ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

কক্সবাজার সৈকতে চাঁদাবাজির রাজত্ব: আওয়ামী লীগের তিন নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • ৯৯ বার পড়া হয়েছে

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরও থামেনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের চাঁদাবাজির অনিয়ম। অভিযোগ উঠেছে, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রভাবশালী তিন নেতা—আনোয়ারুল ইসলাম হিরো, শেখ মোঃ রাসেল ও আব্দুল মালেক—এখনও দোর্দণ্ড প্রতাপে সৈকতজুড়ে চাঁদাবাজি ও অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিবাদীরা জানান, কক্সবাজার বীচ বাইক মালিক সমবায় সমিতির নেতৃত্বে থাকা এই তিন নেতা গত ১৬ বছর ধরে সৈকতের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে গঠিত বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির নাম ব্যবহার করে তারা লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছেন বীচ বাইক মালিকদের কাছ থেকে।

প্রতিটি গাড়ির জন্য ২০,০০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, পাশাপাশি সদস্যদের কাছ থেকে দৈনিক ১০০ টাকা করে ‘উন্নয়ন চাঁদা’ নেওয়া হয়। মাসিক চাঁদা নির্ধারিত সময়ে না দিলে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে জব্দ করা হয় বাইক।

সাধারণ ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন—এই টাকা কোথায় যায়? সমিতির নামে নেওয়া চাঁদার যথাযথ হিসাব নেই, এমনকি অনেক সদস্যের বৈধ লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টও নেই, যার ফলে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

জানা গেছে, ৫ আগস্টের আগে শেখ হাসিনার শাসনামলে সমুদ্র সৈকতের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন শেখ রাসেল ও মালেক। তারা কক্সবাজার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি একটি অনুসন্ধান টিম সমুদ্র সৈকতের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তারা অচিরেই এই অবৈধ সমিতি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এছাড়াও, ২ বছর আগে কটেজ জোনে অবৈধভাবে দেহব্যবসা পরিচালনার সময় পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক। তার বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারি ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।

সৈকতের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত টিম গঠন করে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজার সৈকতে চাঁদাবাজির রাজত্ব: আওয়ামী লীগের তিন নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:১৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরও থামেনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের চাঁদাবাজির অনিয়ম। অভিযোগ উঠেছে, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রভাবশালী তিন নেতা—আনোয়ারুল ইসলাম হিরো, শেখ মোঃ রাসেল ও আব্দুল মালেক—এখনও দোর্দণ্ড প্রতাপে সৈকতজুড়ে চাঁদাবাজি ও অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিবাদীরা জানান, কক্সবাজার বীচ বাইক মালিক সমবায় সমিতির নেতৃত্বে থাকা এই তিন নেতা গত ১৬ বছর ধরে সৈকতের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে গঠিত বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির নাম ব্যবহার করে তারা লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছেন বীচ বাইক মালিকদের কাছ থেকে।

প্রতিটি গাড়ির জন্য ২০,০০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, পাশাপাশি সদস্যদের কাছ থেকে দৈনিক ১০০ টাকা করে ‘উন্নয়ন চাঁদা’ নেওয়া হয়। মাসিক চাঁদা নির্ধারিত সময়ে না দিলে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে জব্দ করা হয় বাইক।

সাধারণ ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন—এই টাকা কোথায় যায়? সমিতির নামে নেওয়া চাঁদার যথাযথ হিসাব নেই, এমনকি অনেক সদস্যের বৈধ লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টও নেই, যার ফলে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

জানা গেছে, ৫ আগস্টের আগে শেখ হাসিনার শাসনামলে সমুদ্র সৈকতের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন শেখ রাসেল ও মালেক। তারা কক্সবাজার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি একটি অনুসন্ধান টিম সমুদ্র সৈকতের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তারা অচিরেই এই অবৈধ সমিতি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এছাড়াও, ২ বছর আগে কটেজ জোনে অবৈধভাবে দেহব্যবসা পরিচালনার সময় পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক। তার বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারি ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।

সৈকতের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত তদন্ত টিম গঠন করে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।