যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ইরাকের সর্বশেষ ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সেনা প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপটে ইরান ও তাদের মিত্ররা মার্কিন বাহিনীর প্রস্থানকে নিজেদের বিজয় হিসেবে উদ্যাপন করছে।
তবে, ২০০৩ সালে ইরাকের ওপর আগ্রাসনের পর থেকেই দেশটির তেল বিক্রির অর্থ কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের পুনর্গঠন ও উন্নয়নকাজে তেল রাজস্ব ব্যয় করার উদ্দেশ্য ছিল।
ইরাকের জাতীয় বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশই তেল খাত থেকে আসে। ফলে তেল রাজস্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ইরাকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ২০২০ সালে ইরাক সরকার মার্কিন সেনাদের দেশ ছাড়ার আহ্বান জানালে নিউ ইয়র্ক ফেডে থাকা তহবিলে প্রবেশাধিকার বন্ধের হুমকি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমানে ইরাকের তেল বিক্রির পুরো অর্থ নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হেফাজতে রয়েছে। ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্থানীয় বাজারে ডলার সরবরাহের জন্য ‘ডলার নিলাম’ ব্যবস্থা পরিচালনা করত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ২০২৫ সালের শুরুতে এই ব্যবস্থা বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া, ইরাকের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সুসংহত করার চেষ্টা চলছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের ফলে দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে।
প্রতিনিধির নাম 












