কক্সবাজার সৈকতে অবৈধ বীচ বাইক কমিটির বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমানের ডান হাত খ্যাত ১১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য আব্দুল মালেক ও রাশেল। তারা এই সব অপকর্মের হোতা বলে জানা যায়।
কক্সবাজার বীচ বাইক মালিক সমিতির সদস্যদের জনপ্রতি জামানত বাবদ বিশ হাজার টাকা করে এবং দৈনিক একশত টাকা করে সদস্যদের উন্নয়ন ফি এবং অফিস খরচের নামে চাঁদা নিয়ে থাকেন মোটো ফোনে যোগাযোগ করা হলে এমনই কথা বলেন আব্দুল মালেক। যার কোনো অংশ সদস্যদের উন্নয়নে ব্যবহার করা হয় নি।যদি কোনো সদস্য উন্নয়ন ফি সম্পর্কে জানতে চায় তবে তার সাথে দূঃব্যবহার করেন বলে জানান সমিতির সাধারণ সদস্যরা।
রাসেল ও আব্দুল মালেকের যোগ সাজসে গত সরকারের শাসনামলের জামানত ও উন্নয়ন ফি’র বিগত১৬ বছরের উত্তোলনের কোটি টাকা দূর্নীতি করে নিজেরদের পকেটস্থ করেছেন। দুই সহযোগীর মধ্যে রাসেল কক্সবাজার বীচ বাইক মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং আব্দুল মালেক সাধারণ সম্পাদক উল্লেখিত ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাইলে একেক জন একেক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তমুলক তথ্য দেন।
সমিতির দূর্নীতি সম্পর্কে জেলা সমবায় অফিসার মোস্তফা কামালের সাথে মোটো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান এই ধরনের সমবায় সমিতির নামে কেউ সাধারণ সদস্যদের টাকা নয়ছয় করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহন করবো এবং তিনি আরও জানান বিষয়টি আমরা আমলে নিয়েছি।
জেলা প্রশাসকের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যাট বলেন, বেইআইনী ভাবে কেউ চাঁদা নিলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবেই অচিরেই যদি উপযুক্ত প্রমাণ থাকে।
গত ২ বছর আগে পর্যটক এলাকার কটেজ জোনে অবৈধভাবে পতিতা ব্যবসা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন এই আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নারী কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন মামলাও রয়েছে।
এছাড়া সৈকতে ভাড়ায় চালিত প্রায় ১৭০ টি বীচ বাইক থাকলেও একটিরও লাইসেন্স না থাকার কারণে পর্যটন ম্যাজিস্ট্র্যাট বেশ কয়েকটি বীচ বাইক আটক করেছিল। সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানান।
সৈকতে বীচ বাইক চালানোর সময় সীমা সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত প্রশাসনের অনুমতি থাকলেও বীচ বাইকাররা রাত নয়টা পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতে চলতে দেখা যায়। জেলা প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সৈকতে নির্ধারিত জোনে চালানোর নির্দেশনা দেওয়া থাকলেও তা মানছে না। বীচ বাইকে পর্যটকদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
পর্যটক হয়রানি ও বীচ বাইকের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা না নিলে অচিরেই সৈকতের পরিবেশ নষ্ট ও পর্যটক হয়রানি বন্ধ হবে না এমনটা মনে করেন কক্সবাজারের সুশীল সমাজ।
আজাদ ( কক্সবাজার) 


















