ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার! সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক জাকির হোসেন বাদশা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণে বিএনপির টানা ৮ দিনের কর্মসূচি ৭ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি এল ক্ল্যাসিকোতে উৎসবের মেজাজে বার্সা নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান

নৈশপ্রহরীকে রাজকীয় বিদায়

৩০ বছরের কর্মজীবন শেষে রাজকীয় বিদায় পেলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার প্রাপ্ত জহরুলহাট হাজী এলাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী সন্তোষ চন্দ্র সরকার। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সহকর্মীসহ সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নেন সুসজ্জিত গাড়িতে।

সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২ টার দিকে এই নৈশ প্রহরীর বিদায়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সহকর্মীসহ শিক্ষার্থীরা।

বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঞ্চ থেকে ফুলের শুভেচ্ছাসহ হাতে তুলে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক।

এদিন তার বিদায়কে ঘিরে আয়োজকরা একটি প্রাইভেটকার ফুল দিয়ে সুসজ্জিত করেন। বিদায় সংবর্ধনায় ফুলের মালা পরিয়ে নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী হাতে তুলে দেন তারা। পরে তাকে ফুল সুসজ্জিত প্রাইভেটকারে বসিয়ে রাজকীয় সম্মানে পৌঁছে দেন বাড়িতে।

এমন বিদায় সংবর্ধনা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সন্তোষ চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, এমন আয়োজনে অনেক আনন্দিত। পাশাপাশি স্কুল ছেড়ে যাওয়াতে খারাপ লাগছে। আমার মতো একজন মানুষকে এভাবে সবাই সম্মান জানিয়ে বিদায় দেবে এটি কখনো ভাবিনি। এখন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। দীর্ঘদিন এ বিদ্যালয়ে ছিলাম, অনেক স্মৃতি রয়েছে। সেগুলো আঁকড়ে ধরে বাকি জীবন কাটিয়ে দেব।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন সন্তোষ চন্দ্র সরকার নৈশ প্রহরী হিসেবে। তিন সন্তানের জনক সন্তোষ চন্দ্র সরকার। তিনি বর্তমানে উপজেলার দেওডোবা গ্রামে বসবাস করছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জহুরুল ইসলাম বাদশা বলেন , তার মতো এমন নিবেদিত মানুষকে আমরা বিদায় দিতে পেরেছি এটিই সবচেয়ে বেশি আনন্দের। বিদ্যালয়ের সাবেক বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষক- শিক্ষার্থীর
পক্ষ থেকে সন্তোষ চন্দ্র সরকারকে উপহার দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার!

নৈশপ্রহরীকে রাজকীয় বিদায়

আপডেট সময় : ০৫:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

৩০ বছরের কর্মজীবন শেষে রাজকীয় বিদায় পেলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার প্রাপ্ত জহরুলহাট হাজী এলাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী সন্তোষ চন্দ্র সরকার। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সহকর্মীসহ সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নেন সুসজ্জিত গাড়িতে।

সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২ টার দিকে এই নৈশ প্রহরীর বিদায়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সহকর্মীসহ শিক্ষার্থীরা।

বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঞ্চ থেকে ফুলের শুভেচ্ছাসহ হাতে তুলে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক।

এদিন তার বিদায়কে ঘিরে আয়োজকরা একটি প্রাইভেটকার ফুল দিয়ে সুসজ্জিত করেন। বিদায় সংবর্ধনায় ফুলের মালা পরিয়ে নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী হাতে তুলে দেন তারা। পরে তাকে ফুল সুসজ্জিত প্রাইভেটকারে বসিয়ে রাজকীয় সম্মানে পৌঁছে দেন বাড়িতে।

এমন বিদায় সংবর্ধনা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সন্তোষ চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, এমন আয়োজনে অনেক আনন্দিত। পাশাপাশি স্কুল ছেড়ে যাওয়াতে খারাপ লাগছে। আমার মতো একজন মানুষকে এভাবে সবাই সম্মান জানিয়ে বিদায় দেবে এটি কখনো ভাবিনি। এখন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। দীর্ঘদিন এ বিদ্যালয়ে ছিলাম, অনেক স্মৃতি রয়েছে। সেগুলো আঁকড়ে ধরে বাকি জীবন কাটিয়ে দেব।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন সন্তোষ চন্দ্র সরকার নৈশ প্রহরী হিসেবে। তিন সন্তানের জনক সন্তোষ চন্দ্র সরকার। তিনি বর্তমানে উপজেলার দেওডোবা গ্রামে বসবাস করছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জহুরুল ইসলাম বাদশা বলেন , তার মতো এমন নিবেদিত মানুষকে আমরা বিদায় দিতে পেরেছি এটিই সবচেয়ে বেশি আনন্দের। বিদ্যালয়ের সাবেক বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষক- শিক্ষার্থীর
পক্ষ থেকে সন্তোষ চন্দ্র সরকারকে উপহার দেওয়া হয়েছে।