ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি মমতার দলের সাবেক সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী হচ্ছেন বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত শিবিরের সাবেক নেতাদের এনসিপিতে ফেরার হিড়িক সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ SIIS Literary Club’ -এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো চার দিনব্যাপী National Literature Festival 2026 বগুড়ায় নীরব ভোট, শেরপুর-৩ এ জামায়াতের বর্জন—নির্বাচনে ছায়া উত্তেজনা কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ডে ভয়াবহ আগুনে ৩ বাস ভস্মীভূত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন সোহেল রানা অধ্যাদেশ ইস্যুতে উত্তাপ, ড. ইউনূসকে রাস্তায় নামতে বললেন নাহিদ নববর্ষে পরিবর্তন, ‘মঙ্গল’–‘আনন্দ’ ছেঁটে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ঘোষণা ঘোড়া বিক্রি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ: ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিনের প্রতিবাদ

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দিন দিন কমছে

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দিন দিন কমছে

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের কলকাতায় খুনের নেপথ্যে চোরাচালানের অভিযোগ এসেছে। এসব ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা

 

আমাদের দেশে আইনবিরোধী অনেক ধরনের কাজ হচ্ছে। কিন্তু একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হয় না। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আবার আইনের সঠিক প্রয়োগ হতে দেখা যায় না। উচ্চপর্যায়ের লোকেরা অন্যায় করে পার পেয়ে যান।

এ কারণে আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা দিন দিন কমে যাচ্ছে। মানুষ আইন নিজের হাতে নিয়ে নিচ্ছে। এটা দুঃখজনক। আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়াতে হলে আইনকে তার সঠিক পথে চলতে দিতে হবে। এ বিষয়গুলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকার যদি বলে, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাদের সুরক্ষা দেবে না, তাহলে আমরাও আশা করতে পারি যে সরকার কাউকে ছাড় দেবে না। যাঁদের ব্যাপারে অভিযোগ এসেছে, তাঁরা তো অবসরে এখন। কিন্তু যাঁরা এখন পদে আছেন, তাঁদের সম্পর্কেও যদি অভিযোগ ওঠে, তখন সরকার যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত না করে, সেটাও সবার প্রত্যাশা।

সরকার যদি বলে থাকে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দায় তারা নিতে রাজি নয়, তাহলে কি তারা স্বীকার করছে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল? অপরাধ ব্যক্তিই করে থাকে। কিন্তু কার ছত্রচ্ছায়ায় করে, সেটা দেখতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্য থেকে যদি তারা করে, অবশ্যই ক্ষমতাসীনদের দায় আছে। তারা এড়িয়ে যেতে পারে না। তাঁরা অবসরে যাওয়ার পরে ঘটনাগুলো সামনে এসেছে। কিন্তু এটা আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।

অভিযোগ যেটাই আসুক, তার ভালোভাবে তদন্ত করতে হবে এবং সেই তদন্ত যেন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়। আইন অনুযায়ী, অভিযুক্তদের যে সুবিধা পাওয়া দরকার, তাঁরা সেটা পাবেন। কিন্তু তাঁদের অবসরের যাওয়ার আগেই এগুলো প্রকাশ্যে আসা উচিত। আর সরকারের যে দায়িত্ব, তারা সেটা এড়িয়ে যেতে পারবে বলে মনে হয় না।

  • শাহনাজ হুদা. অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবা—এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন জরুরি

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দিন দিন কমছে

আপডেট সময় : ১০:৪৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের কলকাতায় খুনের নেপথ্যে চোরাচালানের অভিযোগ এসেছে। এসব ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা

 

আমাদের দেশে আইনবিরোধী অনেক ধরনের কাজ হচ্ছে। কিন্তু একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হয় না। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আবার আইনের সঠিক প্রয়োগ হতে দেখা যায় না। উচ্চপর্যায়ের লোকেরা অন্যায় করে পার পেয়ে যান।

এ কারণে আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা দিন দিন কমে যাচ্ছে। মানুষ আইন নিজের হাতে নিয়ে নিচ্ছে। এটা দুঃখজনক। আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়াতে হলে আইনকে তার সঠিক পথে চলতে দিতে হবে। এ বিষয়গুলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকার যদি বলে, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাদের সুরক্ষা দেবে না, তাহলে আমরাও আশা করতে পারি যে সরকার কাউকে ছাড় দেবে না। যাঁদের ব্যাপারে অভিযোগ এসেছে, তাঁরা তো অবসরে এখন। কিন্তু যাঁরা এখন পদে আছেন, তাঁদের সম্পর্কেও যদি অভিযোগ ওঠে, তখন সরকার যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত না করে, সেটাও সবার প্রত্যাশা।

সরকার যদি বলে থাকে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দায় তারা নিতে রাজি নয়, তাহলে কি তারা স্বীকার করছে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল? অপরাধ ব্যক্তিই করে থাকে। কিন্তু কার ছত্রচ্ছায়ায় করে, সেটা দেখতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্য থেকে যদি তারা করে, অবশ্যই ক্ষমতাসীনদের দায় আছে। তারা এড়িয়ে যেতে পারে না। তাঁরা অবসরে যাওয়ার পরে ঘটনাগুলো সামনে এসেছে। কিন্তু এটা আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।

অভিযোগ যেটাই আসুক, তার ভালোভাবে তদন্ত করতে হবে এবং সেই তদন্ত যেন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়। আইন অনুযায়ী, অভিযুক্তদের যে সুবিধা পাওয়া দরকার, তাঁরা সেটা পাবেন। কিন্তু তাঁদের অবসরের যাওয়ার আগেই এগুলো প্রকাশ্যে আসা উচিত। আর সরকারের যে দায়িত্ব, তারা সেটা এড়িয়ে যেতে পারবে বলে মনে হয় না।

  • শাহনাজ হুদা. অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়