ঢাকার পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং জলাবদ্ধতা নিরসন এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার প্রতিদিনের লড়াই খুব কাছ থেকে জানি। এখানে আমাদের ফুসফুসে বিশুদ্ধ বাতাসের বদলে জমে কালো ধোঁয়া আর ধুলা। শহরে খেলার মাঠ থাকলেও, খেলার সুযোগ নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা বিশুদ্ধ পানির মতো সাধারণ প্রয়োজনীয় জিনিস যা আমাদের অধিকার এখনও হয়ে আছে বিলাসিতা। শহরের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী, কিন্তু শহর পরিকল্পনায় তারা উপেক্ষিত। শিশুদের জন্যও নিরাপদ এবং উপযুক্ত শহর গড়ার পরিকল্পনা নেই।’
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য শহর করতে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, পরিবেশ যেন ভালো থাকে, বাতাস বিশুদ্ধ হয়, নদী-খালগুলো বাঁচে, সবার জন্য উন্মুক্ত জায়গা থাকে যেখানে শিশুরা খেলতে পারে, মানুষ হাঁটতে, বসতে পারে, রাস্তা, ড্রেনেজ, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে কাজ করে।’
মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল উদ্ধার ও খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়াসা ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় করে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। ডিএনসিসি’র উন্নয়ন কার্যক্রমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া হবে। স্থানীয় জনসাধারণের এবং সকল অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবে ডিএনসিসি।’
অবৈধ ব্যানার পোস্টার অপসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজপথ থেকে ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হবে। পিভিসি ব্যানার সম্পূর্ণ নিষেধ, এটি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দোয়ালে দেয়ালে আকা জুলাই গ্রাফিতি রক্ষা করা হবে। পোস্টার ব্যানার লাগালে জরিমানা করা হবে। এছাড়া ডিএনসিসি দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।’
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের বছিলায় হাইক্কার খাল উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে গিয়েছি। সীমানা নির্ধারণ ও উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। হাইক্কার খালটি পূর্বের ন্যায় রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানের মধ্য দিয়ে লাউতলা খাল ও রামচন্দ্রপুর খালের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।’
এসময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে উত্তরখান এলাকায় গিয়েছি। ৩টি স্থানে সীমানা নির্ধারণ ও উচ্ছেদ করে ১টি পার্ক, ১টি খেলার মাঠ ও ১টি কমিউনিটি কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। পার্কটি নির্মাণ হবে তেরমুখ ব্রীজের পাশে। আমাইয়া, কাঁচকুড়ায় একটি মাঠ ও একটি কমিউনিটি কমপ্লেক্স নির্মাণ হবে।’
ডিএনসিসির কার্যক্রম পরিচালনায় তিনটি অবৈতনিক উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। বায়োডাইভারসিটি (জীববৈচিত্র্য) কমিটি, ডায়াসপোরা (প্রবাসী) কমিটি এবং সাধারণ কমিটি।
সাংবাদিকবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগে. জেনা. মোঃ মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগে. জেনা. ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এ বি এম সামসুল আলম এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
NUSRAT JAHAN 

























