ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

অসহায় গৌরদাসের পাশে ইউএনও মঈনুল হক

জং পড়া টিন, ঘুনে ধরা কাঠখুঁটি ও ভাঙ্গাচোরা হোগলার বেড়ার জড়াজীর্ণ ঘরে স্ত্রী ও বিবাহযোগ্য দুই কন্যাকে নিয়ে বসবাস করছেন বৃদ্ধ গৌরদাস। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অতিকষ্টে এই ঘরে তাদের দিন কাটছে। যে কোন সময় ঘরটি ভেঙ্গে চুড়ে যেতে পারে। তারপরও বাধ্য হয়ে আতংক নিয়ে এই ঘরে খেয়ে না খেয়ে তাদের বসবাস করতে হচ্ছে।

৭০ বছরের অসহায় গৌরদাস গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামের বাসিন্দা।
সহায়তার হাত বাড়িয়ে গৌরদাসের পাশে দাড়ালেন টুঙ্গিপাড়ার ইউএনও মোঃ মঈনুল হক।

জানাগেছে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন তিনি। তার বিবাহ যোগ্য কন্যা জুই মন্ডল (৩৫) ও শংকরী মন্ডল (৩০) অন্যের জমিতে কাজ করে ও কয়েকটি হাঁস পালন করেই চালাচ্ছে সংসার। যা উপার্জন হয় তাই দিয়ে বাবার ঔষধের টাকাই জোগার হয় না। তাই অর্ধাহারে–অনাহারে তাদের দিন কাটছে।

অবশেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই দুঃখ-দুর্দশার কথা জেনে অসহায় এই পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন টুঙ্গিপাড়ার ইউএনও মোঃ মঈনুল হক।

গতকাল সোমবার বিকেলে হাঁস কিনতে নগদ ২০ হাজার টাকা, ৩০ কেজি চাল, একটি সেলাই মেশিন ও পাঁচটি কম্বল নিয়ে গৌরদাসের বাড়িতে ছুটে যান ইউএনও মোঃ মঈনুল হক। এসময় পরিবারটির দুরবস্থা দেখে তিনি দ্রুত একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

গৌরদাসের প্রতিবেশী বিথী ঘরামী বলেন, স্ত্রী ও ৭ মেয়েকে নিয়ে ছিল গৌরদাসের সংসার। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে তিনি তার ৫ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও অর্থের অভাবে এখনো ২ মেয়েকে বিবাহ দিতে পারেনি। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি স্ট্রোক জনিত কারনে প্যারালাইজড্ হয়। গৌরদাস পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। অসুস্থতার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত আয়ের পথ। নিজেদের জায়গায় একটি ঘর থাকলেও সেটি বসবাসের অযোগ্য। বৃষ্টি বর্ষায় পাশের বাড়ি আশ্রয় নিতে হয়। দুই বোন অন্যের জমিতে দিনমজুরি ও কয়েকটি হাঁস পালন করে কোনমতে খেয়ে না খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।

প্রতিবেশি শ্যামল ঘরামী বলেন, দুই বোন জুই ও শংকরীর জীবনে পূজা পার্বন সহ কোন আনন্দের দিন নেই। কারণ তারা কখনোই একটা নতুন জামা কিনতে পারে না। বাবার ঔষধ কিনতেই সব টাকা চলে যায় তারপরও তারা কোন রকমে দিন পার করে। তাদের দুঃখের কথা শুনে ইউএনও স্যার নিজে বাড়ি এসে অনেক সাহায্য করেছেন।

আরেক প্রতিবেশী লক্ষী মন্ডল বলেন, ভাঙা ঘরের সাথে তারা নিজেরা ঠিকমতো খেতেই পারে না। বিবাহযোগ্য হওয়ার পরও তারা বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে বাবার সেবা করে চলেছেন। ওরা কতদিন যে মাছ মাংস খায়না তার কোন ঠিক নেই। প্রতিদিন সকালে দেখি ভাতে পানি দিয়ে কাঁচামরিচ দিয়ে ভাত খায়। আর দুপুরে আর রাতেও হয় কাঁচামরিচ ভাত অথবা শাকসবজি দিয়েই খেতে হয়।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈনুল হক বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি গৌরদাসের দুঃখ দূর্দশার কথা জানতে পারি। পরবর্তীতে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে এর সত্যতা পাই। অসহায় এই পরিবারটিকে সহায়তার জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা, একটি সেলাই মেশিন, ৩০ কেজি চাল ও কয়েকটি কম্বল দিয়েছি। এছাড়া খুব শীঘ্রই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের একটি ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। আমরা সবসময় এ উপজেলার হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবো।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

অসহায় গৌরদাসের পাশে ইউএনও মঈনুল হক

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জং পড়া টিন, ঘুনে ধরা কাঠখুঁটি ও ভাঙ্গাচোরা হোগলার বেড়ার জড়াজীর্ণ ঘরে স্ত্রী ও বিবাহযোগ্য দুই কন্যাকে নিয়ে বসবাস করছেন বৃদ্ধ গৌরদাস। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অতিকষ্টে এই ঘরে তাদের দিন কাটছে। যে কোন সময় ঘরটি ভেঙ্গে চুড়ে যেতে পারে। তারপরও বাধ্য হয়ে আতংক নিয়ে এই ঘরে খেয়ে না খেয়ে তাদের বসবাস করতে হচ্ছে।

৭০ বছরের অসহায় গৌরদাস গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামের বাসিন্দা।
সহায়তার হাত বাড়িয়ে গৌরদাসের পাশে দাড়ালেন টুঙ্গিপাড়ার ইউএনও মোঃ মঈনুল হক।

জানাগেছে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন তিনি। তার বিবাহ যোগ্য কন্যা জুই মন্ডল (৩৫) ও শংকরী মন্ডল (৩০) অন্যের জমিতে কাজ করে ও কয়েকটি হাঁস পালন করেই চালাচ্ছে সংসার। যা উপার্জন হয় তাই দিয়ে বাবার ঔষধের টাকাই জোগার হয় না। তাই অর্ধাহারে–অনাহারে তাদের দিন কাটছে।

অবশেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই দুঃখ-দুর্দশার কথা জেনে অসহায় এই পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন টুঙ্গিপাড়ার ইউএনও মোঃ মঈনুল হক।

গতকাল সোমবার বিকেলে হাঁস কিনতে নগদ ২০ হাজার টাকা, ৩০ কেজি চাল, একটি সেলাই মেশিন ও পাঁচটি কম্বল নিয়ে গৌরদাসের বাড়িতে ছুটে যান ইউএনও মোঃ মঈনুল হক। এসময় পরিবারটির দুরবস্থা দেখে তিনি দ্রুত একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

গৌরদাসের প্রতিবেশী বিথী ঘরামী বলেন, স্ত্রী ও ৭ মেয়েকে নিয়ে ছিল গৌরদাসের সংসার। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে তিনি তার ৫ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও অর্থের অভাবে এখনো ২ মেয়েকে বিবাহ দিতে পারেনি। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি স্ট্রোক জনিত কারনে প্যারালাইজড্ হয়। গৌরদাস পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। অসুস্থতার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত আয়ের পথ। নিজেদের জায়গায় একটি ঘর থাকলেও সেটি বসবাসের অযোগ্য। বৃষ্টি বর্ষায় পাশের বাড়ি আশ্রয় নিতে হয়। দুই বোন অন্যের জমিতে দিনমজুরি ও কয়েকটি হাঁস পালন করে কোনমতে খেয়ে না খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।

প্রতিবেশি শ্যামল ঘরামী বলেন, দুই বোন জুই ও শংকরীর জীবনে পূজা পার্বন সহ কোন আনন্দের দিন নেই। কারণ তারা কখনোই একটা নতুন জামা কিনতে পারে না। বাবার ঔষধ কিনতেই সব টাকা চলে যায় তারপরও তারা কোন রকমে দিন পার করে। তাদের দুঃখের কথা শুনে ইউএনও স্যার নিজে বাড়ি এসে অনেক সাহায্য করেছেন।

আরেক প্রতিবেশী লক্ষী মন্ডল বলেন, ভাঙা ঘরের সাথে তারা নিজেরা ঠিকমতো খেতেই পারে না। বিবাহযোগ্য হওয়ার পরও তারা বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে বাবার সেবা করে চলেছেন। ওরা কতদিন যে মাছ মাংস খায়না তার কোন ঠিক নেই। প্রতিদিন সকালে দেখি ভাতে পানি দিয়ে কাঁচামরিচ দিয়ে ভাত খায়। আর দুপুরে আর রাতেও হয় কাঁচামরিচ ভাত অথবা শাকসবজি দিয়েই খেতে হয়।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈনুল হক বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি গৌরদাসের দুঃখ দূর্দশার কথা জানতে পারি। পরবর্তীতে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে এর সত্যতা পাই। অসহায় এই পরিবারটিকে সহায়তার জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা, একটি সেলাই মেশিন, ৩০ কেজি চাল ও কয়েকটি কম্বল দিয়েছি। এছাড়া খুব শীঘ্রই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের একটি ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। আমরা সবসময় এ উপজেলার হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবো।