গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১০টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে।অগ্নিকান্ডে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কুশলা বাজারে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির ও গোপালগঞ্জ ৩ আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিম।
প্রত্যক্ষদর্শী শহীদ ফকির বলেন, গতরাতে আমি দোকানে ঘুমিয়ে ছিলাম। আনুমানিক রাত ৩ টার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। দেখি দোকানে আগুন লেগেছে। আমি দোকানের ঝাপ খুলে বাইরে এসে দেখি আমার দোকানসহ পাশের দোকানগুলো আগুন পুড়ছে। এরপর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেই। ফায়ার সার্ভিস এসে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিভায়। ততোক্ষনে ইমরুল মোল্লা, ওমর আলী মৃধার ও শরিফুল ফকিরের মুদিমালের দোকান, সাইদুল শেখ, শহীদ ফকির ও আমিন চৌধুরীর চায়ের দোকান, কামরুল চৌধুরীরর ওষুধের দোকান, কপিল বিশ্বাসের মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স দোকান, গোপাল শীলের সেলুন এবং রিয়াজ চৌধুরীর মৎস্য অফিস ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাই।
কোটালীপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত আমরা কুশলা বাজারে ছুটে যাই। ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনি। ততোক্ষনে ১০ টি দোকান পুড়ে যায়। দোকানগুলো কাঠ ও টিনের হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কোন কারন জানা যায় নাই।
শরিফুল ফকির বলেন, কয়েকটি এনজিও থেকে লোন নিয়ে দোকান করি। আগুনে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছি। কিভাবে পরিশোধ করবো ঋণের টাকা, কিভাবে সংসার চলবে ভেবে পাচ্ছি না। আগুনে আমাদের ১০ দোকানে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈনুল হক বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। বিষয়টি জেনেছি। সোমবার কোটালীপাড়া এসে দুর্ঘটনাস্থলে যাবো। সরকারিভাবে যতটুকু সম্ভব ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করা হবে।
গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ঘটনস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি খুবই মর্মস্পর্শী। আমি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। তাছাড়া জামায়াতের পক্ষ থেকে আমরা যথাসম্ভব পাশে থাকবো।
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, গোপালগঞ্জ 


















