একটি হজ এজেন্সি ২২ ওমরাহ যাত্রীকে ভুয়া বিমান টিকিট দেওয়ায় তারা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে পারছেন না। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা জেদ্দায় অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ২২ জন গত ২৪ মার্চ মাস্ক হজ গ্রুপের মাধ্যমে ওমরা পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে যান। এই এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খলিলুর রহমান তাদের ফেরার জন্য ৫ এপ্রিলের ইন্ডিগো বিমানের রিটার্ন টিকিট দেন। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর ওমরাহ যাত্রীরা বুঝতে পারেন তাদের দেওয়া টিকিটগুলো ভুয়া। অনলাইনে দেখা যায়, এসব টিকিটের ব্যক্তিদের জন্য বিমানে সিট ফাঁকা নেই। পরে তারা সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিসে কাউন্সিলরের কাছে এ বিষয়ে আবেদন করেন। ১৯ এপ্রিল কাউন্সিলর (হজ) কামরুল ইসলাম ওমরাহ যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধর্ম সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) সমকালকে বলেন, ‘যে এজেন্সির মাধ্যমে তারা ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গেছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এজেন্সির মালিক তাদের দেশে ফেরার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।’ তিনি বলেন, কীভাবে এই প্রতারণা হয়েছে, খতিয়ে দেখে এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, মাস্ক হজ গ্রুপ একটি ট্রাভেল এজেন্সি। অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সদস্য। তবে এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খলিলুর রহমান ওমরাহ প্যাকেজ বিক্রি করছেন। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এজেন্সি সৌদি আরবে ওমরাহ যাত্রী পাঠাতে চাইলে সেটিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত হতে হয়। মাস্ক হজ গ্রুপ ২০২৪ সাল থেকে এভাবে ওমরাহ প্যাকেজ বিক্রি করছে। এই এজেন্সির পাঠানো ৭৪ ওমরাহ যাত্রী গত মাসেও একই রকম সমস্যার সম্মুখীন হন। তারা প্রতারণার শিকার হওয়ায় বেশি টাকা খরচ করে দেশে ফিরেছেন। এবারের ২২ জনের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা থাকায় খলিলুর রহমান বেশি চাপে পড়েছেন। তিনি ১৮ এপ্রিল টিকিট এজেন্সি আল করীম এয়ার এভিয়েশনের প্রোপাইটর আব্দুল করীম ও গুড লাইফ ওভারসিজ ও পার্টনার বাহজারের প্রোপাইটর মনির হোসেনের নামে পল্টন থানায় জিডি করেছেন।
এ বিষয়ে ওমরাহ যাত্রী আবু ইউসুফ বলেন, ‘এজেন্সির অবহেলা ও প্রতারণার কারণে আমরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া আতঙ্কে দিন পার করছি।’

এ বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে হজ ও ওমরাহ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিলাম। আমাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। ওমরাহ যাত্রীরা ক্ষোভ ও কষ্টে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তবে টিকিট না পাওয়ায় তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’ তিনি বলেন, যারা টিকিট দিয়েছে, তারা আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বাহজার পরিচালক মনির হোসেনের কাছ থেকে পুরো টাকা পরিশোধ করে টিকিটগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাদের অনৈতিক কার্যকলাপ ও অদূরদর্শিতার কারণে ওমরাহ যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারেননি।
ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে যাওয়া এবং আসার বিমান টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক। সৌদি কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রিটার্ন টিকিট ছাড়া কোনো ওমরাহ যাত্রীকে বোর্ডিং পাস দেওয়া হয় না। ভিসা আবেদনের জন্য নিশ্চিত বিমান টিকিট, নুসুক প্ল্যাটফর্মে হোটেল বুকিং, পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য বীমা সম্পন্ন করতে হয়। সাধারণত এজেন্সিগুলোর প্যাকেজের মধ্যেই এই টিকিট ও অন্যান্য ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর পরও এই ওমরাহ যাত্রীরা প্রতারণার শিকার হলেন।
প্রতিনিধির নাম 


















