ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে হাজার বিঘা পাকা ধানক্ষেত ব্রিটিশদের ভূমিকা না থাকলে আমেরিকায় ফরাসি ভাষাই হতো প্রধান, ট্রাম্পকে রাজার কটাক্ষ পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সময়েও কাজের চাপে ব্যস্ত দীপিকা, নেই দম নেওয়ার সুযোগ অন্য দেশকে নির্দেশ দেওয়ার অবস্থায় আর নেই যুক্তরাষ্ট্র: ইরান ঈশাণকোনে রাজনৈতিক অস্থিরতার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে: সাইফুল হক

বিয়ের কথা স্বীকার করেই সিনেমায় পা, পরে হয়ে ওঠেন মহানায়িকা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩১ বার পড়া হয়েছে

বিয়ের কথা স্বীকার করেই সিনেমায় পা, পরে হয়ে ওঠেন মহানায়িকা

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘নায়িকা’ শব্দটির সঙ্গে যার নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, তিনি সুচিত্রা সেন। রূপ, অভিনয় আর রহস্যময় ব্যক্তিত্বে যিনি হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির চিরকালের মহানায়িকা। আজ এই নায়িকার দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী।

দিনটি উপলক্ষে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, পাবনা তাঁর পৈতৃক বাড়িতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

NEW21
NEW21

পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা জানান, সুচিত্রা সেনের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে নানা আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর পৈতৃক বাড়ি নিয়ে সরকারের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে বাড়িটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর স্মৃতিকে চিরজাগরুক রাখার চেষ্টা চলছে।

চলচ্চিত্রে সুচিত্রা সেনের প্রথম কাজ ‘শেষ কোথায়’ (১৯৫২)। তবে অজানা কারণে ছবিটি মুক্তি পায়নি। এরপর ১৯৫৩ সালে মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকমনে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি।

১৯৭৮ সালের পর অভিনয় জীবন থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন সুচিত্রা সেন। ‘প্রণয়পাশা’ ছবিতে অভিনয়ের পর হঠাৎ করেই তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। দীর্ঘ সময় অন্তরালে থেকেও তাঁর জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি।

বাংলা চলচ্চিত্রের গৌরবময় ইতিহাস বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীর আগমনে সমৃদ্ধ হলেও, সেই ভিড়ের মধ্যেই সুচিত্রা সেন ছিলেন একেবারেই স্বতন্ত্র। মায়াভরা মুখ, নির্মল হাসি আর সংযত অভিনয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে রোমান্টিক ধারার সূচনা করেছিলেন তিনি।

অভিনয় জগতে আসার আগেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল– সে কথা অকপটে স্বীকার করেই তিনি চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েছিলেন, যা বর্তমান সময়ে কল্পনাতীত।

১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল তৎকালীন বৃহত্তর পাবনার সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সেনভাঙাবাড়ি গ্রামে, নানা রজনীকান্ত সেনের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা। তাঁর দাদার বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায়। ফলে শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় সময় কেটেছে পাবনার গোপালপুর মহল্লার হিমসাগর লেনের একতলা পাকাবাড়িতে।

শুধু বাংলা চলচ্চিত্রেই নয়, হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এই কিংবদন্তি। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুচিত্রা। তবে পর্দার আড়ালে চলে গেলেও স্মৃতিতে, ভালোবাসায় আর বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি রয়ে গেছেন অমর।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে

বিয়ের কথা স্বীকার করেই সিনেমায় পা, পরে হয়ে ওঠেন মহানায়িকা

আপডেট সময় : ০১:১১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘নায়িকা’ শব্দটির সঙ্গে যার নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, তিনি সুচিত্রা সেন। রূপ, অভিনয় আর রহস্যময় ব্যক্তিত্বে যিনি হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির চিরকালের মহানায়িকা। আজ এই নায়িকার দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী।

দিনটি উপলক্ষে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, পাবনা তাঁর পৈতৃক বাড়িতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

NEW21
NEW21

পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা জানান, সুচিত্রা সেনের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে নানা আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর পৈতৃক বাড়ি নিয়ে সরকারের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে বাড়িটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর স্মৃতিকে চিরজাগরুক রাখার চেষ্টা চলছে।

চলচ্চিত্রে সুচিত্রা সেনের প্রথম কাজ ‘শেষ কোথায়’ (১৯৫২)। তবে অজানা কারণে ছবিটি মুক্তি পায়নি। এরপর ১৯৫৩ সালে মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকমনে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি।

১৯৭৮ সালের পর অভিনয় জীবন থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন সুচিত্রা সেন। ‘প্রণয়পাশা’ ছবিতে অভিনয়ের পর হঠাৎ করেই তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। দীর্ঘ সময় অন্তরালে থেকেও তাঁর জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি।

বাংলা চলচ্চিত্রের গৌরবময় ইতিহাস বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীর আগমনে সমৃদ্ধ হলেও, সেই ভিড়ের মধ্যেই সুচিত্রা সেন ছিলেন একেবারেই স্বতন্ত্র। মায়াভরা মুখ, নির্মল হাসি আর সংযত অভিনয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে রোমান্টিক ধারার সূচনা করেছিলেন তিনি।

অভিনয় জগতে আসার আগেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল– সে কথা অকপটে স্বীকার করেই তিনি চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েছিলেন, যা বর্তমান সময়ে কল্পনাতীত।

১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল তৎকালীন বৃহত্তর পাবনার সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সেনভাঙাবাড়ি গ্রামে, নানা রজনীকান্ত সেনের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা। তাঁর দাদার বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায়। ফলে শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় সময় কেটেছে পাবনার গোপালপুর মহল্লার হিমসাগর লেনের একতলা পাকাবাড়িতে।

শুধু বাংলা চলচ্চিত্রেই নয়, হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এই কিংবদন্তি। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুচিত্রা। তবে পর্দার আড়ালে চলে গেলেও স্মৃতিতে, ভালোবাসায় আর বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি রয়ে গেছেন অমর।