ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

চুরির অভিযোগে দুই চোখ উপড়ে ফেলল গ্রামবাসী

  • ভোলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
  • ৮২ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরফ্যাশনে চুরির অভিযোগ তুলে শাহাজাহান মিন্টিজ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ভয়ংকর নির্যাতন করেছে স্থানীয়রা। তার হাতের বড় আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে, হাত-পা ভেঙে ফেলা হয়েছে, এমনকি তুলে ফেলা হয়েছে তার দুই চোখও।

আজ রবিবার (২ মার্চ) সকালে দক্ষিণ আইচা থানার নজরুল নগর ইউনিয়নের চর আরকলমী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে গ্রামপুলিশ তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
মিন্টিজ ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবা ছিডু ছিলেন পেশাদার চোর। কয়েক বছর আগে কারাগারে থাকাকালীন ছিডুর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিন্টিজ দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেছেন, সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাঝের চর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সাকিব ও তার সহযোগীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিন্টিজ দীর্ঘদিন ধরে ভোলার দক্ষিণাঞ্চলে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িত। সম্প্রতি এলাকায় একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে চর আরকলমী গ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে দেখে স্থানীয়রা ধাওয়া দেয়। পরে জাহাঙ্গীর ফরাজির বাড়ি থেকে আটক করা হয় মিন্টিজকে। এরপর তাকে বারেক ফরাজির বাড়ির পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়।

গ্রাম পুলিশ সোরহাব হোসেন জানান, খবর পেয়ে কয়েকজনের সহায়তায় তিনি মিন্টিজকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

মিন্টিজের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘মাদ্রাসা অধ্যক্ষ লোকমান হোসেনের ছেলে সাকিবের নেতৃত্বে লোকজন আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে চোখ তুলে ফেলে।’ ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত থাকলেও ভয়ে কিছু বলতে পারেননি বলে জানান।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সাকিব। তিনি বলেন, ‘মিন্টিজ এলাকার কুখ্যাত চোর। চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়েছে। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মিন্টিজকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার হাতের বড় আঙুল কাটা ছিল, হাত-পা ভাঙা ছিল এবং চোখ দুটো উপড়ে ফেলা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

চুরির অভিযোগে দুই চোখ উপড়ে ফেলল গ্রামবাসী

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

ভোলার চরফ্যাশনে চুরির অভিযোগ তুলে শাহাজাহান মিন্টিজ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ভয়ংকর নির্যাতন করেছে স্থানীয়রা। তার হাতের বড় আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে, হাত-পা ভেঙে ফেলা হয়েছে, এমনকি তুলে ফেলা হয়েছে তার দুই চোখও।

আজ রবিবার (২ মার্চ) সকালে দক্ষিণ আইচা থানার নজরুল নগর ইউনিয়নের চর আরকলমী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে গ্রামপুলিশ তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
মিন্টিজ ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবা ছিডু ছিলেন পেশাদার চোর। কয়েক বছর আগে কারাগারে থাকাকালীন ছিডুর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিন্টিজ দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেছেন, সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাঝের চর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সাকিব ও তার সহযোগীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিন্টিজ দীর্ঘদিন ধরে ভোলার দক্ষিণাঞ্চলে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িত। সম্প্রতি এলাকায় একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে চর আরকলমী গ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে দেখে স্থানীয়রা ধাওয়া দেয়। পরে জাহাঙ্গীর ফরাজির বাড়ি থেকে আটক করা হয় মিন্টিজকে। এরপর তাকে বারেক ফরাজির বাড়ির পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়।

গ্রাম পুলিশ সোরহাব হোসেন জানান, খবর পেয়ে কয়েকজনের সহায়তায় তিনি মিন্টিজকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

মিন্টিজের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘মাদ্রাসা অধ্যক্ষ লোকমান হোসেনের ছেলে সাকিবের নেতৃত্বে লোকজন আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে চোখ তুলে ফেলে।’ ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত থাকলেও ভয়ে কিছু বলতে পারেননি বলে জানান।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সাকিব। তিনি বলেন, ‘মিন্টিজ এলাকার কুখ্যাত চোর। চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়েছে। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মিন্টিজকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার হাতের বড় আঙুল কাটা ছিল, হাত-পা ভাঙা ছিল এবং চোখ দুটো উপড়ে ফেলা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।