ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার! সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক জাকির হোসেন বাদশা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণে বিএনপির টানা ৮ দিনের কর্মসূচি ৭ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি এল ক্ল্যাসিকোতে উৎসবের মেজাজে বার্সা নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান

ভাঙ্গায় রান্নাঘরের অগ্নিকান্ডে দগ্ধ দুই শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের রশিবপুরা গ্রামে রান্নাঘরে লাগা অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলো ঐ গ্রামের ছিদ্দিক মুন্সীর শিশু পুত্র ইসমাইল মুন্সি (৪) ও আসাদ মুন্সীর ছেলে ইয়াসিন মুন্সি (৩)। রবিবার (১৭ই নভেম্বর) দুপুরে রান্নাঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঐ দুই শিশু অগ্নিদগ্ধ হয়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাদেরকে প্রথমে ভাঙ্গা হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই শিশু দুটির মৃত্যু হয়। আজ সোমবার (১৮ই নভেম্বর) সকালে রশিবপুরা দাখিল মাদ্রাসায় নামাজের জানাজা শেষে পাশ্ববর্তী কবরস্থানে শিশু দুটিকে দাফন করা হয়।

এবিষয় পরিবার ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ইয়াসিন মুন্সি ও ইসমাইল মুন্সি রবিবার বেলা ১১টা দিকে রান্না ঘরে খেলাধুলা করতে ছিল। তারা সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। খেলার ছলে তারা কিছু পাটকাঠি রান্নার চুলার মধ্যে দিয়ে দেয়। পাটকাঠির লাগা আগুন মুহূর্তের মধ্যেই রান্নাঘরের বেড়ায় লেগে তীব্র গতিতে জ্বলতে থাকে। তখন দুই শিশু ভয় পেয়ে রান্নাঘরের পাশে বাথরুমে আশ্রয় নেয়। রান্না ঘর পুড়ে যাওয়ার পর বাথরুমেও আগুন ধরে যায়। একপর্যায়ে আগুনের লেলিহান শিখা রান্না ঘর ও বাথরুম সহ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসী আগুন নিভাতে চেষ্টা করলেও তখনো জানতো না শিশু দুটি বাথরুমে আটকা পড়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ আসার পর শিশু দুটির আর্তচিৎকার শুনতে পায়। সে সময় স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ দুই শিশুকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতাল ভর্তি করে। সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই শিশু দুইটির মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে ওই গ্রামের বাসিন্দা রশিবপুরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ ইদ্রিস আলী জানান, এলাকাবাসী যখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে তখন ও শিশু দুটি ঐ বাথরুমের ভেতরে আগুনে পুড়ে চিৎকার করছিল। স্থানীয়রা টের পেয়ে অগ্নিদগ্ধ শিশু দুটিকে উদ্ধার করে প্রথম ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। কর্তব্যরত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মৌলি চৌধুরী জানান, অগ্নিদগ্ধ ইয়াসিনের ৬৮ ভাগ এবং ইসমাইলের ৯০ ভাগ পুড়ে গিয়েছে । তারা দ্রুত শিশু দুটিকে ঢাকা বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে । প্রায় ৮ ঘন্টা পর ঢাকাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার!

ভাঙ্গায় রান্নাঘরের অগ্নিকান্ডে দগ্ধ দুই শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৩:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের রশিবপুরা গ্রামে রান্নাঘরে লাগা অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলো ঐ গ্রামের ছিদ্দিক মুন্সীর শিশু পুত্র ইসমাইল মুন্সি (৪) ও আসাদ মুন্সীর ছেলে ইয়াসিন মুন্সি (৩)। রবিবার (১৭ই নভেম্বর) দুপুরে রান্নাঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঐ দুই শিশু অগ্নিদগ্ধ হয়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাদেরকে প্রথমে ভাঙ্গা হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই শিশু দুটির মৃত্যু হয়। আজ সোমবার (১৮ই নভেম্বর) সকালে রশিবপুরা দাখিল মাদ্রাসায় নামাজের জানাজা শেষে পাশ্ববর্তী কবরস্থানে শিশু দুটিকে দাফন করা হয়।

এবিষয় পরিবার ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ইয়াসিন মুন্সি ও ইসমাইল মুন্সি রবিবার বেলা ১১টা দিকে রান্না ঘরে খেলাধুলা করতে ছিল। তারা সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। খেলার ছলে তারা কিছু পাটকাঠি রান্নার চুলার মধ্যে দিয়ে দেয়। পাটকাঠির লাগা আগুন মুহূর্তের মধ্যেই রান্নাঘরের বেড়ায় লেগে তীব্র গতিতে জ্বলতে থাকে। তখন দুই শিশু ভয় পেয়ে রান্নাঘরের পাশে বাথরুমে আশ্রয় নেয়। রান্না ঘর পুড়ে যাওয়ার পর বাথরুমেও আগুন ধরে যায়। একপর্যায়ে আগুনের লেলিহান শিখা রান্না ঘর ও বাথরুম সহ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসী আগুন নিভাতে চেষ্টা করলেও তখনো জানতো না শিশু দুটি বাথরুমে আটকা পড়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ আসার পর শিশু দুটির আর্তচিৎকার শুনতে পায়। সে সময় স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ দুই শিশুকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতাল ভর্তি করে। সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই শিশু দুইটির মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে ওই গ্রামের বাসিন্দা রশিবপুরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ ইদ্রিস আলী জানান, এলাকাবাসী যখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে তখন ও শিশু দুটি ঐ বাথরুমের ভেতরে আগুনে পুড়ে চিৎকার করছিল। স্থানীয়রা টের পেয়ে অগ্নিদগ্ধ শিশু দুটিকে উদ্ধার করে প্রথম ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। কর্তব্যরত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মৌলি চৌধুরী জানান, অগ্নিদগ্ধ ইয়াসিনের ৬৮ ভাগ এবং ইসমাইলের ৯০ ভাগ পুড়ে গিয়েছে । তারা দ্রুত শিশু দুটিকে ঢাকা বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে । প্রায় ৮ ঘন্টা পর ঢাকাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।