ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে হাজার বিঘা পাকা ধানক্ষেত ব্রিটিশদের ভূমিকা না থাকলে আমেরিকায় ফরাসি ভাষাই হতো প্রধান, ট্রাম্পকে রাজার কটাক্ষ পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সময়েও কাজের চাপে ব্যস্ত দীপিকা, নেই দম নেওয়ার সুযোগ অন্য দেশকে নির্দেশ দেওয়ার অবস্থায় আর নেই যুক্তরাষ্ট্র: ইরান ঈশাণকোনে রাজনৈতিক অস্থিরতার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে: সাইফুল হক

শেখ মোরসালিন—নামটি মনে গেঁথে নিন!

  • NEWS21 Staff Musabbir
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৩৯ বার পড়া হয়েছে

শেখ মোরসালিন—নামটি মনে গেঁথে নিন!

সময়টা ২০০৩ সাল। দেশের মাটিতে সাফ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল। বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ অস্ট্রিয়ান জর্জ কোটান। জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি সেদিন ফেটে পড়ছিল ‘মুন্না! মুন্না!’ স্লোগানে। কারণ, ভারতের বিপক্ষে ২৫ গজ দূর থেকে তার করা বাঁ পায়ের বুলেট গতির শট লক্ষ্যভেদ করে ভারতের জালে। তারপর শেষ বাঁশি! তখনকার নিয়মে ‘গোল্ডেন গোল’। ম্যাচ জয়ের হাসি বাংলাদেশের মুখে। সেবার ট্রফিও ওঠে কোটানের শিষ্যদের হাতে।

এরপর কেটে গেছে বাইশ বছর। মাঝের ১০ ম্যাচে ৬টি ড্র, ৪টি পরাজয়। ভারতকে হারাতে পারছিল না বাংলাদেশ। জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল জয় না পাবার গ্লানি। দর্শক-সমর্থকদের মনে তবু আশাবাদ। অবশেষে নিজ মাটিতেই এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, হলো প্রতীক্ষার অবসান। ১৮ নভেম্বর রাতে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ফিরতি ম্যাচে ভারতকে ১-০ গোলে হারালো বাংলাদেশ। আর দেশের ফুটবলপ্রেমীরা পেলো উল্লাসে ফেটে পড়ার মতো এক রজনী।

‘সবেধন নীলমণি’ গোলটি শেখ মোরসালিনের। ম্যাচের ১১ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে বাম প্রান্ত থেকে রাকিবের দুরন্ত দৌড়। তার বাড়ানো আড়াআড়ি পাসে নিখুঁত প্লেসিংয়ে লক্ষ্যভেদ করে লাখো সমর্থককে উল্লাসে ভাসান মোরসালিন। বাঁধাই করে রাখার মতো এক গোল। শেষ পর্যন্ত ভারতকে হারিয়েই মাঠ ছাড়েন হামজা-শমিত সোমরা। এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই নিশ্চিত হয়নি বাংলাদেশের, তবে জয়টি এসেছে জগদ্দল পাথরটিকে সরিয়ে দিতে। আর এর অন্যতম কারিগর শেখ মোরসালিন।

ম্যাচ শেষে মোরসালিন ও হামযা চৌধুরী
ম্যাচ শেষে মোরসালিন ও হামযা চৌধুরী

সাত নম্বর জার্সি পরে খেলেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আইডল মানেন। তার মতো করেই গোল করার পর মাঠের এক কোণে গিয়ে লাফিয়ে ‘সিইউ’ উদযাপন করেন। হয়তো মনেপ্রাণে ‘সিআরসেভেন’ হতে চান কিন্তু সমর্থকদের কাছে শেখ মোরসালিন এখন ‘এসএমসেভেন’। শেখের ‘এস’, মোরসালিনের ‘এম’ আর জার্সি নম্বর ‘সেভেন’।

কৈশোরের সারল্য অঙ্কিত এখনও তার চোখে-মুখে। তবু জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচের পর ম্যাচ যেভাবে গোল করে চলেছেন, দেখে বিস্ময় লাগে। কিছুদিন আগে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও ৮৪ মিনিটে গোল করেছিলেন মোরসালিন। তার গোলটিই ছিল অবিশ্বাস্যভাবে ৩-৩ গোলে সমতায় ফেরার প্রথম সোপান। যদিও ভজঘট রক্ষণের কারণে ম্যাচটি হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।

২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লেবাননের বিপক্ষে ডি-বক্সের বাইরে থেকে করা মোরসালিনের গোলটির কথা মনে আছে? পিছিয়ে পড়েও ম্যাচটি বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করে। গোলকিপার মেহেদি শ্রাবণের করা হাস্যকর এক ভুলে গোল হজম করার পর বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান এসএমসেভেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশি ফুটবলারদের এমন দূরপাল্লার গোল যেন ডুমুরের ফুল। গতি, পর্যবেক্ষণ, শট অ্যাকুরেসি সব ক্যাটাগরিতেই মোরসালিনের গোলটি ছিল অনন্য সাধারণ।

সে বছরেই জাতীয় দলে অভিষেক মোরসালিনের। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে তার প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। সে আসরে ভুটানের বিপক্ষে গোলটিও ছিল ডি-বক্সের বাইরে থেকে করা শটে। রাকিবের করা অন্য গোলটাতেও তার অবদান ছিল। মোরসালিন জাদুতেই দীর্ঘ ১৪ বছর পর সাফ ফুটবলের সেমিতে খেলেছিল বাংলাদেশ।

ঘরোয়া ফুটবলেও মোরসালিন উপহার দেন চোখধাঁধানো সব গোল। তার বুলেট গতির শটগুলো দেখলে প্রশ্ন জাগে, ডান পায়ে এতো শক্তির উৎস কোথা থেকে আসে? ডি-বক্সের সামনের জায়গাটা এই মিডফিল্ডারের হয়তো বেশ পছন্দের। গোল করে বাধভাঙ্গা উল্লাসে মিশে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তার। সমর্থকও ‘মোরসালিন, মোরসালিন’ রব তোলে গ্যালারিজুড়ে। তার সামনে হয়তো তখন অদৃশ্য গ্যালারি ফেন্স। তার সামনে হয়তো তখন বিশ্বকাপের মঞ্চ!

মিডফিল্ডার হয়েও গোল স্কোরিং এ্যাবিলিটি দারুণ। ড্রিবলিং, পাসিং, শুটিং, ফিনিশিং, ট্যাকলিং, গেম এওয়ারনেসে মুগ্ধতা ছড়ালেও বল কন্ট্রোলিংয়ে দুর্বলতা আছে মোরসালিনের। দৌড়ের গতিও বাড়াতে হবে। এসব নিয়ে কাজ করতে পারলে ১৯ বছর বয়সীর পক্ষে আরও অসাধারণ কিছু অর্জন সম্ভব।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশে পক্ষে সর্বোচ্চ গোল আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নুর (১৭ গোল)। শেখ মো. আসলাম দেশের হয়ে আরও বেশি গোল করলেও স্বীকৃত ম্যাচে কম। দেশের হয়ে ৭ গোল করা মোরসালিন একদা বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে চান।

NEW21
NEW21

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংলিশদের বিপক্ষে শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ১৯ রান। সেই ভীষণ কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে ফেলেন এক দীর্ঘদেহী ব্যাটার, স্টোকসের চার বলে চার ছক্কা হাঁকিয়ে। কমেন্ট্রি বক্সে থাকা ইয়ান বিশপ উত্তরসূরীর ক্যালিপসো কীর্তি দেখে অবিশ্বাস্য স্বরে উচ্চারণ করেছিলেন– ‘কার্লোস ব্র্যাথওয়েট! রিমেম্বার দ্য নেম..’

পরবর্তীতে ব্র্যাথওয়েট নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে না পারলেও মোরসালিনের পক্ষে সেটা সম্ভব। কারণ, তার এখন বয়স উনিশ। পড়ে আছে অঢেল সময়। খেলাটার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ ও নিবেদনের ছাতা মেলে ধরতে পারলে তরুণ এই মিডফিল্ডারের পক্ষে মিছিল জয় করা সম্ভব। সম্ভব হয়তো যুদ্ধ জয়ও।

আমরা তাই বিশপের সাথে সুর মিলিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করছি– ‘শেখ মোরসালিন, রিমেম্বার দ্য নেম!’

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে

শেখ মোরসালিন—নামটি মনে গেঁথে নিন!

আপডেট সময় : ০৭:০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

সময়টা ২০০৩ সাল। দেশের মাটিতে সাফ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল। বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ অস্ট্রিয়ান জর্জ কোটান। জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি সেদিন ফেটে পড়ছিল ‘মুন্না! মুন্না!’ স্লোগানে। কারণ, ভারতের বিপক্ষে ২৫ গজ দূর থেকে তার করা বাঁ পায়ের বুলেট গতির শট লক্ষ্যভেদ করে ভারতের জালে। তারপর শেষ বাঁশি! তখনকার নিয়মে ‘গোল্ডেন গোল’। ম্যাচ জয়ের হাসি বাংলাদেশের মুখে। সেবার ট্রফিও ওঠে কোটানের শিষ্যদের হাতে।

এরপর কেটে গেছে বাইশ বছর। মাঝের ১০ ম্যাচে ৬টি ড্র, ৪টি পরাজয়। ভারতকে হারাতে পারছিল না বাংলাদেশ। জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল জয় না পাবার গ্লানি। দর্শক-সমর্থকদের মনে তবু আশাবাদ। অবশেষে নিজ মাটিতেই এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, হলো প্রতীক্ষার অবসান। ১৮ নভেম্বর রাতে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ফিরতি ম্যাচে ভারতকে ১-০ গোলে হারালো বাংলাদেশ। আর দেশের ফুটবলপ্রেমীরা পেলো উল্লাসে ফেটে পড়ার মতো এক রজনী।

‘সবেধন নীলমণি’ গোলটি শেখ মোরসালিনের। ম্যাচের ১১ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে বাম প্রান্ত থেকে রাকিবের দুরন্ত দৌড়। তার বাড়ানো আড়াআড়ি পাসে নিখুঁত প্লেসিংয়ে লক্ষ্যভেদ করে লাখো সমর্থককে উল্লাসে ভাসান মোরসালিন। বাঁধাই করে রাখার মতো এক গোল। শেষ পর্যন্ত ভারতকে হারিয়েই মাঠ ছাড়েন হামজা-শমিত সোমরা। এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই নিশ্চিত হয়নি বাংলাদেশের, তবে জয়টি এসেছে জগদ্দল পাথরটিকে সরিয়ে দিতে। আর এর অন্যতম কারিগর শেখ মোরসালিন।

ম্যাচ শেষে মোরসালিন ও হামযা চৌধুরী
ম্যাচ শেষে মোরসালিন ও হামযা চৌধুরী

সাত নম্বর জার্সি পরে খেলেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আইডল মানেন। তার মতো করেই গোল করার পর মাঠের এক কোণে গিয়ে লাফিয়ে ‘সিইউ’ উদযাপন করেন। হয়তো মনেপ্রাণে ‘সিআরসেভেন’ হতে চান কিন্তু সমর্থকদের কাছে শেখ মোরসালিন এখন ‘এসএমসেভেন’। শেখের ‘এস’, মোরসালিনের ‘এম’ আর জার্সি নম্বর ‘সেভেন’।

কৈশোরের সারল্য অঙ্কিত এখনও তার চোখে-মুখে। তবু জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচের পর ম্যাচ যেভাবে গোল করে চলেছেন, দেখে বিস্ময় লাগে। কিছুদিন আগে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও ৮৪ মিনিটে গোল করেছিলেন মোরসালিন। তার গোলটিই ছিল অবিশ্বাস্যভাবে ৩-৩ গোলে সমতায় ফেরার প্রথম সোপান। যদিও ভজঘট রক্ষণের কারণে ম্যাচটি হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।

২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লেবাননের বিপক্ষে ডি-বক্সের বাইরে থেকে করা মোরসালিনের গোলটির কথা মনে আছে? পিছিয়ে পড়েও ম্যাচটি বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করে। গোলকিপার মেহেদি শ্রাবণের করা হাস্যকর এক ভুলে গোল হজম করার পর বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান এসএমসেভেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশি ফুটবলারদের এমন দূরপাল্লার গোল যেন ডুমুরের ফুল। গতি, পর্যবেক্ষণ, শট অ্যাকুরেসি সব ক্যাটাগরিতেই মোরসালিনের গোলটি ছিল অনন্য সাধারণ।

সে বছরেই জাতীয় দলে অভিষেক মোরসালিনের। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে তার প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। সে আসরে ভুটানের বিপক্ষে গোলটিও ছিল ডি-বক্সের বাইরে থেকে করা শটে। রাকিবের করা অন্য গোলটাতেও তার অবদান ছিল। মোরসালিন জাদুতেই দীর্ঘ ১৪ বছর পর সাফ ফুটবলের সেমিতে খেলেছিল বাংলাদেশ।

ঘরোয়া ফুটবলেও মোরসালিন উপহার দেন চোখধাঁধানো সব গোল। তার বুলেট গতির শটগুলো দেখলে প্রশ্ন জাগে, ডান পায়ে এতো শক্তির উৎস কোথা থেকে আসে? ডি-বক্সের সামনের জায়গাটা এই মিডফিল্ডারের হয়তো বেশ পছন্দের। গোল করে বাধভাঙ্গা উল্লাসে মিশে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তার। সমর্থকও ‘মোরসালিন, মোরসালিন’ রব তোলে গ্যালারিজুড়ে। তার সামনে হয়তো তখন অদৃশ্য গ্যালারি ফেন্স। তার সামনে হয়তো তখন বিশ্বকাপের মঞ্চ!

মিডফিল্ডার হয়েও গোল স্কোরিং এ্যাবিলিটি দারুণ। ড্রিবলিং, পাসিং, শুটিং, ফিনিশিং, ট্যাকলিং, গেম এওয়ারনেসে মুগ্ধতা ছড়ালেও বল কন্ট্রোলিংয়ে দুর্বলতা আছে মোরসালিনের। দৌড়ের গতিও বাড়াতে হবে। এসব নিয়ে কাজ করতে পারলে ১৯ বছর বয়সীর পক্ষে আরও অসাধারণ কিছু অর্জন সম্ভব।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশে পক্ষে সর্বোচ্চ গোল আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নুর (১৭ গোল)। শেখ মো. আসলাম দেশের হয়ে আরও বেশি গোল করলেও স্বীকৃত ম্যাচে কম। দেশের হয়ে ৭ গোল করা মোরসালিন একদা বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে চান।

NEW21
NEW21

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংলিশদের বিপক্ষে শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ১৯ রান। সেই ভীষণ কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে ফেলেন এক দীর্ঘদেহী ব্যাটার, স্টোকসের চার বলে চার ছক্কা হাঁকিয়ে। কমেন্ট্রি বক্সে থাকা ইয়ান বিশপ উত্তরসূরীর ক্যালিপসো কীর্তি দেখে অবিশ্বাস্য স্বরে উচ্চারণ করেছিলেন– ‘কার্লোস ব্র্যাথওয়েট! রিমেম্বার দ্য নেম..’

পরবর্তীতে ব্র্যাথওয়েট নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে না পারলেও মোরসালিনের পক্ষে সেটা সম্ভব। কারণ, তার এখন বয়স উনিশ। পড়ে আছে অঢেল সময়। খেলাটার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ ও নিবেদনের ছাতা মেলে ধরতে পারলে তরুণ এই মিডফিল্ডারের পক্ষে মিছিল জয় করা সম্ভব। সম্ভব হয়তো যুদ্ধ জয়ও।

আমরা তাই বিশপের সাথে সুর মিলিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করছি– ‘শেখ মোরসালিন, রিমেম্বার দ্য নেম!’