রূপালি পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে এখন রাজনীতির ময়দানেই বেশি সক্রিয় কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনয়জগতের পরিচিত মুখ হলেও, গত কয়েক বছরে রাজনীতির অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের বরানগর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন এই অভিনেত্রী-রাজনীতিক।
তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জি বরানগর আসনে সায়ন্তিকার ওপরেই আস্থা রেখেছেন। এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ফলে এবারের নির্বাচনে তার অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি।দুটিই বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বরানগরে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির প্রার্থী সজল ঘোষের মধ্যে। পাশাপাশি বামফ্রন্টের হয়ে লড়ছেন সায়নদীপ মিত্র। তবে সব হিসাব-নিকাশ ছাপিয়ে লড়াইটি মূলত তৃণমূল ও বিজেপির দ্বৈরথ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে সায়ন্তিকার বক্তব্যে স্পষ্ট লড়াকু মনোভাব। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বরানগর লড়বে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, বরানগর লড়বে বর্বরতার বিরুদ্ধে, বরানগর লড়বে গণতন্ত্রের পক্ষে। আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। বরানগরকে বিজেপিমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর মানুষ।’

নিজের বক্তব্যে বিজেপির বিভিন্ন সময়ের বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। বাংলার মনীষীদের নাম বিকৃতভাবে উচ্চারণ বা অসম্মান করার অভিযোগ এনে দলটির সমালোচনা করেন সায়ন্তিকা।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী সজল ঘোষকে নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। তার ভাষায়, ‘উনি কী বলছেন, তাতে আমাদের কারও মাথাব্যথা নেই। সময়ই সব বলবে।’
তবে তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার বক্তব্যের প্রশংসা করলেও, কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আরও স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। আবার কেউ মনে করছেন, তিনি মূল আলোচনার বিষয় থেকে সরে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও পরিচিত মুখ। ২০২৩ সালে ঢাকায় এসে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের সঙ্গে একটি সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেন। কক্সবাজারে তাদের রোমান্স তখন বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
প্রতিনিধির নাম 


















