ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার! সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক জাকির হোসেন বাদশা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণে বিএনপির টানা ৮ দিনের কর্মসূচি ৭ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি এল ক্ল্যাসিকোতে উৎসবের মেজাজে বার্সা নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান

ঝিনাইদহে সম্পত্তির বিরোধে বাবার লাশ দাফনে সন্তানদের বাধা

ঝিনাইদহে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে দুই সংসারের সন্তানরা। পুলিশের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মৃত্যুর ১০ ঘণ্টা পর মরদেহ দাফন করা হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ২৬ সেপ্টম্বর (শুক্রবার) ১০টার দিকে সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের লেদু দেওয়ান (৮০) ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দুই সংসারের ১০ সন্তান রেখে গেছেন।

জানা যায়, মৃত্যুর আগে লেদু দেওয়ান সব সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার সন্তানদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এ নিয়ে প্রথম সংসারের ৭ সন্তান ও দ্বিতীয় সংসারের ৩ সন্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
মৃত্যুর পর দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানরা দাফনের আয়োজন করলে প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা সম্পত্তি ভাগ না দেওয়া পর্যন্ত দাফনে বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

কাতলামারি পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই ইকবাল হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। বৈঠকে সমঝোতার ভিত্তিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানরা প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের ৭০ শতক জমি দেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। পরে রাত ৮টার দিকে মরদেহ দাফন করা হয়।

প্রয়াত লেদু দেওয়ানের প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা অভিযোগ করে বলেন, বাবাকে জিম্মি করে সৎ মা ও তার সন্তানরা সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে।

তবে দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের দাবি, লেদু দেওয়ান জীবিত অবস্থায় স্বেচ্ছায় সম্পত্তি দিয়ে গেছেন। এএসআই ইকবাল হোসেন বলেন, লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের অঘটনের শঙ্কা ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় উভয় পক্ষের মধ্যে লিখিত সমঝোতার মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার!

ঝিনাইদহে সম্পত্তির বিরোধে বাবার লাশ দাফনে সন্তানদের বাধা

আপডেট সময় : ০৩:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঝিনাইদহে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে দুই সংসারের সন্তানরা। পুলিশের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মৃত্যুর ১০ ঘণ্টা পর মরদেহ দাফন করা হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ২৬ সেপ্টম্বর (শুক্রবার) ১০টার দিকে সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের লেদু দেওয়ান (৮০) ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দুই সংসারের ১০ সন্তান রেখে গেছেন।

জানা যায়, মৃত্যুর আগে লেদু দেওয়ান সব সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার সন্তানদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এ নিয়ে প্রথম সংসারের ৭ সন্তান ও দ্বিতীয় সংসারের ৩ সন্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
মৃত্যুর পর দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানরা দাফনের আয়োজন করলে প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা সম্পত্তি ভাগ না দেওয়া পর্যন্ত দাফনে বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

কাতলামারি পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই ইকবাল হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। বৈঠকে সমঝোতার ভিত্তিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানরা প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের ৭০ শতক জমি দেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। পরে রাত ৮টার দিকে মরদেহ দাফন করা হয়।

প্রয়াত লেদু দেওয়ানের প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা অভিযোগ করে বলেন, বাবাকে জিম্মি করে সৎ মা ও তার সন্তানরা সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে।

তবে দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের দাবি, লেদু দেওয়ান জীবিত অবস্থায় স্বেচ্ছায় সম্পত্তি দিয়ে গেছেন। এএসআই ইকবাল হোসেন বলেন, লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বড় ধরনের অঘটনের শঙ্কা ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় উভয় পক্ষের মধ্যে লিখিত সমঝোতার মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়