ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার! সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক জাকির হোসেন বাদশা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণে বিএনপির টানা ৮ দিনের কর্মসূচি ৭ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি এল ক্ল্যাসিকোতে উৎসবের মেজাজে বার্সা নিয়ামতপুরে উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক সহায়তায় ব্যস্ত দিন বন্য হাতির তাণ্ডবে রামুতে নিহত মা-মেয়ে পর্নোগ্রাফি মামলায় রাজ-এর আহ্বান, দোষী হলে শাস্তি, নইলে মুক্তি চান চীনের বড় সাফল্য, মিলেছে ২০০টির বেশি নতুন তেল-গ্যাস ক্ষেত্র হাওরে ভয়াবহ ক্ষতি, পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান

হাদি হত্যা মামলার আসামি ভারতে গ্রেপ্তার, আনা হচ্ছে ঢাকায়

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

হাদি হত্যা মামলার আসামি ভারতে গ্রেপ্তার, আনা হচ্ছে ঢাকায়

রাজধানীর পুরানা পল্টনে গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সন্দেহভাজন শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলকে ভারতে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। তাঁর সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের আরেক অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল রাতে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ভারতের কর্তৃপক্ষ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকায় শনিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনই অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।

এসটিএফের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে, দুজন মিলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করার পর শেষ পর্যন্ত বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় এসে আবার সুযোগ পেলে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে ভারতের আইন অনুযায়ী একটি মামলা করা হয়েছে। রোববার স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে এসটিএফ কর্মকর্তারা তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী সম্প্রতি ভারত সফরকালে হাদি হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। সেই প্রেক্ষাপটেই গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযানে নামে এবং দুই আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম গতকাল রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই বলেছিলাম– তারা ভারতে গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর ভারতের মেঘালয় রাজ্যে পালিয়ে যান। তাদের সহযোগিতার অভিযোগে মেঘালয় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও তিনি তখন জানান।

NEWS21
NEWS21

তবে ওই সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও মেঘালয় পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করেছিল। একই সময় ফয়সাল করিম মাসুদ সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও বার্তা দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ছবিও দেখান। শেষ পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাঁর গ্রেপ্তারের তথ্য সামনে এলো।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী গণসংযোগ করছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন হাদি। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাদির মৃত্যুর পর দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী) হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে তাদের ধারণা।

পুলিশের দাবি, তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী ফয়সাল করিম মাসুদ গুলি চালান এবং তাঁকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর ছাড়াও তাইজুল ইসলাম ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চব্বিশের আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করার আলোচনা চলছিল। এই সময়ের মধ্যেই আলোচিত হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে ভারতে গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে এলো, যা দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার নতুন দিক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ছিল। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ঠিক করেন।‎ সেদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করে বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সেগুনবাগিচায় শিশুদের বৈশাখী উৎসব; কৃতি শিক্ষার্থী ও সফল মায়েদের হাতে উঠল পুরস্কার!

হাদি হত্যা মামলার আসামি ভারতে গ্রেপ্তার, আনা হচ্ছে ঢাকায়

আপডেট সময় : ০৪:১৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর পুরানা পল্টনে গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সন্দেহভাজন শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলকে ভারতে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। তাঁর সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের আরেক অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল রাতে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ভারতের কর্তৃপক্ষ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকায় শনিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনই অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।

এসটিএফের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে, দুজন মিলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করার পর শেষ পর্যন্ত বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় এসে আবার সুযোগ পেলে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে ভারতের আইন অনুযায়ী একটি মামলা করা হয়েছে। রোববার স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে এসটিএফ কর্মকর্তারা তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী সম্প্রতি ভারত সফরকালে হাদি হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। সেই প্রেক্ষাপটেই গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযানে নামে এবং দুই আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম গতকাল রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই বলেছিলাম– তারা ভারতে গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর ভারতের মেঘালয় রাজ্যে পালিয়ে যান। তাদের সহযোগিতার অভিযোগে মেঘালয় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও তিনি তখন জানান।

NEWS21
NEWS21

তবে ওই সময় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও মেঘালয় পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করেছিল। একই সময় ফয়সাল করিম মাসুদ সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও বার্তা দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ছবিও দেখান। শেষ পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাঁর গ্রেপ্তারের তথ্য সামনে এলো।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী গণসংযোগ করছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন হাদি। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাদির মৃত্যুর পর দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী) হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে তাদের ধারণা।

পুলিশের দাবি, তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী ফয়সাল করিম মাসুদ গুলি চালান এবং তাঁকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর ছাড়াও তাইজুল ইসলাম ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চব্বিশের আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করার আলোচনা চলছিল। এই সময়ের মধ্যেই আলোচিত হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে ভারতে গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে এলো, যা দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার নতুন দিক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ছিল। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ঠিক করেন।‎ সেদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করে বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়।