জমিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন দেখে মুখি হাসি ফুটলেও বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় হতাশায় ভূগছেন কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের তারাশী গ্রামের কৃষক হিটু তালুকদার। ১৭ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করে এবার রেকর্ড পরিমান ধান পেয়েছেন তিনি।প্রতি বিঘা জমিতে ধান পেয়েছেন ৫০ মন। এতো পরিমান ধান কোন বছর উৎপাদন হয়নি বলে জানান এই কৃষক। তবে ধানের উৎপাদন খরচ বেশী ও বাজারে বর্তমান বিক্রিমূল্য কম থাকার কারণে হতাশার মধ্য দিয়ে ধান ঘরে তোলার কাজ করছেন তিনি।
শুধু হিটু তালুকদারই নয় এ অবস্থা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সকল কৃষকদের মাঝে।
উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানাগেছে, এ বছর ২৬ হাজার ৭শত ৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে এবং লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৬ হাজার ৩ শত ১৪ মেট্রিকটন।
গত বছর এ উপজেলায় ২৬ হাজার ৬ শত ১৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। আর ধান উৎপাদন হয়েছিল ১লক্ষ ৯৮ হাজার ২শত ৭৫ মেট্রিকটন।
গত বছরের চেয়ে এ বছর ১ শত ৭৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বেশী হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে এ বছর ৮ হাজার ৩৯ মেট্রিকটন ধান বেশী উৎপাদন হবে বলে উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে।
বর্তমানে কোটালীপাড়ার হাট বাজারগুলোতে ৯শত ৫০ টাকা করে ধান বিক্রি হচ্ছে বলে সরেজমিনে জানাগেছে।তাই এ উপজেলার বোরো চাষীরা ধানের দাম বৃদ্ধি ও সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহের কোটা বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন।
এ বছর কোটালীপাড়া উপজেলায় ২ হাজার ৬০ মেট্রিকটন ধান সরকারি ভাবে বোরো আবাদিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে বলে উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানাগেছে।
উপজেলার চিতশী গ্রামের নূর মোহাম্মাদ শেখ বলেন, ১২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা পাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর কোটালীপাড়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে খরচ অনুযায়ি ভালো দাম পাচ্ছি না। বর্তমানে হাটে ৯শত ৫০ টাকা করে ধানের মন বিক্রি হচ্ছে। যদি দাম না বাড়ে তা হলে আমাদের আবাদে লাভ হবে না।অন্যদিকে সরকারিভাবে প্রতি মন ধানের দাম বেশি থাকলেও নামমাত্র পরিমান ধান সরকারিভাবে ক্রয় সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা।
কুরপালা গ্রামের আতা উল্লাহ শেখ বলেন, আমি এ বছর ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছিলাম।সকল জমিতে গত বছরের চেয়ে এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে সব ধান একসাথে পেকে যাওয়ায় ধান কাটা চাষিদের সংকট দেখা দিয়েছে। ১ জনকে দৈনিক ১ হাজার টাকা মুজুরী দিয়েও কৃষক পাওয়া যাচ্ছে না। সবমিলিয়ে উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজরে ধান বিক্রি করতে গিয়ে কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছি।
গুয়াখোলা গ্রামের কালী পদ দে বলেন, কোটালীপাড়ায় প্রচুর ধান হয়। যে পরিমান ধান উৎপাদন হয় সে পরিমান ধান সরকার এ উপজেলা থেকে সংগ্রহ করে না। তাই এই উপজেলায় ধান সংগ্রহের কোটা বাড়ানোর দাবী জানাচ্ছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার দোলন চন্দ্র রায় বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর কোটালীপাড়া উপজেলায় ১ শত ৭৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বেশী হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে দরিদ্র কৃষকদের বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে প্রান্তিক কৃষকদের সাথে যোগাযোগ রেখে কৃষি পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, এ বছর আমাদের উপজেলা থেকে ২ হাজার ৬৪ মেট্রিকটন ধান সরকারি ভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করা হবে।এই কোঠা বাড়ানোর জন্য আমরা চেষ্টা করবো।
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, গোপালগঞ্জ 


















