শরিফুল ইসলাম
বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করেছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সহজ এবং দীর্ঘ দিনের নিবন্ধন জট কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সাম্প্রতিক এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সই করেছেন বিভাগের উপসচিব মোস্তাফিজুর রহমান। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিক কার্যকর হবে।
এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন সারাদেশে হাজারো বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দুর্বল নজরদারি ও জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার মান ঝুঁকিতে পড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত ১৯ হাজার ৬২৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে গত অর্থবছরে লাইসেন্স নবায়ন করেছে মাত্র ৬ হাজার ২৪টি। আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৫৪।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিত্র আরও উদ্বেগজনক। দেশে নিবন্ধিত ৩৫ হাজার ৫৯৭টি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৭৯০টি, অর্থাৎ প্রায় ৫ শতাংশ লাইসেন্স নবায়ন করেছে। প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়নের উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তা, জনবল, পরিচ্ছন্নতা, সেবার মানসহ বিভিন্ন মানদণ্ড যাচাই করা। বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এসব শর্ত পূরণ না করেই কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। কিছু দিন পরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিযান করে বন্ধ করে দেয়। আবার মালিকপক্ষ নীরবে চালু করে। বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের অভিযোগ, একাধিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় নবায়ন প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশে লাইসেন্স ও নবায়নের বিধান থাকলেও মেয়াদ নির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই। তাই সরকারি কোষাগারে একসঙ্গে দুই বছরের লাইসেন্স ফি ও ভ্যাট পরিশোধের শর্তে লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের মেয়াদ দুই বছর করা হয়েছে।
চিকিৎসা-সংশ্লিষ্টরা জানান, লাইসেন্স গ্রহণে প্রতিষ্ঠানগুলোর গাফিলতির পাশাপাশি জটিল প্রক্রিয়াও অনীহা তৈরির কারণ।
বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. এ এম শামীম বলেন, লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া বেশ জটিল। ছয়টি প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য কাগজপত্র জমা দিয়ে মাত্র এক বছরের জন্য লাইসেন্স পাওয়া যায়। শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধনের মেয়াদ দুই বছর করলে হবে না; বাকি পাঁচ অধিদপ্তরের নিবন্ধন মেয়াদও দুই বছর করতে হবে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নবায়ন আবেদনের জট কমাতে এবং আরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মের আওতায় আনতে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এই ছাড়ের ফলে নিয়ম মানায় শিথিলতা আসবে কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিক বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলছে। তারা বলছে, আবেদন ঝুলে আছে। আমরা এ অবস্থা দূর করতে চাই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডা. মঈনুল আহসান বলেন, আগে অধিদপ্তরের ছয়টি জায়গা থেকে নিবন্ধন নিতে হতো। এখন তা এক জায়গায় আনা হয়েছে। লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে বিভিন্ন সংস্থার ছাড়পত্র বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়া সহজ করার একটা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এমনকি হাসপাতাল করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিবন্ধন লাগে। এটি যাতে না লাগে, সেই চেষ্টা আমরা করছি।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, দেশে অবৈধ হাসপাতালের সংখ্যা উদ্বেগজনক। চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন জরুরি হলেও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ হারায়। এ সমস্যা সমাধানে এক ছাতার নিচে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 



















