ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অদ্য ২৯/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে অথরাইজড অফিসার জোন- ৭ এর দপ্তরে দুইটি গবেষণা পত্র এর সার্বিক বিষয় উপস্থাপন করা হয় ভূমিকম্প ও দুর্যোগ মোকাবেলায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে রাজউক । সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার! সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক জাকির হোসেন বাদশা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণে বিএনপির টানা ৮ দিনের কর্মসূচি ৭ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি এল ক্ল্যাসিকোতে উৎসবের মেজাজে বার্সা নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান

চুরির অভিযোগে দুই চোখ উপড়ে ফেলল গ্রামবাসী

  • ভোলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরফ্যাশনে চুরির অভিযোগ তুলে শাহাজাহান মিন্টিজ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ভয়ংকর নির্যাতন করেছে স্থানীয়রা। তার হাতের বড় আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে, হাত-পা ভেঙে ফেলা হয়েছে, এমনকি তুলে ফেলা হয়েছে তার দুই চোখও।

আজ রবিবার (২ মার্চ) সকালে দক্ষিণ আইচা থানার নজরুল নগর ইউনিয়নের চর আরকলমী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে গ্রামপুলিশ তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
মিন্টিজ ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবা ছিডু ছিলেন পেশাদার চোর। কয়েক বছর আগে কারাগারে থাকাকালীন ছিডুর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিন্টিজ দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেছেন, সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাঝের চর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সাকিব ও তার সহযোগীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিন্টিজ দীর্ঘদিন ধরে ভোলার দক্ষিণাঞ্চলে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িত। সম্প্রতি এলাকায় একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে চর আরকলমী গ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে দেখে স্থানীয়রা ধাওয়া দেয়। পরে জাহাঙ্গীর ফরাজির বাড়ি থেকে আটক করা হয় মিন্টিজকে। এরপর তাকে বারেক ফরাজির বাড়ির পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়।

গ্রাম পুলিশ সোরহাব হোসেন জানান, খবর পেয়ে কয়েকজনের সহায়তায় তিনি মিন্টিজকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

মিন্টিজের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘মাদ্রাসা অধ্যক্ষ লোকমান হোসেনের ছেলে সাকিবের নেতৃত্বে লোকজন আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে চোখ তুলে ফেলে।’ ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত থাকলেও ভয়ে কিছু বলতে পারেননি বলে জানান।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সাকিব। তিনি বলেন, ‘মিন্টিজ এলাকার কুখ্যাত চোর। চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়েছে। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মিন্টিজকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার হাতের বড় আঙুল কাটা ছিল, হাত-পা ভাঙা ছিল এবং চোখ দুটো উপড়ে ফেলা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

অদ্য ২৯/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে অথরাইজড অফিসার জোন- ৭ এর দপ্তরে দুইটি গবেষণা পত্র এর সার্বিক বিষয় উপস্থাপন করা হয়

চুরির অভিযোগে দুই চোখ উপড়ে ফেলল গ্রামবাসী

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

ভোলার চরফ্যাশনে চুরির অভিযোগ তুলে শাহাজাহান মিন্টিজ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ভয়ংকর নির্যাতন করেছে স্থানীয়রা। তার হাতের বড় আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে, হাত-পা ভেঙে ফেলা হয়েছে, এমনকি তুলে ফেলা হয়েছে তার দুই চোখও।

আজ রবিবার (২ মার্চ) সকালে দক্ষিণ আইচা থানার নজরুল নগর ইউনিয়নের চর আরকলমী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে গ্রামপুলিশ তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
মিন্টিজ ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবা ছিডু ছিলেন পেশাদার চোর। কয়েক বছর আগে কারাগারে থাকাকালীন ছিডুর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিন্টিজ দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেছেন, সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাঝের চর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সাকিব ও তার সহযোগীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিন্টিজ দীর্ঘদিন ধরে ভোলার দক্ষিণাঞ্চলে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িত। সম্প্রতি এলাকায় একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে চর আরকলমী গ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে দেখে স্থানীয়রা ধাওয়া দেয়। পরে জাহাঙ্গীর ফরাজির বাড়ি থেকে আটক করা হয় মিন্টিজকে। এরপর তাকে বারেক ফরাজির বাড়ির পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়।

গ্রাম পুলিশ সোরহাব হোসেন জানান, খবর পেয়ে কয়েকজনের সহায়তায় তিনি মিন্টিজকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

মিন্টিজের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘মাদ্রাসা অধ্যক্ষ লোকমান হোসেনের ছেলে সাকিবের নেতৃত্বে লোকজন আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে চোখ তুলে ফেলে।’ ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত থাকলেও ভয়ে কিছু বলতে পারেননি বলে জানান।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সাকিব। তিনি বলেন, ‘মিন্টিজ এলাকার কুখ্যাত চোর। চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়েছে। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মিন্টিজকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার হাতের বড় আঙুল কাটা ছিল, হাত-পা ভাঙা ছিল এবং চোখ দুটো উপড়ে ফেলা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।