চট্টগ্রামের কালুরঘাটের একটি কারখানায় মাসে ১৮ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন মাসুদ। ছয় সদস্যের পরিবারে মা, স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। মাসুদ বলেন, ‘কীভাবে সংসারটা চালাব, সেটাই বুঝতে পারি না। না খেয়ে থাকব, নাকি বাচ্চাদের পড়াশোনা করাব, নাকি ওষুধের খরচ চালাব কোনটা করব?’
বর্তমানে বাজারে চাপের একটি বড় কারণ হচ্ছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। গত ২১ সেপ্টেম্বর ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দামও বেড়েছে। সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন ব্যয় ও আমদানি ব্যয়ের চাপের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও উঁচু অবস্থানে রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬০ ডলারে লেনদেন শেষ করে। এই পরিস্থিতি কৃষি, পণ্য পরিবহন ও উৎপাদনে খরচ বাড়াচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা আবু তাহের বলেন, ‘একটা জিনিস কিনলে আরেকটা বাদ দিতে হচ্ছে। ২০১০ সালে যে বেতন ছিল, এখনো সেই বেতন। বাজারে মাছ ও চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
বিদ্যুতের খরচও বাড়ছে। জুন থেকে বিদ্যুতের খুচরা দরে বড় পরিবর্তন হয়েছে, যা গড় দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। এই বাড়তি ব্যয় উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে এবং পণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।
প্রতিনিধির নাম 












