাকায় চলে যান উচ্চ শিক্ষার জন্য। জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালে ইংরেজী বিভাগে ভর্তি হলেও পরের বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। স্নাতকোত্তর শেষ করে সাব রেজিষ্টার হিসেবে যোগ দেন কর্মজীবনে। আরও ভালো কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য একের পর এক চাকরির পরীক্ষায় বসেন পলাশ সাহা। যেখানেই পরীক্ষা দেন সেখানেই চাকরি হয়ে যায় তার। একে একে পুলিশের এসআই, আনসারের সহকারি পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারি পরিচালক, ৩৬তম বিসিএসএ শিক্ষা ক্যাডারে চাকরি পেলেও কোনটায় যোগ না দিয়ে ৩৭তম বিসিএসএ পুলিশ ক্যাডারের এএসপি হিসেবে চাকরি হলে সাব রেজিষ্টারের চাকরি ছেড়ে পুলিশে যোগ দেন।
বড়ভাই লিটন সাহার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আর্যপ সাহা এক নাগারে কেদেঁই চলছে। কাকার মতো পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখতো সে।
এদিকে পলাশ সাহার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না গ্রামবাসী। ইউপি সদস্য রণজিত সাহা বলেন, পলাশের মতো নিরীহ ও মেধাবী ছেলে এই গ্রামে ছিল না।