ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ব্যাংক লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু

১৯৮৮ সালের পর এমন পরিস্থিতি কখনও দেখেননি শেরপুরবাসী

ভারত থেকে নেমে আসাঢল ও ভারি বৃষ্টিতে বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে ঘর, আসবাবপত্র, গবাদিপশু; পানির সঙ্গে বাড়ছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। শেরপুরবাসী এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেনি বহুদিন।

নালিতাবাড়ী উপজেলার বেল্লামারি এলাকার বাসিন্দা আলেয়া খাতুন বলেন, ছোট দুই নাতিকে লইয়া, পার্শ্ববতী উপজেলার উচু স্থানে এক আত্মীয়র বাড়ি যাচ্ছি৷। বাড়িতে সবকিছু রেখে আসছি। জানিনা এই বন্যার পানি কখন নামবে। বাড়ির কোন কিছু চুরি হয় কিনা। এই শঙ্কায় বোধহয় ঘুমও হবেনা।

নালিতাবাড়ী উপজেলার সুর্যনগর বড়বিলা এলাকার মন্টু মিয়া বলেন, ঘরে কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানি। তার উপর বিদ্যুৎ নেই তিনদিন ধরে। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলার উত্তর রানীগাও এলাকার রাজিব হাসান বলেন, পুরো ঘরে পানি। মাটির চুলা ছিল সেটাও তলিয়ে গেছে, রান্না করতে পারছি না। খাবার পানিও নেই। আমার এক আত্মীয় কিছু খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছিলেন। পরে আমরা পরিবারের সবাই মিলে স্থানীয় একটা মসজিদের দুতলায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। পরে উদ্ধারকারী দল এসে আমাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসছে তিনি আরও বলেন, আমার এই বয়সে এত দ্রুত পানি দেখি নাই।

শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহানিয়া এলাকার বিল্লাল হোসেন বলেন, আগে এমন বন্যার ভয়াবহতা দেখিনি আমরা। একটা ফার্নিচারও ব্যবহার করার মতো নেই। এতো ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে যে, বলে বোঝাতে পারবোনা। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে শেরপুরে ৩৭ মিলিমিটার এবং নালিতাবাড়ীর দুটি পয়েন্টে ১৭০ ও ১০০ মিলিমিটার।

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ

১৯৮৮ সালের পর এমন পরিস্থিতি কখনও দেখেননি শেরপুরবাসী

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০২৪

ভারত থেকে নেমে আসাঢল ও ভারি বৃষ্টিতে বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে ঘর, আসবাবপত্র, গবাদিপশু; পানির সঙ্গে বাড়ছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। শেরপুরবাসী এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেনি বহুদিন।

নালিতাবাড়ী উপজেলার বেল্লামারি এলাকার বাসিন্দা আলেয়া খাতুন বলেন, ছোট দুই নাতিকে লইয়া, পার্শ্ববতী উপজেলার উচু স্থানে এক আত্মীয়র বাড়ি যাচ্ছি৷। বাড়িতে সবকিছু রেখে আসছি। জানিনা এই বন্যার পানি কখন নামবে। বাড়ির কোন কিছু চুরি হয় কিনা। এই শঙ্কায় বোধহয় ঘুমও হবেনা।

নালিতাবাড়ী উপজেলার সুর্যনগর বড়বিলা এলাকার মন্টু মিয়া বলেন, ঘরে কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানি। তার উপর বিদ্যুৎ নেই তিনদিন ধরে। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলার উত্তর রানীগাও এলাকার রাজিব হাসান বলেন, পুরো ঘরে পানি। মাটির চুলা ছিল সেটাও তলিয়ে গেছে, রান্না করতে পারছি না। খাবার পানিও নেই। আমার এক আত্মীয় কিছু খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছিলেন। পরে আমরা পরিবারের সবাই মিলে স্থানীয় একটা মসজিদের দুতলায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। পরে উদ্ধারকারী দল এসে আমাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসছে তিনি আরও বলেন, আমার এই বয়সে এত দ্রুত পানি দেখি নাই।

শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহানিয়া এলাকার বিল্লাল হোসেন বলেন, আগে এমন বন্যার ভয়াবহতা দেখিনি আমরা। একটা ফার্নিচারও ব্যবহার করার মতো নেই। এতো ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে যে, বলে বোঝাতে পারবোনা। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে শেরপুরে ৩৭ মিলিমিটার এবং নালিতাবাড়ীর দুটি পয়েন্টে ১৭০ ও ১০০ মিলিমিটার।