ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু

ডিজিটালের ছোঁয়ায় কদর কমেছে ডাকবাক্সের

  • ফজলে রাব্বী
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৯৫ বার পড়া হয়েছে

বর্তমানে আধুনিকতার যুগে ডাক বাক্স যেন এক সোনালী অতীত, এক সময়ের সেই ডাক বাক্সের কদর আর আগের মত নেই, ডাক বাক্সে চিঠি ফেলে দিয়ে কবে তার প্রিয়জন সেই চিঠি পাবেন এই অপেক্ষার প্রহর আর কেউ পোহায় না। স্বামী স্ত্রীর কাছে, স্ত্রী -স্বামীর কাছে আবেগ প্রবণ হয়ে আর কোন চিঠি যেমন লেখেন না, অনুরূপ ভাবে মা-বাবা তার সন্তানদের আবার সন্তান তার বাবা- মায়ের কাছে কিংবা কোন প্রেমিক- প্রেমিকা তার প্রিয় জনের কাছে চিঠি লিখে ডাক বাক্সে আর দিয়ে আসেন না।

বর্তমান সময়ের মানুষরা তার প্রিয় জনের কাছে মোবাইল বা টেলিফোনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যাবলী সেরে ফেলেন। মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেটে ফেসবুক, ম্যাসেনজার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম ও টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে প্রিয়জনের কাছে দ্রুত ভাব বিনিময় করা যায় এটা সত্য, কিন্তু প্রকৃত অর্থে লেখনীর মাধ্যমে যে আবেগ প্রবণ ভালোবাসার কথা সুন্দররূপে ফুটে ওঠে কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তেমনভাবে ফুটে উঠে না।

প্রিয়জনের কাছ হাতে পাওয়ার যে আনন্দ এবং সেই চিঠির জন্য অপেক্ষা কি যে মধুর তখনকার প্রিয়জনরাই তা অনুভব করতেন। সময়-কাল পাল্টে গেছে আধুনিকতার ছোঁয়ায়, সকলের মন -মানসিকতাও পাল্টে গেছে সেই ছোঁয়াতেই। সময় নষ্ট করে আর কেউ যেমন চিঠি -পত্র লেখেন না, তেমনি চিঠি অনেক দেরি করে প্রিয়জনের হাতে পৌঁছে যাক এটাও কেউ আর তেমনটা চায় না।

কথা হয় নাটোরের সিংড়ায় ডাকঘরে চিঠি রিসিভ করতে আসা সামাউন আলী নামের এক যুবকের সাথে, তিনি জানান আমি একজন খণ্ডকালীন প্রভাষক ব্যবস্থাপনা বিভাগে কর্মরত রয়েছি আমি এখানে আমার এক জরুরি চিঠি রিসিভ করতে এসেছি, ডাকঘরের কার্যক্রম বিষয়ে তিনি প্রতিবেদককে জানান, আমি যতটুকু জানি আমরা বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ার কারণে তুলনামূলক ভাবে আগের চেয়ে ডাকঘরের ব্যবহার অনেকটাই কম। এখন ডাকঘরের মাধ্যমে সব ধরনের নথিপত্র আদান-প্রদান হয় না, এখন সরকারি অফিসিয়ালি কিছু কার্যক্রম গুলো ডাকঘরের মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়ে থাকে।

প্রসঙ্গক্রমে সিনিয়র সাংবাদিক এসএম রাজু আহমেদ বলেন, ২০০২ সালে আমি যখন সাংবাদিকতায় নতুন তখন দেখেছি, সংবাদ কর্মীরা রাতে সংবাদ লিখে খোলা চিঠির খামে ভরে ডাক বাক্সে ফেলে দিয়ে আসতো, কয়েক দিন পর সেই সংবাদ ছাপা হতো। এরপর পত্রিকা অফিস ডাকযোগে সেই পত্রিকা পাঠাতো, সেই ছাপানো খবর পড়ার জন্য কখন ডাক পিয়ন ডাকবাক্স খুলবে তার জন্য আগে থেকে পোস্ট অফিসে এসে অপেক্ষা করতো সংবাদকর্মীরা। আধুনিকতার যুগে সবই যেন এখন কালের সাক্ষী।

সিংড়া উপজেলা পোস্ট মাস্টার রজব আলী মোল্লা জানান, আগের দিনের মত এখন আর চিঠি পত্র লেনদেন হয় না। বর্তমানে পোস্ট অফিসে ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার, ই – কমার্স, রেজিস্ট্রি সেবা, বীমা, পরীক্ষার খাতা পাঠানো ইত্যাদি কাজগুলো হচ্ছে। তবে অনেক গ্রাহকেরই দাবী পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পরিবার সঞ্চয় পত্র চালু করার।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ডিজিটালের ছোঁয়ায় কদর কমেছে ডাকবাক্সের

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪

বর্তমানে আধুনিকতার যুগে ডাক বাক্স যেন এক সোনালী অতীত, এক সময়ের সেই ডাক বাক্সের কদর আর আগের মত নেই, ডাক বাক্সে চিঠি ফেলে দিয়ে কবে তার প্রিয়জন সেই চিঠি পাবেন এই অপেক্ষার প্রহর আর কেউ পোহায় না। স্বামী স্ত্রীর কাছে, স্ত্রী -স্বামীর কাছে আবেগ প্রবণ হয়ে আর কোন চিঠি যেমন লেখেন না, অনুরূপ ভাবে মা-বাবা তার সন্তানদের আবার সন্তান তার বাবা- মায়ের কাছে কিংবা কোন প্রেমিক- প্রেমিকা তার প্রিয় জনের কাছে চিঠি লিখে ডাক বাক্সে আর দিয়ে আসেন না।

বর্তমান সময়ের মানুষরা তার প্রিয় জনের কাছে মোবাইল বা টেলিফোনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যাবলী সেরে ফেলেন। মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেটে ফেসবুক, ম্যাসেনজার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম ও টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে প্রিয়জনের কাছে দ্রুত ভাব বিনিময় করা যায় এটা সত্য, কিন্তু প্রকৃত অর্থে লেখনীর মাধ্যমে যে আবেগ প্রবণ ভালোবাসার কথা সুন্দররূপে ফুটে ওঠে কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তেমনভাবে ফুটে উঠে না।

প্রিয়জনের কাছ হাতে পাওয়ার যে আনন্দ এবং সেই চিঠির জন্য অপেক্ষা কি যে মধুর তখনকার প্রিয়জনরাই তা অনুভব করতেন। সময়-কাল পাল্টে গেছে আধুনিকতার ছোঁয়ায়, সকলের মন -মানসিকতাও পাল্টে গেছে সেই ছোঁয়াতেই। সময় নষ্ট করে আর কেউ যেমন চিঠি -পত্র লেখেন না, তেমনি চিঠি অনেক দেরি করে প্রিয়জনের হাতে পৌঁছে যাক এটাও কেউ আর তেমনটা চায় না।

কথা হয় নাটোরের সিংড়ায় ডাকঘরে চিঠি রিসিভ করতে আসা সামাউন আলী নামের এক যুবকের সাথে, তিনি জানান আমি একজন খণ্ডকালীন প্রভাষক ব্যবস্থাপনা বিভাগে কর্মরত রয়েছি আমি এখানে আমার এক জরুরি চিঠি রিসিভ করতে এসেছি, ডাকঘরের কার্যক্রম বিষয়ে তিনি প্রতিবেদককে জানান, আমি যতটুকু জানি আমরা বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ার কারণে তুলনামূলক ভাবে আগের চেয়ে ডাকঘরের ব্যবহার অনেকটাই কম। এখন ডাকঘরের মাধ্যমে সব ধরনের নথিপত্র আদান-প্রদান হয় না, এখন সরকারি অফিসিয়ালি কিছু কার্যক্রম গুলো ডাকঘরের মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়ে থাকে।

প্রসঙ্গক্রমে সিনিয়র সাংবাদিক এসএম রাজু আহমেদ বলেন, ২০০২ সালে আমি যখন সাংবাদিকতায় নতুন তখন দেখেছি, সংবাদ কর্মীরা রাতে সংবাদ লিখে খোলা চিঠির খামে ভরে ডাক বাক্সে ফেলে দিয়ে আসতো, কয়েক দিন পর সেই সংবাদ ছাপা হতো। এরপর পত্রিকা অফিস ডাকযোগে সেই পত্রিকা পাঠাতো, সেই ছাপানো খবর পড়ার জন্য কখন ডাক পিয়ন ডাকবাক্স খুলবে তার জন্য আগে থেকে পোস্ট অফিসে এসে অপেক্ষা করতো সংবাদকর্মীরা। আধুনিকতার যুগে সবই যেন এখন কালের সাক্ষী।

সিংড়া উপজেলা পোস্ট মাস্টার রজব আলী মোল্লা জানান, আগের দিনের মত এখন আর চিঠি পত্র লেনদেন হয় না। বর্তমানে পোস্ট অফিসে ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার, ই – কমার্স, রেজিস্ট্রি সেবা, বীমা, পরীক্ষার খাতা পাঠানো ইত্যাদি কাজগুলো হচ্ছে। তবে অনেক গ্রাহকেরই দাবী পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পরিবার সঞ্চয় পত্র চালু করার।