ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

নওগাঁয় খাল দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের বনগ্রাম গুচ্ছগ্রামে খাল দখল করে জোরপূর্বক মাছ ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এক সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার ভূমিহীন বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গুচ্ছগ্রামে ২৭০টি ঘরে ১৬০টি পরিবারের বসবাস। খালটি দীর্ঘদিন ধরে হাঁস পালন, গবাদিপশুর পানি পান ও মাছ চাষের জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন তাঁরা। সম্প্রতি সমিতির উদ্যোগে প্রায় ৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কচুরিপানা অপসারণসহ খাল পরিষ্কার করা হয়। এরপরই কোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও বিএনপির ওয়ার্ড সহসভাপতি ফারুক হোসেন হঠাৎ খালে মাছ ছেড়ে দেন। তিনি খালটিকে নিজের দাবি করে তা দখলে নেন বলে অভিযোগ।

গুচ্ছগ্রাম সমিতির সভাপতি আব্দুল জব্বার বলেন, ‘গরিব মানুষের টাকা দিয়ে খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। আমরা সবাই মিলে মাছ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু ফারুক মেম্বার জোর করে মাছ ছেড়ে দেন।’

সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেনের অভিযোগ, ‘ফারুক মেম্বারের খালের পাশে ২ শতাংশ জমি থাকলেও তা দিয়ে পুরো খাল দখল করার কোনো অধিকার নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দা বিলকিস বানু বলেন, ‘আমরা বছর বছর এই খালেই মাছ চাষ করি। গরিব মানুষ একটু হাঁস-পাখি পালন করি। এখন উনি এসে বলছেন, এটা তাঁর খাল!’

অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামের মধ্যে আমার ও হাসান চৌধুরীর ৪১ শতাংশ জমি আছে। খালটি আমার জমির অংশের মধ্যেই পড়ে, তাই মাছ ছেড়েছি।’

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামটি মূলত সরকারি খাসজমিতে গড়ে উঠেছে। কাগজপত্র যাচাই না করে কিছু বলা যাচ্ছে না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খালটি ফিরে পেতে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নওগাঁয় খাল দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ১২:৩৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের বনগ্রাম গুচ্ছগ্রামে খাল দখল করে জোরপূর্বক মাছ ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এক সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার ভূমিহীন বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গুচ্ছগ্রামে ২৭০টি ঘরে ১৬০টি পরিবারের বসবাস। খালটি দীর্ঘদিন ধরে হাঁস পালন, গবাদিপশুর পানি পান ও মাছ চাষের জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন তাঁরা। সম্প্রতি সমিতির উদ্যোগে প্রায় ৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কচুরিপানা অপসারণসহ খাল পরিষ্কার করা হয়। এরপরই কোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও বিএনপির ওয়ার্ড সহসভাপতি ফারুক হোসেন হঠাৎ খালে মাছ ছেড়ে দেন। তিনি খালটিকে নিজের দাবি করে তা দখলে নেন বলে অভিযোগ।

গুচ্ছগ্রাম সমিতির সভাপতি আব্দুল জব্বার বলেন, ‘গরিব মানুষের টাকা দিয়ে খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। আমরা সবাই মিলে মাছ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু ফারুক মেম্বার জোর করে মাছ ছেড়ে দেন।’

সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেনের অভিযোগ, ‘ফারুক মেম্বারের খালের পাশে ২ শতাংশ জমি থাকলেও তা দিয়ে পুরো খাল দখল করার কোনো অধিকার নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দা বিলকিস বানু বলেন, ‘আমরা বছর বছর এই খালেই মাছ চাষ করি। গরিব মানুষ একটু হাঁস-পাখি পালন করি। এখন উনি এসে বলছেন, এটা তাঁর খাল!’

অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামের মধ্যে আমার ও হাসান চৌধুরীর ৪১ শতাংশ জমি আছে। খালটি আমার জমির অংশের মধ্যেই পড়ে, তাই মাছ ছেড়েছি।’

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামটি মূলত সরকারি খাসজমিতে গড়ে উঠেছে। কাগজপত্র যাচাই না করে কিছু বলা যাচ্ছে না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খালটি ফিরে পেতে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।