ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

ফরিদপুরে পুলিশের বাড়িতে ডাকাতি,আতঙ্ক উপজেলা জুরে

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সম্প্রতি ফাঁকাবাড়িতে কেয়ারটেকারকে নৃশংসভাবে হত্যার রেশ না কাটতেই পুলিশ সদস্যের বাড়িতে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ফ্লাটে ঘুমিয়ে থাকা বৃদ্ধা মা ও ৪ বাচ্চাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। পরে সবাইকে রশি দিয়ে বেধে একই সঙ্গে তাঁর আপন দুই প্রবাসী ভাইয়ের ঘরেও তান্ডব চালায় ডাকাতদল। বৃহষ্পতিবার রাত ৩টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী ডাকাতদল তান্ডপ চালায় আসাদুল ইসলাম নামের এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে। আসাদুল গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভাঙ্গার মানিকদহ ইউনিয়নের ফাঁজিলপুর গ্রামে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক একাধিক জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতী পাশের গ্রাম আলেখারকান্দায় ফাঁকা বাড়িতে এক বৃদ্ধ কেয়ারটেকারকে নৃশংসভাবে হত্যার রেশ না কাটতেই পুনারায় পুরো উপজেলায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেপরোয়ভাবে বাড়ছে। এদিন পুলিশের বাড়িতে ডাকাতির আগে ওই রাতেই আশপাশের কয়েকজনের বাড়িতে গ্রীল কেটে বসতঘরে ঢুকার চেষ্টা চালায় ডাাকাত দলেরা। কিন্তু, পারে নি। এতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম বিপর্যয়ের শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। রাত নামলেই ডাকাতদের ভয় ও আতঙ্কে কাটছে তাদের।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, রাত তখন ৩ টা বেজে ২০ মিনিট। হটাৎ বাড়ির বাহিরে অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন মুখোশধারীরা বাড়িতে ঢুকার চেষ্টা করছেন। এসময় প্রথমেই একজন দেয়াল বেয়ে উঠে সিসিটিভির বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে ফেলছেন। তারপর ওই ভিডিও ক্যামেরাটি অকেজো হয়ে গেলো। এরপর আরেকটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে- বাড়ির প্রধান লোহার গেট দিয়ে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করছেন ৩ জন মুখোশধারী। কিছুক্ষন পর ফ্ল্যাটের দরজার কাছে লাল গেঞ্জি ও লোহার পাইপ হাতে নিয়ে দরজার সামনে থাকা সিসি ক্যামেরাটি সজরে আঘাত করলো। এরপর সেই ক্যামেরাও অকেজো করে মুখোশধারীরা। এরপর ৩ টা ৩১ মিনিটের পর থেকে ঘরে প্রবেশ করেই ডাকাতির তান্ডব চালায় ডাকাতদলেরা। তবে, ডাকাত দলেরা বাড়িতে প্রবেশ করার আগে সিসিটিভির ফুঁটেজ নষ্ট করলেও কয়েকটি ফুঁটেজ সংরক্ষন করেছে পুলিশ। তার কয়েকটি সিসিটিভির ফুঁটেজ আজ বৃহষ্পতিবার সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।

সায়লা ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, রাত সাড়ে ৩ টার দিকে বাড়ির পেছন সাইডের গ্রীলের তালা ও ফ্ল্যাটের দরজার লক ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ৫-৬ জন ডাকাত। এর মধ্যে একজনের মুখ খোলা ছিলো, বাকিরা মুখোশ পরিহিত ছিলো। তারা প্রথমেই সায়লার শাশুড়ির ঘরে ঢুকে। এরপর ফ্ল্যাটে থাকা অন্যান্য শিশু-কিশোরদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। প্রায় দুই ঘন্টা যাবত সবাইকে রশি দিয়ে বেধে রাখা হয়। পরে রুমে থাকা আলমারি ও আসবাবপত্র ভাংচুরসহ লুটপাটের তান্ডব চালায় তারা। এসময় বাচ্চাদের অস্ত্রের মুখে ভয়-ভিতি প্রদর্শণ করা হয়। এক পর্যায়ে, ঘরের আলমারিতে রাখা সায়লা ও তাঁর ভাশুরের নগত সোয়া ২ লাখ টাকা ও প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণ লুট করে ডাকাতদল পালিয়ে যায়।

আসাদুলের স্ত্রী সায়লা ইসলাম জানান, গত রাতে ডাকাতির ঘটনার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হটাৎ এমন কোন ঘটনা তারা মানতে পারছেন না। বাচ্চাদের ভয় ও আতঙ্ক এখনো কাটেনি। আজ সারাদিন ছেলে-মেয়েগুলো অস্বাভাবিক আচরণ করছে।

থানার ওসি মোকছেদুর রহমান জানান, এক পুলিশ সদস্য ও তাঁর আপন দুই ভাই ইরাক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সরজেমিন গিয়ে কয়েকটি সিসিটিভির ফুটেজ সহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের তদন্তকার্য অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ফরিদপুরে পুলিশের বাড়িতে ডাকাতি,আতঙ্ক উপজেলা জুরে

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সম্প্রতি ফাঁকাবাড়িতে কেয়ারটেকারকে নৃশংসভাবে হত্যার রেশ না কাটতেই পুলিশ সদস্যের বাড়িতে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ফ্লাটে ঘুমিয়ে থাকা বৃদ্ধা মা ও ৪ বাচ্চাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। পরে সবাইকে রশি দিয়ে বেধে একই সঙ্গে তাঁর আপন দুই প্রবাসী ভাইয়ের ঘরেও তান্ডব চালায় ডাকাতদল। বৃহষ্পতিবার রাত ৩টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী ডাকাতদল তান্ডপ চালায় আসাদুল ইসলাম নামের এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে। আসাদুল গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভাঙ্গার মানিকদহ ইউনিয়নের ফাঁজিলপুর গ্রামে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক একাধিক জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতী পাশের গ্রাম আলেখারকান্দায় ফাঁকা বাড়িতে এক বৃদ্ধ কেয়ারটেকারকে নৃশংসভাবে হত্যার রেশ না কাটতেই পুনারায় পুরো উপজেলায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেপরোয়ভাবে বাড়ছে। এদিন পুলিশের বাড়িতে ডাকাতির আগে ওই রাতেই আশপাশের কয়েকজনের বাড়িতে গ্রীল কেটে বসতঘরে ঢুকার চেষ্টা চালায় ডাাকাত দলেরা। কিন্তু, পারে নি। এতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম বিপর্যয়ের শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। রাত নামলেই ডাকাতদের ভয় ও আতঙ্কে কাটছে তাদের।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, রাত তখন ৩ টা বেজে ২০ মিনিট। হটাৎ বাড়ির বাহিরে অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন মুখোশধারীরা বাড়িতে ঢুকার চেষ্টা করছেন। এসময় প্রথমেই একজন দেয়াল বেয়ে উঠে সিসিটিভির বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে ফেলছেন। তারপর ওই ভিডিও ক্যামেরাটি অকেজো হয়ে গেলো। এরপর আরেকটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে- বাড়ির প্রধান লোহার গেট দিয়ে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করছেন ৩ জন মুখোশধারী। কিছুক্ষন পর ফ্ল্যাটের দরজার কাছে লাল গেঞ্জি ও লোহার পাইপ হাতে নিয়ে দরজার সামনে থাকা সিসি ক্যামেরাটি সজরে আঘাত করলো। এরপর সেই ক্যামেরাও অকেজো করে মুখোশধারীরা। এরপর ৩ টা ৩১ মিনিটের পর থেকে ঘরে প্রবেশ করেই ডাকাতির তান্ডব চালায় ডাকাতদলেরা। তবে, ডাকাত দলেরা বাড়িতে প্রবেশ করার আগে সিসিটিভির ফুঁটেজ নষ্ট করলেও কয়েকটি ফুঁটেজ সংরক্ষন করেছে পুলিশ। তার কয়েকটি সিসিটিভির ফুঁটেজ আজ বৃহষ্পতিবার সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।

সায়লা ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, রাত সাড়ে ৩ টার দিকে বাড়ির পেছন সাইডের গ্রীলের তালা ও ফ্ল্যাটের দরজার লক ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ৫-৬ জন ডাকাত। এর মধ্যে একজনের মুখ খোলা ছিলো, বাকিরা মুখোশ পরিহিত ছিলো। তারা প্রথমেই সায়লার শাশুড়ির ঘরে ঢুকে। এরপর ফ্ল্যাটে থাকা অন্যান্য শিশু-কিশোরদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। প্রায় দুই ঘন্টা যাবত সবাইকে রশি দিয়ে বেধে রাখা হয়। পরে রুমে থাকা আলমারি ও আসবাবপত্র ভাংচুরসহ লুটপাটের তান্ডব চালায় তারা। এসময় বাচ্চাদের অস্ত্রের মুখে ভয়-ভিতি প্রদর্শণ করা হয়। এক পর্যায়ে, ঘরের আলমারিতে রাখা সায়লা ও তাঁর ভাশুরের নগত সোয়া ২ লাখ টাকা ও প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণ লুট করে ডাকাতদল পালিয়ে যায়।

আসাদুলের স্ত্রী সায়লা ইসলাম জানান, গত রাতে ডাকাতির ঘটনার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হটাৎ এমন কোন ঘটনা তারা মানতে পারছেন না। বাচ্চাদের ভয় ও আতঙ্ক এখনো কাটেনি। আজ সারাদিন ছেলে-মেয়েগুলো অস্বাভাবিক আচরণ করছে।

থানার ওসি মোকছেদুর রহমান জানান, এক পুলিশ সদস্য ও তাঁর আপন দুই ভাই ইরাক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সরজেমিন গিয়ে কয়েকটি সিসিটিভির ফুটেজ সহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের তদন্তকার্য অব্যাহত রয়েছে।