ঢাকা ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালালে অভিযান, উদ্ধার হলো ১৯ কেজি স্বর্ণ অভিনয়ের আড়ালে অন্যরকম নিলয় আলমগীর মেসি শাস্তি পাননি, বালোগান কেন লাল কার্ড দেখলেন? ভুয়া প্রবেশপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে এসে কসবায় আটক ২ জন এক লাফে ৩৫৭ টাকা কমল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অদ্য ২৯/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে অথরাইজড অফিসার জোন- ৭ এর দপ্তরে দুইটি গবেষণা পত্র এর সার্বিক বিষয় উপস্থাপন করা হয় ভূমিকম্প ও দুর্যোগ মোকাবেলায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে রাজউক । সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার! সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক জাকির হোসেন বাদশা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণে বিএনপির টানা ৮ দিনের কর্মসূচি

হানাফি মাজহাবের বৈশিষ্ট্য

ফিকাহ শাস্ত্রের ইমামদের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) শ্রেষ্ঠ আসন দখল করে নিয়েছেন। সবাই তাকে এক বাক্যে আল ইমামুল আজম তথা ইমামকুলের শিরোমণিরূপে আখ্যায়িত করেন।

তৎকালীন মুসলিম বিশ্ব যখন একদিকে সিন্ধু থেকে স্পেন এবং অন্যদিকে আফ্রিকা থেকে এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে, আর অন্যদিকে ইসলামী সংস্কৃতি পৃথিবীর দিগদিগন্ত বিকশিত হতে থাকে তখনই ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ইসলামী আইনশাস্ত্রকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলেন। সুদীর্ঘ ২২ বছর সাধনা করে ১৪২ হিজরিতে তিনি ফিকাহ সম্পাদনার কাজ সমাপ্ত করেন।

তার দেওয়া ফিকহি সিদ্ধান্তগুলো ‘কুতুবে হানাফিয়া’য় স্থান পেয়েছে। এতে মোট ৮৩ হাজার মাসআলা স্থান পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে এতে আরো বহু বিধান সংযোজন করা হয়েছে। নিম্নে হানাফি মাজহাবের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো—
আইন ও রাজনীতির সমন্বয় সাধন : হানাফি ফিকাহ মুসলিম আইন ও রাজনীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

হানাফি ফিকাহ আইনের ধারা-উপধারা প্রণয়ন ও বিচার বিভাগের সংস্কার সাধন করে অনাগত যুগের দাবি মিটিয়েছে সর্বতোভাবে।

আল-কোরআন হানাফি ফিকাহের মূল

ভিত্তি : ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ফিকহি আইনের প্রধান ভিত্তি ছিল আল-কোরআন। তিনি যখন আইন প্রণয়ন করতেন, ফতওয়া দিতেন তখন কোরআনকে ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিতেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় ভিত্তি হিসেবে হাদিসের আশ্রয় গ্রহণ করেন।

মানবীয় যুক্তি ও মেধার সদ্ব্যবহার : ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ছিলেন প্রথম ইমাম, যিনি বিধান রচনায় কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি কিয়াসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর আগে আইনের সহায়ক উৎস হিসেবে কিয়াস প্রচলিত থাকলেও তিনিই এ নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করেন মুসলিম আইনের উৎস হিসেবে।

প্রচলিত রীতি-নীতির ওপর গুরুত্বারোপ : ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বিধান প্রণয়নে প্রচলিত রীতি-নীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি তাঁর অনুসারীদের আদেশ দেন যে আইন ব্যাখ্যা দানকালে তাঁরা যেন প্রচলিত অবস্থা ও রীতি-নীতির প্রতি অভিনিবেশ সহকারে বিবেচনা করেন। ফলে হানাফি মাজহাব কোরআন ও সুন্নাহর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক রেখে আইন প্রণয়নে সর্বাধিক বাস্তব বোধের পরিচয় দিয়েছে।

সহনশীলতা : হানাফি আইনের ধারাগুলো সহজ ও সহনশীল। মানুষের সাধ্য ও সামর্থ্যের ওপর লক্ষ রেখে হানাফি আইন রচিত।

সর্বজনীনতা ও ভারসাম্য : হানাফি আইন একদিকে গোঁড়ামিকে পরিহার করে এবং অতি উঁচু দরের দর্শনও পরিহার করে দ্বিনের বিধান সর্বজনীন করে তোলে। হানাফি আইনের ধারাগুলো কেবল কোরআনকে ভিত্তি করেই প্রণীত হয়নি। হাদিস, পারিপার্শ্বিকতা, ইসতিহসান, কিয়াস প্রস্তুতির সাহায্যে হানাফি ফিকাহ রচিত বলে তা সর্বকালের সর্বজনের গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

শুরাভিত্তিক সংকলন : ইমাম আবু হানিফা ফিকাহ শাস্ত্রের উন্নয়ন ও এটাকে সর্বজনীন করার জন্য একটি ছাত্র সমিতি গঠন করেন। মোট ৪০ জন মেধাবী ছাত্র মূল সমিতির সদস্য ছিলেন। এই সভায় কোনো একটি বিষয়কে আলোচনার জন্য দেওয়া হতো। আলোচিত হওয়ার পর গৃহীত সিদ্ধান্ত লিখে রাখা হতো। এভাবে ‘হানাফি ফিকাহ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

শাহজালালে অভিযান, উদ্ধার হলো ১৯ কেজি স্বর্ণ

হানাফি মাজহাবের বৈশিষ্ট্য

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ফিকাহ শাস্ত্রের ইমামদের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) শ্রেষ্ঠ আসন দখল করে নিয়েছেন। সবাই তাকে এক বাক্যে আল ইমামুল আজম তথা ইমামকুলের শিরোমণিরূপে আখ্যায়িত করেন।

তৎকালীন মুসলিম বিশ্ব যখন একদিকে সিন্ধু থেকে স্পেন এবং অন্যদিকে আফ্রিকা থেকে এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে, আর অন্যদিকে ইসলামী সংস্কৃতি পৃথিবীর দিগদিগন্ত বিকশিত হতে থাকে তখনই ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ইসলামী আইনশাস্ত্রকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলেন। সুদীর্ঘ ২২ বছর সাধনা করে ১৪২ হিজরিতে তিনি ফিকাহ সম্পাদনার কাজ সমাপ্ত করেন।

তার দেওয়া ফিকহি সিদ্ধান্তগুলো ‘কুতুবে হানাফিয়া’য় স্থান পেয়েছে। এতে মোট ৮৩ হাজার মাসআলা স্থান পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে এতে আরো বহু বিধান সংযোজন করা হয়েছে। নিম্নে হানাফি মাজহাবের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো—
আইন ও রাজনীতির সমন্বয় সাধন : হানাফি ফিকাহ মুসলিম আইন ও রাজনীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

হানাফি ফিকাহ আইনের ধারা-উপধারা প্রণয়ন ও বিচার বিভাগের সংস্কার সাধন করে অনাগত যুগের দাবি মিটিয়েছে সর্বতোভাবে।

আল-কোরআন হানাফি ফিকাহের মূল

ভিত্তি : ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ফিকহি আইনের প্রধান ভিত্তি ছিল আল-কোরআন। তিনি যখন আইন প্রণয়ন করতেন, ফতওয়া দিতেন তখন কোরআনকে ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিতেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় ভিত্তি হিসেবে হাদিসের আশ্রয় গ্রহণ করেন।

মানবীয় যুক্তি ও মেধার সদ্ব্যবহার : ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ছিলেন প্রথম ইমাম, যিনি বিধান রচনায় কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি কিয়াসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর আগে আইনের সহায়ক উৎস হিসেবে কিয়াস প্রচলিত থাকলেও তিনিই এ নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করেন মুসলিম আইনের উৎস হিসেবে।

প্রচলিত রীতি-নীতির ওপর গুরুত্বারোপ : ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বিধান প্রণয়নে প্রচলিত রীতি-নীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি তাঁর অনুসারীদের আদেশ দেন যে আইন ব্যাখ্যা দানকালে তাঁরা যেন প্রচলিত অবস্থা ও রীতি-নীতির প্রতি অভিনিবেশ সহকারে বিবেচনা করেন। ফলে হানাফি মাজহাব কোরআন ও সুন্নাহর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক রেখে আইন প্রণয়নে সর্বাধিক বাস্তব বোধের পরিচয় দিয়েছে।

সহনশীলতা : হানাফি আইনের ধারাগুলো সহজ ও সহনশীল। মানুষের সাধ্য ও সামর্থ্যের ওপর লক্ষ রেখে হানাফি আইন রচিত।

সর্বজনীনতা ও ভারসাম্য : হানাফি আইন একদিকে গোঁড়ামিকে পরিহার করে এবং অতি উঁচু দরের দর্শনও পরিহার করে দ্বিনের বিধান সর্বজনীন করে তোলে। হানাফি আইনের ধারাগুলো কেবল কোরআনকে ভিত্তি করেই প্রণীত হয়নি। হাদিস, পারিপার্শ্বিকতা, ইসতিহসান, কিয়াস প্রস্তুতির সাহায্যে হানাফি ফিকাহ রচিত বলে তা সর্বকালের সর্বজনের গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

শুরাভিত্তিক সংকলন : ইমাম আবু হানিফা ফিকাহ শাস্ত্রের উন্নয়ন ও এটাকে সর্বজনীন করার জন্য একটি ছাত্র সমিতি গঠন করেন। মোট ৪০ জন মেধাবী ছাত্র মূল সমিতির সদস্য ছিলেন। এই সভায় কোনো একটি বিষয়কে আলোচনার জন্য দেওয়া হতো। আলোচিত হওয়ার পর গৃহীত সিদ্ধান্ত লিখে রাখা হতো। এভাবে ‘হানাফি ফিকাহ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।