ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সচেতনতা ছড়াতে প্লাস্টিকবিহীন উদ্যোগ—আয়োজনে ‘প্রকৃতিমঙ্গল হাট

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

সচেতনতা ছড়াতে প্লাস্টিকবিহীন উদ্যোগ—আয়োজনে ‘প্রকৃতিমঙ্গল হাট

‘থামি, ভাবি, বদলাই’ প্রতিপাদ্যে রাজধানীর আসাদগেটে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো ‘প্রকৃতিমঙ্গল হাট’। ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত আয়োজিত এ হাটে প্রকৃতিবান্ধব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, রাসায়নিকমুক্ত কৃষিপণ্য, বই এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য সামগ্রী স্থান পায়। এ হাটের আয়োজন করে আলাই।

হাটজুড়ে কেনাবেচার পাশাপাশি ছিল শিশুদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন, গান, নাটক এবং আয়ুর্বেদ বিষয়ক সেশন। প্রথম দিনে যুদ্ধবিরোধী পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় হাটের কার্যক্রম। “যুদ্ধ নয়, জীবন চাই; সবুজ পৃথিবী চাই” এই বার্তা তুলে ধরা হয় উদ্বোধনী আয়োজনে।

এদিন শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘প্রকৃতিলিপি’ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সাত দিনের প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা লিখে পাঠানো শিশুদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ। পরে শিশুদের জন্য বটতলার পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় ‘ফাংসাং’ নাটক, যা সাদিকা রুমনের গল্পে পরিচালনা করেন হুমায়ুন আজম রেওয়াজ।

দ্বিতীয় দিনে আয়ুর্বেদ নিয়ে আলোচনা করেন আয়ুর্বেদাচার্য দেবজ্যোতি দত্ত। পাশাপাশি গান পরিবেশন করে মাভৈ ও কুয়াশা মূর্খ। শেষ দিনে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন নিয়ে মুক্ত আলোচনা এবং গানের দল বেতালের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

হাটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সম্পূর্ণ প্লাস্টিকবিহীন আয়োজন। কোথাও পলিথিন বা টিস্যুব্যাগ ব্যবহার করা হয়নি। আগেই ক্রেতাদের নিজস্ব ব্যাগ আনতে অনুরোধ করা হয়। শিশুদের দিয়ে পুরোনো সংবাদপত্রে ঠোঙা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়। খাবার পরিবেশন করা হয় স্টিলের প্লেটে, টিস্যুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় কলাপাতা। পানীয়ের জন্য প্লাস্টিক বোতল রাখা হয়নি; বরং মাটি ও পিতলের পাত্রে পানির ব্যবস্থা ছিল।

NEWS21
NEWS21

আয়োজকদের মতে, এ হাটের লক্ষ্য ছিল প্রকৃতিবান্ধব পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ভোগ কমানো, পুনঃব্যবহারের চর্চা জনপ্রিয় করা এবং পরিবেশ সচেতন সমাজ গড়ে তোলা।

হাটে অংশ নেয় বিভিন্ন উদ্যোগ, যার মধ্যে ছিল প্রাকৃতিক কৃষি, দেশি জাতের চালের হাট, দেব’স হলিস্টিক আয়ুর্বেদ, বনকুসুম, বনবীথি, হরপ্পা, অনুসিতা, উড়ুক্কু, ইকরিমিকরি, বাতিঘরসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের হাট নিয়মিত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সচেতনতা ছড়াতে প্লাস্টিকবিহীন উদ্যোগ—আয়োজনে ‘প্রকৃতিমঙ্গল হাট

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

‘থামি, ভাবি, বদলাই’ প্রতিপাদ্যে রাজধানীর আসাদগেটে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো ‘প্রকৃতিমঙ্গল হাট’। ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত আয়োজিত এ হাটে প্রকৃতিবান্ধব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, রাসায়নিকমুক্ত কৃষিপণ্য, বই এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য সামগ্রী স্থান পায়। এ হাটের আয়োজন করে আলাই।

হাটজুড়ে কেনাবেচার পাশাপাশি ছিল শিশুদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন, গান, নাটক এবং আয়ুর্বেদ বিষয়ক সেশন। প্রথম দিনে যুদ্ধবিরোধী পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় হাটের কার্যক্রম। “যুদ্ধ নয়, জীবন চাই; সবুজ পৃথিবী চাই” এই বার্তা তুলে ধরা হয় উদ্বোধনী আয়োজনে।

এদিন শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘প্রকৃতিলিপি’ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সাত দিনের প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা লিখে পাঠানো শিশুদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ। পরে শিশুদের জন্য বটতলার পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় ‘ফাংসাং’ নাটক, যা সাদিকা রুমনের গল্পে পরিচালনা করেন হুমায়ুন আজম রেওয়াজ।

দ্বিতীয় দিনে আয়ুর্বেদ নিয়ে আলোচনা করেন আয়ুর্বেদাচার্য দেবজ্যোতি দত্ত। পাশাপাশি গান পরিবেশন করে মাভৈ ও কুয়াশা মূর্খ। শেষ দিনে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন নিয়ে মুক্ত আলোচনা এবং গানের দল বেতালের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

হাটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সম্পূর্ণ প্লাস্টিকবিহীন আয়োজন। কোথাও পলিথিন বা টিস্যুব্যাগ ব্যবহার করা হয়নি। আগেই ক্রেতাদের নিজস্ব ব্যাগ আনতে অনুরোধ করা হয়। শিশুদের দিয়ে পুরোনো সংবাদপত্রে ঠোঙা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়। খাবার পরিবেশন করা হয় স্টিলের প্লেটে, টিস্যুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় কলাপাতা। পানীয়ের জন্য প্লাস্টিক বোতল রাখা হয়নি; বরং মাটি ও পিতলের পাত্রে পানির ব্যবস্থা ছিল।

NEWS21
NEWS21

আয়োজকদের মতে, এ হাটের লক্ষ্য ছিল প্রকৃতিবান্ধব পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ভোগ কমানো, পুনঃব্যবহারের চর্চা জনপ্রিয় করা এবং পরিবেশ সচেতন সমাজ গড়ে তোলা।

হাটে অংশ নেয় বিভিন্ন উদ্যোগ, যার মধ্যে ছিল প্রাকৃতিক কৃষি, দেশি জাতের চালের হাট, দেব’স হলিস্টিক আয়ুর্বেদ, বনকুসুম, বনবীথি, হরপ্পা, অনুসিতা, উড়ুক্কু, ইকরিমিকরি, বাতিঘরসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের হাট নিয়মিত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।