ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার! সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক জাকির হোসেন বাদশা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণে বিএনপির টানা ৮ দিনের কর্মসূচি ৭ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি এল ক্ল্যাসিকোতে উৎসবের মেজাজে বার্সা নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান

আমি ও আমার মা আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম—ঐন্দ্রিলার হৃদয়বিদারক স্বীকারোক্তি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১৬ বার পড়া হয়েছে

আমি ও আমার মা আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম—ঐন্দ্রিলার হৃদয়বিদারক স্বীকারোক্তি

ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন সম্প্রতি এক পডকাস্টে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা অকপটে তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি জানান, বাবার আকস্মিক মৃত্যু তাঁদের জীবনকে এমন এক অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল, যেখানে তিনি ও তাঁর মা একসময় চরম হতাশার মুখোমুখি হয়েছিলেন।

২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ঐন্দ্রিলার বাবা শান্তনু সেন। তখন ঐন্দ্রিলার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। সেই দিনের স্মৃতি মনে করে ঐন্দ্রিলা বলেন, কোলাঘাটের কাছে একটি শুটিংয়ে গিয়েছিলেন তিনি, সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা। শুটিংয়ের কিছুক্ষণ আগেই বাবার সঙ্গে কথা হয়েছিল। হঠাৎ ফোন আসে-দুর্ঘটনার খবর। দ্রুত কলকাতায় ফিরলেও আর বাবাকে জীবিত দেখা হয়নি।

বেহালা শীলপাড়া এলাকায় একেবারে মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া ঐন্দ্রিলার ভাষায়, বাবাই ছিলেন পরিবারের সবকিছু। ‘আমরা জানতাম না এটিএম থেকে টাকা তুলতে হয় কীভাবে, বিদ্যুতের বিল কীভাবে দিতে হয়। সবকিছুতেই বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম,’ বলেন তিনি।

বাবার শোক সামলানো যে কতটা কঠিন ছিল, তা বোঝাতে গিয়ে ঐন্দ্রিলা জানান, শ্মশানে বসেও তিনি অবচেতনে বলেছিলেন-‘বাবাকে বলো, বাবা সব এনে দেবে।’ বাস্তবতা মেনে নিতে সময় লেগেছে বহুদিন।

NEW21
NEW21

এই চরম অনিশ্চয়তা ও অসহায়তার মধ্যেই একসময় তিনি ও তাঁর মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পডকাস্টে ঐন্দ্রিলা বলেন, সেই সময় তাঁদের সামনে ভবিষ্যৎ বলে কিছু স্পষ্ট ছিল না-কীভাবে সংসার চলবে, কোথায় কী আছে, কিছুই জানা ছিল না। সেই হতাশা থেকেই একসময় তাঁরা দুজনেই ভয়ংকর মানসিক সংকটে পড়ে যান। তবে অনেক সংগ্রাম ও সময়ের মধ্য দিয়ে সেই অন্ধকার সময় পার করে উঠে আসতে পেরেছেন তাঁরা।

কাজের সূত্রে ঐন্দ্রিলার অভিনয়জীবনের শুরু রবি কিনাগী পরিচালিত ‘বন্ধন’ সিনেমার মাধ্যমে। ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জিৎ–কোয়েল অভিনীত এই ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ তিনি ভারতীয় বাংলা সিনেমার ব্যস্ত ও প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী।

বর্তমানে ঐন্দ্রিলার হাতে রয়েছে ‘সাজঘর’ ও ‘চন্দ্রবিন্দু’সহ একাধিক চলচ্চিত্রের কাজ। এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ঐন্দ্রিলা মূলত বোঝাতে চেয়েছেন-চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। তাঁর গল্প অনেকের জন্যই হতে পারে সাহস আর বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার!

আমি ও আমার মা আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম—ঐন্দ্রিলার হৃদয়বিদারক স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ০২:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন সম্প্রতি এক পডকাস্টে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা অকপটে তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি জানান, বাবার আকস্মিক মৃত্যু তাঁদের জীবনকে এমন এক অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল, যেখানে তিনি ও তাঁর মা একসময় চরম হতাশার মুখোমুখি হয়েছিলেন।

২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ঐন্দ্রিলার বাবা শান্তনু সেন। তখন ঐন্দ্রিলার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। সেই দিনের স্মৃতি মনে করে ঐন্দ্রিলা বলেন, কোলাঘাটের কাছে একটি শুটিংয়ে গিয়েছিলেন তিনি, সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা। শুটিংয়ের কিছুক্ষণ আগেই বাবার সঙ্গে কথা হয়েছিল। হঠাৎ ফোন আসে-দুর্ঘটনার খবর। দ্রুত কলকাতায় ফিরলেও আর বাবাকে জীবিত দেখা হয়নি।

বেহালা শীলপাড়া এলাকায় একেবারে মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া ঐন্দ্রিলার ভাষায়, বাবাই ছিলেন পরিবারের সবকিছু। ‘আমরা জানতাম না এটিএম থেকে টাকা তুলতে হয় কীভাবে, বিদ্যুতের বিল কীভাবে দিতে হয়। সবকিছুতেই বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম,’ বলেন তিনি।

বাবার শোক সামলানো যে কতটা কঠিন ছিল, তা বোঝাতে গিয়ে ঐন্দ্রিলা জানান, শ্মশানে বসেও তিনি অবচেতনে বলেছিলেন-‘বাবাকে বলো, বাবা সব এনে দেবে।’ বাস্তবতা মেনে নিতে সময় লেগেছে বহুদিন।

NEW21
NEW21

এই চরম অনিশ্চয়তা ও অসহায়তার মধ্যেই একসময় তিনি ও তাঁর মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পডকাস্টে ঐন্দ্রিলা বলেন, সেই সময় তাঁদের সামনে ভবিষ্যৎ বলে কিছু স্পষ্ট ছিল না-কীভাবে সংসার চলবে, কোথায় কী আছে, কিছুই জানা ছিল না। সেই হতাশা থেকেই একসময় তাঁরা দুজনেই ভয়ংকর মানসিক সংকটে পড়ে যান। তবে অনেক সংগ্রাম ও সময়ের মধ্য দিয়ে সেই অন্ধকার সময় পার করে উঠে আসতে পেরেছেন তাঁরা।

কাজের সূত্রে ঐন্দ্রিলার অভিনয়জীবনের শুরু রবি কিনাগী পরিচালিত ‘বন্ধন’ সিনেমার মাধ্যমে। ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জিৎ–কোয়েল অভিনীত এই ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ তিনি ভারতীয় বাংলা সিনেমার ব্যস্ত ও প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী।

বর্তমানে ঐন্দ্রিলার হাতে রয়েছে ‘সাজঘর’ ও ‘চন্দ্রবিন্দু’সহ একাধিক চলচ্চিত্রের কাজ। এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ঐন্দ্রিলা মূলত বোঝাতে চেয়েছেন-চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। তাঁর গল্প অনেকের জন্যই হতে পারে সাহস আর বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা।