ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

জনস্বার্থে বাধা সৃষ্টিকারীর স্থাপনা উচ্ছেদ করলেন- ইউএনও

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়ন। যেখানে একটি মাটির রাস্তা নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছে ১৫বছর ধরে প্রায় ৮ গ্রামের ৬ হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ওই গ্রামবাসীর চলাচলে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ। পাশাপাশি যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী থাকায় ওই পরিবারগুলো পরিবহন করতে পারে না এলাকার উৎপাদিত কৃষিপন্য বা অন্যান্য সামগ্রী।

তাদের দুর্ভোগ লাঘবে ইউপি চেয়ারম্যানের আবেদনের ভিত্তিতে গ্রামীন সড়ক উন্নয়নে মাটির রাস্তার বিপরীতে ইটের রাস্তার প্রকল্প অনুমোদন হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ খুশী হলেও রাস্তাটি নির্মানে বাধা দেয় রাড়ী কান্দি গ্রামের ফটিক বেপারী ও তার পরিবারের লোকজন।

আজ রবিবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানা রাস্তার কয়েক ফুট অংশ জুড়ে থাকা ফটিক বেপারীর দুটি ছাপড়া ঘর উচ্ছেদ করেন। এতে করে ওই রাস্তা নির্মান শেষ হলে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ শেষ হবে বলে জানান স্থানীয়রা।

জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগ সদরপুর উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায় চরমানাইর ইউনিয়নের রাড়ী কান্দি ফটিক বেপারীর বাড়ি হতে ত্রানের ব্রীজ পর্যন্ত এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইটের রাস্তা অনুমোদন করে টেন্ডার দেওয়া হয়। ওই রাস্তা নির্মান করতে গেলে বাঁধার মুখে পড়ে ঠিকাদার ফকির আল মামুন ও সদরপুর সহকারী প্রকৌশলী মো: সিরাজুল ইসলাম। এ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাম ও কয়েকশত এলাকাবাসী সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানার নিকট বিষয়টি অবহিত করেন।

পরে তিনি (ইউএনও) সরেজমিনে গিয়ে এলাকার উন্নয়নের জন্য ফটিক বেপারী কে তিন কার্যদিবসের মধ্যে রাস্তার অংশ জুড়ে থাকা দোচালা দুটি টিনের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য গত ৩০শে এপ্রিল নোটিশ প্রদান করেন। তারপরও তিনি (ফটিক বেপারী) তার ঘর সরিয়ে নেয়নি। এর ফলে জনস্বার্থে আজকের এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামের ভাষ্য আমি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনবার শালিশ বৈঠক করেছি। কিন্তু তারা কোনোভাবেই রাস্তা হোক তা চান না। এলাকার উন্নয়নের জন্য যেখানে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করবে এবং যানবাহন চলবে সেখানে তারা বাধা দিচ্ছিল।

ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক শেখ বলেন, আমরা ঈদের চেয়ে বেশি খুশি। আজকে এই (ইউএনও) এলাকাবাসীর জন্য যে উপকার করলেন এইজন্য এলাকার মানুষ সারাজীবন তার জন্য দোয়া করবে। মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তাটি খুবই দরকার ছিলো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়রা আমার নিকট বিষয়টি জানান, আমি সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার দু’পাশের বাসিন্দাদের তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলি। একপক্ষ সরিয়ে নিলেও ফটিক বেপারীর তার দোচালা টিনের ঘর সরিয়ে নেননি। এলাকার সড়ক উন্নয়নে ও জনগনের আবেদনের ভিত্তিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন এখন রাস্তা হওয়ার কারনে প্রতিদিন হাজার হাজার জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল করতে পারবেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

জনস্বার্থে বাধা সৃষ্টিকারীর স্থাপনা উচ্ছেদ করলেন- ইউএনও

আপডেট সময় : ০২:৫৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়ন। যেখানে একটি মাটির রাস্তা নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছে ১৫বছর ধরে প্রায় ৮ গ্রামের ৬ হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ওই গ্রামবাসীর চলাচলে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ। পাশাপাশি যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী থাকায় ওই পরিবারগুলো পরিবহন করতে পারে না এলাকার উৎপাদিত কৃষিপন্য বা অন্যান্য সামগ্রী।

তাদের দুর্ভোগ লাঘবে ইউপি চেয়ারম্যানের আবেদনের ভিত্তিতে গ্রামীন সড়ক উন্নয়নে মাটির রাস্তার বিপরীতে ইটের রাস্তার প্রকল্প অনুমোদন হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ খুশী হলেও রাস্তাটি নির্মানে বাধা দেয় রাড়ী কান্দি গ্রামের ফটিক বেপারী ও তার পরিবারের লোকজন।

আজ রবিবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানা রাস্তার কয়েক ফুট অংশ জুড়ে থাকা ফটিক বেপারীর দুটি ছাপড়া ঘর উচ্ছেদ করেন। এতে করে ওই রাস্তা নির্মান শেষ হলে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ শেষ হবে বলে জানান স্থানীয়রা।

জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগ সদরপুর উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায় চরমানাইর ইউনিয়নের রাড়ী কান্দি ফটিক বেপারীর বাড়ি হতে ত্রানের ব্রীজ পর্যন্ত এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইটের রাস্তা অনুমোদন করে টেন্ডার দেওয়া হয়। ওই রাস্তা নির্মান করতে গেলে বাঁধার মুখে পড়ে ঠিকাদার ফকির আল মামুন ও সদরপুর সহকারী প্রকৌশলী মো: সিরাজুল ইসলাম। এ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাম ও কয়েকশত এলাকাবাসী সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানার নিকট বিষয়টি অবহিত করেন।

পরে তিনি (ইউএনও) সরেজমিনে গিয়ে এলাকার উন্নয়নের জন্য ফটিক বেপারী কে তিন কার্যদিবসের মধ্যে রাস্তার অংশ জুড়ে থাকা দোচালা দুটি টিনের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য গত ৩০শে এপ্রিল নোটিশ প্রদান করেন। তারপরও তিনি (ফটিক বেপারী) তার ঘর সরিয়ে নেয়নি। এর ফলে জনস্বার্থে আজকের এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামের ভাষ্য আমি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনবার শালিশ বৈঠক করেছি। কিন্তু তারা কোনোভাবেই রাস্তা হোক তা চান না। এলাকার উন্নয়নের জন্য যেখানে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করবে এবং যানবাহন চলবে সেখানে তারা বাধা দিচ্ছিল।

ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক শেখ বলেন, আমরা ঈদের চেয়ে বেশি খুশি। আজকে এই (ইউএনও) এলাকাবাসীর জন্য যে উপকার করলেন এইজন্য এলাকার মানুষ সারাজীবন তার জন্য দোয়া করবে। মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তাটি খুবই দরকার ছিলো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়রা আমার নিকট বিষয়টি জানান, আমি সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার দু’পাশের বাসিন্দাদের তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলি। একপক্ষ সরিয়ে নিলেও ফটিক বেপারীর তার দোচালা টিনের ঘর সরিয়ে নেননি। এলাকার সড়ক উন্নয়নে ও জনগনের আবেদনের ভিত্তিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন এখন রাস্তা হওয়ার কারনে প্রতিদিন হাজার হাজার জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল করতে পারবেন।