রাজধানী ঢাকার বিপুল জনসংখ্যার সেবা নিশ্চিতকল্পে নগরীর প্রাণকেন্দ্রে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবন ও হাসপাতাল।
নির্মিত এসকল ইমারতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত থাকলেও ইমারতগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ জনগণ ও সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকের সচেতনতার বিষয়টিতে প্রশ্ন থেকেই যায়। ফায়ার সেফটি নিশ্চিকরনসহ যথোপযুক্ত আইন-কানুন ও বিধিমালা না মেনে ভবন নির্মাণের কারণে অতীতে অগ্নি দুর্ঘটনাসহ নানাবিধ দুর্ঘটনায় জান-মালের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঢাকা শহর -কে, নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর সাবজোন -৫/২ এর আওতাধীন এলাকার অথরাইজড অফিসার জনাব মোঃ ইলিয়াস এর নেতৃত্বে সাবজোনে কর্মরত সহকারী অথরাইজড অফিসার, প্রধান ইমারত পরিদর্শক ও ইমারত পরিদর্শকগণের সমন্বয়ে অদ্য ০২/১২/২০২৪ তারিখ সাত মসজিদ রোড সংলগ্ন বিভিন্ন অনাবাসিক (হাসপাতাল, মার্কেট, দোকান, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি) ইমারতে পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনকৃত ভবনগুলো হলো- (ক) কেয়ারী ক্রিসেন্ট টাওয়ার, প্লট নং- ১৪৮ (পুরাতন), ৬০ (নতুন), রোড-২/এ, সাতমসজিদ রোড, ঢাকা নামক ০২ (দুই) টি বেজমেন্ট সহ ১৩ (তের) তলা ইমারত; (খ) জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসাপাতাল, হাউজ নং- ৫৫, রোড- ৩/এ, সাতমসজিদ রোড, ঢাকা নামক ০৬ (ছয়) তলা ইমারত; (গ) গ্রিন অক্ষয় প্লাজা, হাউজ নং -৫৯, রোড- ২/এ, সাতমসজিদ রোড, ঢাকা নামক ০১ (এক) টি বেজমেন্ট সহ ০৬ (ছয়) তলা ইমারত, (ঘ) বিশ্বাস স্বপ্নিল, ১৫/১, ১৫/২, জিগাতলা, ঢাকা নামক ০২ (দুই) টি বেজমেন্ট সহ ১০ (দশ) তলা ইমারত।
কেয়ারী ক্রিসেন্ট টাওয়ার পরিদর্শনকালে ইমারতটিতে প্রয়োজনীয় ফায়ার এক্সটিংগুইসার, ফায়ার হোস পাইপ, ফায়ার সিঁড়িতে যাবার সিম্বলিক চিহ্ন, অগ্নি নিরোধক দরজা ইত্যাদির অনুপস্থিতি দেখা যায়। এছাড়াও ফায়ার সিঁড়িতে যাবার লবিতে নানাবিধ মালামাল পরিলক্ষিত হয় যা চলাচলে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। গ্রাইন্ড ফ্লোরে ফায়ার সিঁড়ির সম্মুখে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার রাখা হয়েছে যা বড় ধরণের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে পারে।
জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ্ হাসপাতাল পরিদর্শনে অনেকটা একই রকমের চিত্র উঠে আসে। সরু ফায়ার সিঁড়ি, সিঁড়ির ল্যান্ডিঙয়ে মালামালের অবস্থান, গ্রাইন্ড ফ্লোর হতে ০৫ (পাঁচ) তলা পর্যন্ত ফায়ার সিঁড়িতে যাবার লবি কেবিন হিসেবে ব্যবহার এবং উন্মুক্ত ছাদের স্থলে সেমিপাকা ব্লাড ডোনেশন রুম সহ বিবিধ ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হয়। গ্রিন অক্ষয় প্লাজা নামক বাণিজ্যিক ব্যবহার সংবলিত ভবনটি পরিদর্শনকালে একটিমাত্র সিঁড়ি পাওয়া যায়। অগ্নি দুর্ঘটনার সময় ছাদে যাওয়ার সিঁড়িতে অবাধ চলাচল নিশ্চিত রাখার কথা থাকলেও ভবনটির ছাদে যাওয়ার সিঁড়ির প্রবেশপথ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। বিশ্বাস স্বপ্নিল নামক ইমারত পরিদর্শনকালে দেখা যায় উন্মুক্ত ছাদের উপরের অর্ধাংশ উলম্বভাবে বর্ধিত করে রেস্টুরেন্ট এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও ভবনটিতে অগ্নি নিরোধক দরজার অনুপস্থিতিসহ গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত সরু ফায়ার সিঁড়ি পাওয়া যায়। ইমারতটির গ্রাউন্ড ফ্লোরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে ইলেকট্রনিক শোরুম হিসেবে বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট ইমারতের প্রতিনিধিগণকে ইমারতের ফায়ার সেফটি সম্পর্কিত ত্রুটি বিচ্যুতির বিষয়ে মৌখিকভাবে তাৎক্ষণিক অবহিতকরণসহ অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।
অথরাইজড অফিসার-৫/২ জনাব মোঃ ইলিয়াস জানান যে পরিদর্শনকালে যে সকল ইমারতসমূহে ত্রুটি-বিচ্যুতি (রাজউক অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী গ্রাউন্ড ফ্লোরের এন্ট্রি/এক্সিটের সঠিক ব্যবহার, ফায়ার সিড়ির বিভিন্ন তলায় প্রতিবন্ধকতা, ফায়ার ডোর, অগ্নি দুর্ঘটনায় দ্রুত ছাদে উঠা এবং নিচে নামার ব্যবস্থা ও ভবনের প্রতি ফ্লোর হতে ফায়ার সিড়িতে যাওয়ার সিম্বলিক চিহ্ন সংক্রান্ত তথ্যাদি) পরিলক্ষিত হয়, তা সংশোধনের জন্য মালিকগনকে পত্র মারফত অবহিত করা করার পাশাপাশি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধির নাম 









