ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার! সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক জাকির হোসেন বাদশা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণে বিএনপির টানা ৮ দিনের কর্মসূচি ৭ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি এল ক্ল্যাসিকোতে উৎসবের মেজাজে বার্সা নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান

জুলাই সনদের প্রস্তাবনা উপেক্ষা, ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীও দেয়নি দলগুলো

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৫৫ বার পড়া হয়েছে

জুলাই সনদের প্রস্তাবনা উপেক্ষা, ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীও দেয়নি দলগুলো

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নারীরা। রাজপথে বুলেটের সামনে থেকে সব বাধা ভেঙে ছড়িয়ে দিয়েছিল আন্দোলনের বার্তা। সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিল তাদের অবস্থান।

সেই আকাঙ্ক্ষায় জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে আসন ৫০ থেকে ১০০ করার প্রস্তাব ছিল ঐকমত্য কমিশনের। বড় দুই দলসহ বেশিরভাগ দল আসনে বৃদ্ধিতে একমত হলেও সরাসরি নির্বাচনে রাজি হয়নি।

শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রস্তাব করে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলগুলো ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেবে। এতে ইসলামপন্থী দলগুলোর অনীহা থাকলেও দ্বিমত রেখেই শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য হয় দলগুলোয়।

কিন্তু বাস্তবায়নের সময় একটি দলও মানেনি জুলাই সনদ। যাচাইবাছাইয়ে ১ হাজার ৮৪২ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়। এর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৬৫ জন। জামায়াতে ইসলামী একটি আসনেও নারী প্রার্থী দেয়নি। তাদের সমমনাসহ নিবন্ধিত ৩০টি দলের একই অবস্থা। আর বিএনপি ১০ জন নারী প্রার্থী দিলেও তাদের প্রস্তাবিত ৫ শতাংশের কম, ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

NEW21
NEW21

এর বাইরে জাতীয় পার্টি ও বাসদ (মার্কসবাদী) ৯ জন করে প্রার্থী দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণদের গড়া দল এনসিপি দিয়েছে ৩ জনকে।

দলগুলো নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে জুলাই সনদের প্রস্তাব আমলে না নেয়ায় হতাশ ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচন নারীবান্ধব নয়।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেছেন, অতীতে এর চাইতে বেশি নারীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অনেক নারী আছেন, যারা মাঠে থাকে, আন্দোলনে থাকে; কিন্তু তাদেরকে আমরা সংসদে পাই না। আমার দৃষ্টিতে রাজনৈতিক দলগুলো যে জায়গায়টায় ঠিক দুর্বল, যেখানে জিতে আসার সম্ভাবনা কম, সেখানে একটা নারীকে হয়তো মনোনয়ন দিয়ে দেয়।

নির্বাচন বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটা দুঃখজনক এবং কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ভোটারদের এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রশ্ন করা উচিত, তাতে দলগুলো তাদের অঙ্গীকার নিয়ে যত্নবান হবেন।

প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কি আদৌ এগোবে নারী নেতৃত্ব? লড়াইটা যে কঠিন, সেটাই আবারো স্পষ্ট।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার!

জুলাই সনদের প্রস্তাবনা উপেক্ষা, ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীও দেয়নি দলগুলো

আপডেট সময় : ০৪:০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নারীরা। রাজপথে বুলেটের সামনে থেকে সব বাধা ভেঙে ছড়িয়ে দিয়েছিল আন্দোলনের বার্তা। সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিল তাদের অবস্থান।

সেই আকাঙ্ক্ষায় জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে আসন ৫০ থেকে ১০০ করার প্রস্তাব ছিল ঐকমত্য কমিশনের। বড় দুই দলসহ বেশিরভাগ দল আসনে বৃদ্ধিতে একমত হলেও সরাসরি নির্বাচনে রাজি হয়নি।

শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রস্তাব করে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলগুলো ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেবে। এতে ইসলামপন্থী দলগুলোর অনীহা থাকলেও দ্বিমত রেখেই শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য হয় দলগুলোয়।

কিন্তু বাস্তবায়নের সময় একটি দলও মানেনি জুলাই সনদ। যাচাইবাছাইয়ে ১ হাজার ৮৪২ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়। এর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৬৫ জন। জামায়াতে ইসলামী একটি আসনেও নারী প্রার্থী দেয়নি। তাদের সমমনাসহ নিবন্ধিত ৩০টি দলের একই অবস্থা। আর বিএনপি ১০ জন নারী প্রার্থী দিলেও তাদের প্রস্তাবিত ৫ শতাংশের কম, ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

NEW21
NEW21

এর বাইরে জাতীয় পার্টি ও বাসদ (মার্কসবাদী) ৯ জন করে প্রার্থী দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণদের গড়া দল এনসিপি দিয়েছে ৩ জনকে।

দলগুলো নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে জুলাই সনদের প্রস্তাব আমলে না নেয়ায় হতাশ ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচন নারীবান্ধব নয়।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেছেন, অতীতে এর চাইতে বেশি নারীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অনেক নারী আছেন, যারা মাঠে থাকে, আন্দোলনে থাকে; কিন্তু তাদেরকে আমরা সংসদে পাই না। আমার দৃষ্টিতে রাজনৈতিক দলগুলো যে জায়গায়টায় ঠিক দুর্বল, যেখানে জিতে আসার সম্ভাবনা কম, সেখানে একটা নারীকে হয়তো মনোনয়ন দিয়ে দেয়।

নির্বাচন বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটা দুঃখজনক এবং কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ভোটারদের এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রশ্ন করা উচিত, তাতে দলগুলো তাদের অঙ্গীকার নিয়ে যত্নবান হবেন।

প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কি আদৌ এগোবে নারী নেতৃত্ব? লড়াইটা যে কঠিন, সেটাই আবারো স্পষ্ট।