ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষাও জরুরি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ৭৭ বছরের ভারতীয়ের চ্যাটজিপিটিকে ‘স্যার’ ডেকে ভাইরাল হওয়ার কাহিনি টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘শলাকা রহস্য’ প্রকাশ্যে, তৃণা সাহার পোস্টার উন্মোচন জামালপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন মতলবে ট্রাক্টরের ধাক্কায় তরুণের মৃত্যু সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ব্যাংক লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু

সরকার নির্ধারিত চা-শ্রমিকদের জন্য ছয় হাজার টাকা নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোগান্তির অভিযোগ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নে চা-শ্রমিকদের জন্য সরকার নির্ধারিত এককালীন ছয় হাজার টাকা প্রাপ্তিতে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা আঙুলের ছাপসহ বায়োম্যাট্রিক পদ্ধতির প্রক্রিয়া শেষ করেও নির্ধারিত টাকা পুরোপুরি পাচ্ছেন না এবং ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও টাকা তুলতে পারছেন না।স্থানীয় ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের দুইজন মাইক্রো মার্চেন্ট আশিশ কর্মকার ও অপূর্ব তাতীর বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ করেছেন উপকারভোগীরা। অভিযোগে বলা হয়, দুই মাইক্রো মার্চেন্ট জনপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে কেটে নিয়ে ৫৮০০ বা ৫৯০০ টাকা দিচ্ছেন।
সরেজমিনে বটগাছ চৌমুহনী ও জগন্নাথ মন্দির এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট দোকানে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক শ্রমিক দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ দুই দিন আগেই বায়োম্যাট্রিক কার্যক্রম শেষ করেও টাকা তুলতে পারেননি। আবার যারা পেয়েছেন, তারা কম টাকায় সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
উপকারভোগী দুখনী তাতী, বাণী তাতী, সুনীল পাল ও পরমেশ্বরীসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা কম দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত এজেন্ট আশিশ কর্মকার অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, শহরে তো ১৫০ টাকা পর্যন্ত কেটে নেয়, আমরা কম রাখছি। অন্যদিকে, অপূর্ব তাতীর ভাই তপু তাতী জানান, টাকা না থাকায় বিতরণ সম্ভব হয়নি।
সরকারি সমাজসেবা অধিদফতরের বাস্তবায়নে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৬৪২ জন শ্রমিকের প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে মোট ৩৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থ ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ গ্রহণ করে সরাসরি উপকারভোগীর হাতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা হয়নি। এই অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একজন শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার হরণ। সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্প যদি মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতির ফাঁদে পড়ে, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবেন এবং জনসচেতনতায় আস্থা হারাবে। তাই অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সার্বিক তদারকি জোরদার করার দাবিও উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোয়েব হোসেন চৌধুরী বলেন, অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কমিশন কাটা যায় কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার নন বলে জানান তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি এখন জানলাম। তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ

সরকার নির্ধারিত চা-শ্রমিকদের জন্য ছয় হাজার টাকা নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোগান্তির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নে চা-শ্রমিকদের জন্য সরকার নির্ধারিত এককালীন ছয় হাজার টাকা প্রাপ্তিতে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা আঙুলের ছাপসহ বায়োম্যাট্রিক পদ্ধতির প্রক্রিয়া শেষ করেও নির্ধারিত টাকা পুরোপুরি পাচ্ছেন না এবং ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও টাকা তুলতে পারছেন না।স্থানীয় ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের দুইজন মাইক্রো মার্চেন্ট আশিশ কর্মকার ও অপূর্ব তাতীর বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ করেছেন উপকারভোগীরা। অভিযোগে বলা হয়, দুই মাইক্রো মার্চেন্ট জনপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে কেটে নিয়ে ৫৮০০ বা ৫৯০০ টাকা দিচ্ছেন।
সরেজমিনে বটগাছ চৌমুহনী ও জগন্নাথ মন্দির এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট দোকানে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক শ্রমিক দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ দুই দিন আগেই বায়োম্যাট্রিক কার্যক্রম শেষ করেও টাকা তুলতে পারেননি। আবার যারা পেয়েছেন, তারা কম টাকায় সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
উপকারভোগী দুখনী তাতী, বাণী তাতী, সুনীল পাল ও পরমেশ্বরীসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা কম দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত এজেন্ট আশিশ কর্মকার অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, শহরে তো ১৫০ টাকা পর্যন্ত কেটে নেয়, আমরা কম রাখছি। অন্যদিকে, অপূর্ব তাতীর ভাই তপু তাতী জানান, টাকা না থাকায় বিতরণ সম্ভব হয়নি।
সরকারি সমাজসেবা অধিদফতরের বাস্তবায়নে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৬৪২ জন শ্রমিকের প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে মোট ৩৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থ ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ গ্রহণ করে সরাসরি উপকারভোগীর হাতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা হয়নি। এই অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একজন শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার হরণ। সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্প যদি মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতির ফাঁদে পড়ে, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবেন এবং জনসচেতনতায় আস্থা হারাবে। তাই অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সার্বিক তদারকি জোরদার করার দাবিও উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোয়েব হোসেন চৌধুরী বলেন, অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কমিশন কাটা যায় কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার নন বলে জানান তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি এখন জানলাম। তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।