ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পদত্যাগ করলেন আরেক নির্বাচন কমিশনার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্য ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা পদত্যাগ করেছেন। আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে পদত্যাগের বিষয়ে সমকালকে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি সাংবাদিকদের কিছু বলবো না, যা বলার লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’ 

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে পদত্যাগ করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার। জাকসু নির্বাচন চলাকালে আসা অভিযোগের সুরাহা না করে ভোট গণনা চালিয়ে যাওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে অনুষ্ঠিত হয় জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটের আগের দিন রাতে বাম সংগঠন ও ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থীরা ভোট গণনার মেশিন সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের মালিক জামায়াত নেতা- এমন অভিযোগ তোলেন। নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তখন মেশিনের পরিবর্তে  হাতে ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নেয়। ভোটের দিন বিকেল সাড়ে তিনটায় ছাত্রদল নির্বাচন বর্জন করে। পরে সন্ধ্যা সাতটায় বামসমর্থিত আরও চারটি প্যানেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। আটটি প্যানেলের মধ্যে পাঁচটির ৬৮ জন প্রার্থী ভোট বর্জন করলেও বাকি তিন প্যানেলের ১১১ জন প্রার্থী নির্বাচনে নানা অভিযোগের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত ভোটে রয়েছেন।

ছাত্রসংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে ব্যালট বাক্স সিনেট ভবনে নেওয়া হয়। সব প্রস্তুতি শেষে রাত ১০টার পর শুরু হয় গণনা।

বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে নানা অভিযোগ তুলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ ওই ফোরামের আরও দুই শিক্ষক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা ও অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান ভোট বর্জন করেন।

শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশন অফিসে শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুর পর পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ভোট গণনায় ধীরগতির জন্য শিক্ষকরাজনীতি ও গ্রুপিং কাজ করেছে বলে প্রার্থী এবং শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। দিনভর নানা ঘটনার পর বিকেলে প্রায় তিনঘণ্টা ভোট গণনা বন্ধ থাকে। পরে সন্ধ্যা সাতটায় হল সংসদের ভোট গণনা শেষে শুরু হয় কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

লিবিয়ার তদ্রু থেকে সমুদ্রযাত্রা, ৩৮ দিনেও সন্ধান নেই সোহেল রানার

পদত্যাগ করলেন আরেক নির্বাচন কমিশনার

আপডেট সময় : ০৫:০২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্য ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা পদত্যাগ করেছেন। আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে পদত্যাগের বিষয়ে সমকালকে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি সাংবাদিকদের কিছু বলবো না, যা বলার লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’ 

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে পদত্যাগ করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার। জাকসু নির্বাচন চলাকালে আসা অভিযোগের সুরাহা না করে ভোট গণনা চালিয়ে যাওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে অনুষ্ঠিত হয় জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটের আগের দিন রাতে বাম সংগঠন ও ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থীরা ভোট গণনার মেশিন সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের মালিক জামায়াত নেতা- এমন অভিযোগ তোলেন। নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তখন মেশিনের পরিবর্তে  হাতে ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নেয়। ভোটের দিন বিকেল সাড়ে তিনটায় ছাত্রদল নির্বাচন বর্জন করে। পরে সন্ধ্যা সাতটায় বামসমর্থিত আরও চারটি প্যানেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। আটটি প্যানেলের মধ্যে পাঁচটির ৬৮ জন প্রার্থী ভোট বর্জন করলেও বাকি তিন প্যানেলের ১১১ জন প্রার্থী নির্বাচনে নানা অভিযোগের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত ভোটে রয়েছেন।

ছাত্রসংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে ব্যালট বাক্স সিনেট ভবনে নেওয়া হয়। সব প্রস্তুতি শেষে রাত ১০টার পর শুরু হয় গণনা।

বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে নানা অভিযোগ তুলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ ওই ফোরামের আরও দুই শিক্ষক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা ও অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান ভোট বর্জন করেন।

শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশন অফিসে শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুর পর পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ভোট গণনায় ধীরগতির জন্য শিক্ষকরাজনীতি ও গ্রুপিং কাজ করেছে বলে প্রার্থী এবং শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। দিনভর নানা ঘটনার পর বিকেলে প্রায় তিনঘণ্টা ভোট গণনা বন্ধ থাকে। পরে সন্ধ্যা সাতটায় হল সংসদের ভোট গণনা শেষে শুরু হয় কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা।