ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

খোলা আকাশের নিচে ২৫ বছর ধরে শিকলবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন বিমল হালদার

২৫ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে শিকলবন্দী অবস্থায় কাটছে মানসিক প্রতিবন্ধী বিমল হালদারের (৫৫) জীবন।

বিমল হালদার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের চন্দ্র কান্ত হালদারের ছেলে।
৩০ বছর আগে এইচ এস সি পরীক্ষার সময় হঠাৎ করে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয় বিমল হালদারের। বন্ধ হয়ে যায় পরীক্ষা। দিন দিন বেড়ে যায় অস্বাভাবিক আচরণ। পরিবারের লোকজন তখন বিমল হালদারকে নিয়ে যায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে। সেখানে ৩ মাস চিকিৎসার পর নিয়ে যাওয়া হয় ভারতে। চিকিৎসকেরা জানান বিমল মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। এই ভালো তো এই মন্দ।
এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ মতে বিয়ে দেওয়া হয় বিমলকে। এতে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে ১ ছেলে ও ১ মেয়ের বাবা হন বিমল হালদার। মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক আচরণ করায় বিমলের স্ত্রী ২ সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। বন্ধ করে যোগাযোগ। স্ত্রী সন্তান চলে যাওয়ার পরে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে বিমল হালদার। এলাকাবাসীর অভিযোগে ঘরবন্দি করে রাখা হয়।
একটু ছাড়া পেলেই যাকে সামনে পেতো তাকেই মারধোর করতো। মানুষের ঘর-বাড়ি ভাংচুর করতো। অনেক সময় মহিলাদের জাপটে ধরতো। প্রতিনিয়ত আসতো প্রতিবেশীদের অভিযোগ। অভিযোগের পাল্লা যখন ভারী হয়ে ওঠে তখন মানসিক ভারসাম্যহীন বিমল হালদার কে তার পরিবারের লোকজন শিকলবন্দী করে ফেলে।
এই অবস্থায় কেটে যায় ২৫ টি বছর। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে দিন কাটে বিমল হালদারের।এমনকি প্রচন্ড শীতের মধ্যে তাকে ফাঁকা জায়গায় একাকি রাত্রীযাপন করতে হয়।
গত শনিবার (০৩ মে) সরেজমিনে পুর্বপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ীর পাশে একটি খাল পাড়ে একটি রেইন্ট্রি গাছের নিচে কিছু ইট দিয়ে ৫ ফুট চওড়া ও ৮ ফুট দৈর্ঘ একটি পাকা স্থান তৈরী করে তার উপর শিকলবন্দী অবস্থায় বিমল হালদারকে রাখা হয়েছে।
এখানেই বিমল হালদারকে খাবার দেওয়া হয়। এই পাকা জায়গা টুকুর উপরই তার রাত দিন কাটে। দিন, মাস পেড়িয়ে কেটে গেছে ২৫টি বছর।
বিমল হালদারের পরিবার ও একাবাসির দাবী, বিমল হালদারকে সু-চিকিৎসা দিলে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিলতে পারবে।

বিমল হালদারের বৌদি সঞ্জিতা হালদার বলেন, আইএ পরীক্ষার সময় থেকে বিমল আমাদের সাথে অস্বাভাবিক আচারণ করতে থাকে।এরপর তাকে বিয়ে দেই। বিয়ের পর সে কখনো ভালো, কখনো খারাপ অবস্থায় ছিল। এর মাঝে সে দুই সন্তানের জনক হয়। সে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া ও মারধর করার কারনে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। এরপর বিমল পুরোপুরি পাগল হয়ে যায়।

বিমলের বড় ভাই জগদিশ হালদার বলেন, ভারত,পাবনা,ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিমলের চিকিৎসা করাতে আমরা নিঃস্ব হয়েগেছি।ডাক্তার দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা দিয়েছিল। কিন্তু টাকার অভাবে পারি নাই। ওকে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা করালে মনে হয় ভালো হতো।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে ওকে ঘরে রেখেছিলাম। কিন্তু সব কিছু ভেঙ্গে ফেলে। এরপর রাস্তার পাশে একটি পাকা করে তার উপর প্রায় ২৫ বছর শিকলবন্দি করে রেখেছি। কেউ একটি ছোট পাকা ঘর করে দিলে বিমল রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেত।

কোটালীপাড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রাকিবুল হাসান শুভ বলেন, বিমল হালদারের বিষয়ে কেউ কখনও আমাদের কাছে জানায়নি। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি জেনে যতটুকুস সম্ভব সমাজসেবা দপ্তর থেকে তাকে সহায়তা করা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

খোলা আকাশের নিচে ২৫ বছর ধরে শিকলবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন বিমল হালদার

আপডেট সময় : ০৪:১৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

২৫ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে শিকলবন্দী অবস্থায় কাটছে মানসিক প্রতিবন্ধী বিমল হালদারের (৫৫) জীবন।

বিমল হালদার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের চন্দ্র কান্ত হালদারের ছেলে।
৩০ বছর আগে এইচ এস সি পরীক্ষার সময় হঠাৎ করে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয় বিমল হালদারের। বন্ধ হয়ে যায় পরীক্ষা। দিন দিন বেড়ে যায় অস্বাভাবিক আচরণ। পরিবারের লোকজন তখন বিমল হালদারকে নিয়ে যায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে। সেখানে ৩ মাস চিকিৎসার পর নিয়ে যাওয়া হয় ভারতে। চিকিৎসকেরা জানান বিমল মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। এই ভালো তো এই মন্দ।
এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ মতে বিয়ে দেওয়া হয় বিমলকে। এতে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে ১ ছেলে ও ১ মেয়ের বাবা হন বিমল হালদার। মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক আচরণ করায় বিমলের স্ত্রী ২ সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। বন্ধ করে যোগাযোগ। স্ত্রী সন্তান চলে যাওয়ার পরে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে বিমল হালদার। এলাকাবাসীর অভিযোগে ঘরবন্দি করে রাখা হয়।
একটু ছাড়া পেলেই যাকে সামনে পেতো তাকেই মারধোর করতো। মানুষের ঘর-বাড়ি ভাংচুর করতো। অনেক সময় মহিলাদের জাপটে ধরতো। প্রতিনিয়ত আসতো প্রতিবেশীদের অভিযোগ। অভিযোগের পাল্লা যখন ভারী হয়ে ওঠে তখন মানসিক ভারসাম্যহীন বিমল হালদার কে তার পরিবারের লোকজন শিকলবন্দী করে ফেলে।
এই অবস্থায় কেটে যায় ২৫ টি বছর। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে দিন কাটে বিমল হালদারের।এমনকি প্রচন্ড শীতের মধ্যে তাকে ফাঁকা জায়গায় একাকি রাত্রীযাপন করতে হয়।
গত শনিবার (০৩ মে) সরেজমিনে পুর্বপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ীর পাশে একটি খাল পাড়ে একটি রেইন্ট্রি গাছের নিচে কিছু ইট দিয়ে ৫ ফুট চওড়া ও ৮ ফুট দৈর্ঘ একটি পাকা স্থান তৈরী করে তার উপর শিকলবন্দী অবস্থায় বিমল হালদারকে রাখা হয়েছে।
এখানেই বিমল হালদারকে খাবার দেওয়া হয়। এই পাকা জায়গা টুকুর উপরই তার রাত দিন কাটে। দিন, মাস পেড়িয়ে কেটে গেছে ২৫টি বছর।
বিমল হালদারের পরিবার ও একাবাসির দাবী, বিমল হালদারকে সু-চিকিৎসা দিলে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিলতে পারবে।

বিমল হালদারের বৌদি সঞ্জিতা হালদার বলেন, আইএ পরীক্ষার সময় থেকে বিমল আমাদের সাথে অস্বাভাবিক আচারণ করতে থাকে।এরপর তাকে বিয়ে দেই। বিয়ের পর সে কখনো ভালো, কখনো খারাপ অবস্থায় ছিল। এর মাঝে সে দুই সন্তানের জনক হয়। সে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া ও মারধর করার কারনে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। এরপর বিমল পুরোপুরি পাগল হয়ে যায়।

বিমলের বড় ভাই জগদিশ হালদার বলেন, ভারত,পাবনা,ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিমলের চিকিৎসা করাতে আমরা নিঃস্ব হয়েগেছি।ডাক্তার দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা দিয়েছিল। কিন্তু টাকার অভাবে পারি নাই। ওকে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা করালে মনে হয় ভালো হতো।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে ওকে ঘরে রেখেছিলাম। কিন্তু সব কিছু ভেঙ্গে ফেলে। এরপর রাস্তার পাশে একটি পাকা করে তার উপর প্রায় ২৫ বছর শিকলবন্দি করে রেখেছি। কেউ একটি ছোট পাকা ঘর করে দিলে বিমল রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেত।

কোটালীপাড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রাকিবুল হাসান শুভ বলেন, বিমল হালদারের বিষয়ে কেউ কখনও আমাদের কাছে জানায়নি। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি জেনে যতটুকুস সম্ভব সমাজসেবা দপ্তর থেকে তাকে সহায়তা করা হবে।