বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী বলেনছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর এদেশের মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি।ভোট আমাদের নাগরিক অধিকার। বিগত সরকার আমাদের সেই অধিকারকে হরণ করেছিল। আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে জনগণের সেই ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনেছে।
আজ শনিবার উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে স্থানীয় শেখ লুৎফর রহমান সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনগণের ভোটে বৈধ প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফকরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন দেশরত্ন খালেদা জিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে বিদেশে যেতে বলেছিল। এমনকি বিমান বন্দরে তারা বিমানও প্রস্তুত করে রেখেছিল। সেইদিন আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন মরে গেলেও বিদেশে যাবো না। আমার নেত্রী সেইদিন বিদেশে না গিয়ে এদেশের মাটিতে থেকে গিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াকে যারা চল্লিশ বছর বসবাসকৃত ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন আজ তারা দেশ থেকে বিতারিত হয়েছেন।
বিগত সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে স্বেচ্ছাসেবক দলের এই শীর্ষ নেতা বলেন, তিনি হালাল ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। তিনি হারাম ভোটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিও গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসন থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে দেওয়া হয়নি। আমাকে অবৈধভাবে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছিল।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, অবৈধভাবে আয় করে বিরিয়ানী খাওয়ার চেয়ে সৎ উপার্জণ দিয়ে ডালভাত খাওয়া অনেক ভালো। আপনারা জনগনের সাথে এমন ব্যবহার করবেন তারা যেন আপনাদের ব্যবহারে কষ্ট না পায়। এটাই হচ্ছে শহীদ জিয়ার আর্দশ।
এস এম জিলানী আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক ও দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। সামান্য একজন সেনা অফিসার থেকে তিনি কিভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর্বিভূত হলো এবং রাষ্ট্রনায়ক হলেন এই জিনিগুলো আপনাদের জানতে হবে। আর্দশের জনকের সম্পের্কে যদি সঠিক ধারণা না রাখেন তাহলে আপনার রাজনীতি সুন্দর পরিশুদ্ধ হবে না।
কোটালীপাড়ার মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের চিন্তা করার সময় এসেছে। আপনারা কি কোন অপশক্তির সাথে থাকবেন? কোন ফ্যাসিবাদের সাথে থাকবেন?আপনারা কি কোন লুটেরা, কোন দুর্ণীতিবাজদের সাথে থাকবেন? আপনারা কি কোন হত্যাকারীদের সাথে থাকবেন?আপনারা কি যারা আপনাদের ভোট লুন্ঠন করেছে, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে তাদের সাথে থাকবেন?এই সিন্ধান্ত আপনাদের কে গ্রহণ করতে হবে। আমি রাজনীতি করি মানুষের কল্যানের জন্য। রাজনীতি করে মানুষের কাছে যাবো। মানুষ ভোটের মাধ্যমে সিন্ধান্ত নিবে কাকে এই এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এস এম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির আহবায়ক শরীফ রাফিউজ্জামান, যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট কাজী আবুল খায়ের, কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপির আহবায়ক ই্উসুফ আলী দাড়িয়া, সদস্য সচিব ওলিউর রহমান হাওলাদার বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভা শেষে বিএনপির চেয়ার পার্সন দেশরত্ন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনা করে দোয়া এবং ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালের পর কোটালীপাড়ায় এটাই ছিল বিএনপির বড় ধরনের কোন দলীয় কর্মসূচী ছিল। অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, গোপালগঞ্জ জেলা ও কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রায় ৪ হাজার মানুষ অংশ নেয়।
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: 


















