ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

কোটালীপাড়ায় এক পাগলী হয়েছেন মা, বাবা হলেন না কেউ

দরজা-জানালা বিহীন ভাঙ্গাচোড়া পরিত্যাক্ত এক ঘরে অগোছালো চুল ও ছেড়া-ময়লা পোষাকের এক মহিলার কোলে নবজাতক শিশু। বাড়ীর বাড়ীর উঠানে ভিড় করছেন এলাকার বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। সকলেই আগ্রহ নিয়ে দেখতে এসেছে নবজাতক শিশুটিকে।

শিশুটির মা ৩৫ বছর বয়সী মাহমুদা খানম মানসিক ভারসাম্যহীন এক পাগলী। গতকাল শনিবার বিকেলে এই ঘরেই মাহামুদা খানম এক পুত্র সন্তানের মা হয়েছে। তবে সন্তানের বাবা হয়নি কেউ। কে এই সন্তানের বাবা এই নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝেচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মাহমুদা খানম সিতাইকুন্ড গ্রামের দিনমজুর মালেক মিয়া ও গৃহিনী জয়েদা বেগমের মেয়ে। ৫ সন্তানের মধ্যে মাহমুদা সকলের বড়।
মাহমুদার মা বলেন, মাহামুদা খানম ১০ বছর আগে পরিবারের অভাবের তাড়নায় ঢাকায় গামের্ন্টেসে চাকুরি নেয়। সেখানে ভালবেসে এক ছেলেকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর ওই ছেলে মাহমুদাকে ছেড়ে চলে গেলে মানসিক ভারসাম্য হয়ে পড়েন। এরপর গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন।
বাড়িতে এসে স্থানীয় সিতাইকুন্ড বাজারসহ আশেপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। অনেক চেষ্টা করেও মাহামুদাকে বাড়িতে আটকে রাখতে পারি নাই।
কয়েকমাস আগে থেকে মাহামুদার শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলেও আমরা আমলে নেই নাই। এভাবেই কয়েকমাস কেটে যায়। তবে কিছুদিন আগে বিষয়টি বুঝতে পেরে জানার চেষ্টা করলে মাহমুদা বাড়ি থেকে চলে যায়। কিছু বলতে গেলে সবাইকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি এমনকি মারধোর করতে আসে।
গত শনিবার বিকালে মাহামুদা পুত্র সন্তানের মা হয়। কিন্তু এই সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন না কেউ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী বলেন, গত দু’বছর আগেও মাহমুদা একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল। তখন মাহামুদার গর্ভপাত করানো হয়।
এদিকে এই সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরে মাহামুদার দরিদ্র পিতামাতা সামাজিক ও আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়েছেন বলে মাহামুদার মা-বাবা জানিয়েছেন। তারা আরো বলেন, নিজেরাই ঠিকমত খেতে পারিনা। এই অবস্থায় আমরা মাহমুদার সন্তানের দায়িত্ব নিতে পারবো না।
সন্তানের পিতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পাগলী মাহমুদা বলেন, সময় হলেই আমি ওর বাপের নাম বলে দিবো। সে এখন বিদেশে আছে।
পাগলী মাহমুদা আরো বলেন, আমি খুব কষ্টে আছি। গতকাল থেকে কিছুই খাই নাই। সারা শরীর ব্যাথ্যা। কেউ কোন ওষুধ দেয় না।
নবজাতককে দত্তক দিবেন কিনা এমন প্রশ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে পাগলী মাহমুদা বলেন, ও আমার অনেক কষ্টের ফসল। কাউকে বাচ্চা দিবো না। ভিক্ষা করে খাওয়াবো।
পাগলী মাহমুদার প্রতিবেশী রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য মাহমুদা বেগম বলেন, দিন নাই রাত নাই মেয়েটা ঘুরে বেড়ায়। মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়েছে কয়েক বছর আগে। তবে মাঝে মাঝে খুব ভালো কথা বলে। সবাইকে চিনে। আবার মাঝে মাঝে পাগলের মত আচরণ করে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

কোটালীপাড়ায় এক পাগলী হয়েছেন মা, বাবা হলেন না কেউ

আপডেট সময় : ০৫:১৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

দরজা-জানালা বিহীন ভাঙ্গাচোড়া পরিত্যাক্ত এক ঘরে অগোছালো চুল ও ছেড়া-ময়লা পোষাকের এক মহিলার কোলে নবজাতক শিশু। বাড়ীর বাড়ীর উঠানে ভিড় করছেন এলাকার বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। সকলেই আগ্রহ নিয়ে দেখতে এসেছে নবজাতক শিশুটিকে।

শিশুটির মা ৩৫ বছর বয়সী মাহমুদা খানম মানসিক ভারসাম্যহীন এক পাগলী। গতকাল শনিবার বিকেলে এই ঘরেই মাহামুদা খানম এক পুত্র সন্তানের মা হয়েছে। তবে সন্তানের বাবা হয়নি কেউ। কে এই সন্তানের বাবা এই নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝেচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মাহমুদা খানম সিতাইকুন্ড গ্রামের দিনমজুর মালেক মিয়া ও গৃহিনী জয়েদা বেগমের মেয়ে। ৫ সন্তানের মধ্যে মাহমুদা সকলের বড়।
মাহমুদার মা বলেন, মাহামুদা খানম ১০ বছর আগে পরিবারের অভাবের তাড়নায় ঢাকায় গামের্ন্টেসে চাকুরি নেয়। সেখানে ভালবেসে এক ছেলেকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর ওই ছেলে মাহমুদাকে ছেড়ে চলে গেলে মানসিক ভারসাম্য হয়ে পড়েন। এরপর গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন।
বাড়িতে এসে স্থানীয় সিতাইকুন্ড বাজারসহ আশেপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। অনেক চেষ্টা করেও মাহামুদাকে বাড়িতে আটকে রাখতে পারি নাই।
কয়েকমাস আগে থেকে মাহামুদার শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলেও আমরা আমলে নেই নাই। এভাবেই কয়েকমাস কেটে যায়। তবে কিছুদিন আগে বিষয়টি বুঝতে পেরে জানার চেষ্টা করলে মাহমুদা বাড়ি থেকে চলে যায়। কিছু বলতে গেলে সবাইকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি এমনকি মারধোর করতে আসে।
গত শনিবার বিকালে মাহামুদা পুত্র সন্তানের মা হয়। কিন্তু এই সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন না কেউ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী বলেন, গত দু’বছর আগেও মাহমুদা একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল। তখন মাহামুদার গর্ভপাত করানো হয়।
এদিকে এই সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরে মাহামুদার দরিদ্র পিতামাতা সামাজিক ও আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়েছেন বলে মাহামুদার মা-বাবা জানিয়েছেন। তারা আরো বলেন, নিজেরাই ঠিকমত খেতে পারিনা। এই অবস্থায় আমরা মাহমুদার সন্তানের দায়িত্ব নিতে পারবো না।
সন্তানের পিতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পাগলী মাহমুদা বলেন, সময় হলেই আমি ওর বাপের নাম বলে দিবো। সে এখন বিদেশে আছে।
পাগলী মাহমুদা আরো বলেন, আমি খুব কষ্টে আছি। গতকাল থেকে কিছুই খাই নাই। সারা শরীর ব্যাথ্যা। কেউ কোন ওষুধ দেয় না।
নবজাতককে দত্তক দিবেন কিনা এমন প্রশ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে পাগলী মাহমুদা বলেন, ও আমার অনেক কষ্টের ফসল। কাউকে বাচ্চা দিবো না। ভিক্ষা করে খাওয়াবো।
পাগলী মাহমুদার প্রতিবেশী রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য মাহমুদা বেগম বলেন, দিন নাই রাত নাই মেয়েটা ঘুরে বেড়ায়। মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়েছে কয়েক বছর আগে। তবে মাঝে মাঝে খুব ভালো কথা বলে। সবাইকে চিনে। আবার মাঝে মাঝে পাগলের মত আচরণ করে।